>> কুমিল্লা বিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে রংপুর রাইডার্স বিপিএল ফাইনালে >> হবিগঞ্জে ৫ জেএমবি সদস্য আটক

সিরিয়াকে টকুরো টুকরো করার অনুমতি দেবেন না এরদোগান

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Erdogan 5তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান তার ভাষায় ‘সিরিয়াকে টুকরো টুকরো করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমাজের উদাসীনতা’র তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্যই তুর্কি প্রেসিডেন্ট এই মন্তব্য করেছেন।

মার্কিন সরকার সিরিয়ার একটি কুর্দি দলের সশস্ত্র ইউনিটগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে বলে ক্ষুব্ধ তুরস্ক। এই সশস্ত্র ইউনিটগুলো সিরিয়ার কোনো কোনো অঞ্চলে তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো, বিশেষ করে দায়েশ বা আইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। আর এই কুর্দিদেরকে স্বায়ত্তশাসন বা স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়ে সহায়তা দিচ্ছে মার্কিন সরকার। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান এ বিষয়ে সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন ও কুর্দি এই দলের প্রতি মার্কিন সহায়তা বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেছেন, সিরিয়াকে কোনো দেশের অনুকূলেই ভাগ করার অনুমতি দেবে না তুরস্ক।

প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে তুর্কি সংবিধান সংশোধনের প্রশ্নে তুরস্কের সাম্প্রতিক গণভোটের পর এটাই ছিল আন্তর্জাতিক কোনো ইস্যুতে তুর্কি প্রেসিডেন্টের প্রথম বক্তব্য। সাম্প্রতিক ওই গণভোটে খুব সামান্য ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন এরদোগান। তিনি ঘরোয়া ক্ষেত্রে পাওয়া সাম্প্রতিক এই ন্যুনতম বৈধতাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন বলে কোনো কোনো বিশ্লেষক মনে করছেন।

এরদোগান দাবি করেছেন, সিরিয়ার এক বিঘৎ জমিও পেতে চায় না তুরস্ক, বরং দায়েশকে নির্মূলের সংগ্রাম করছে আঙ্কারা। তিনি সিরিয়ার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশটি নিকট ভবিষ্যতে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হবে না।

কিন্তু এর আগে কেনো তুর্কি সরকার সিরিয়ায় কথিত বিমান-উড্ডয়ন-মুক্ত ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গঠনের দাবি তুলেছিল কিংবা কেনো তুরস্ক সিরিয়ার ভেতরে সেনা পাঠিয়েছে- এসবের ব্যাখ্যা দেয়ার দরকার মনে করেননি এরদোগান।

এই কিছু দিন আগেও তুর্কি সরকার বাসার আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার দাবিতে অবিচল ছিল এবং দামেস্ক সরকারকে দুর্বল করার জন্য সব ধরনের কথা বলেছে আঙ্কারা। অন্য কথায় পশ্চিমা জোটের লেজুড় হয়ে থাকা এ অঞ্চলের অন্য অনেক সরকারের সঙ্গে একজোট হয়ে তুর্কি সরকারও সিরিয়ার আসাদ সরকারের পতন চেয়েছে এবং দেশটিকে ভেঙ্গে কয়েক টুকরো করতে চেয়েছে।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্য বহু আগ থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে টুকরো টুকরো করার ষড়যন্ত্র নিয়ে কাজ করছিল। কথিত ‘বৃহৎ ও নতুন মধ্যপ্রাচ্য পরিকল্পনা’র আওতায় তারা সিরিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের নানা অঞ্চলে এ জন্যই কৃত্রিম কিছু সংকট তৈরি করেছে। কিন্তু তুরস্কের বর্তমান সরকার এইসব পশ্চিমা ষড়যন্ত্রের সহযোগী হওয়ার সময় এটা ভাবেননি যে তাদের মহা-ষড়যন্ত্রের ভেতরে তুরস্ককেও টুকরো টুকরো করার কর্মসূচি রয়েছে। এরদোগান সরকার হয়তো এটা ভেবেছিল যে সিরিয়াকে টুকরো করার ষড়যন্ত্রে পশ্চিমাদের সহযোগিতা করায় তারা তুরস্ককে ভাগ করার ষড়যন্ত্র শিকেয় তুলে রাখবে! কিন্তু এ অঞ্চলের পরিস্থিতি এখন এমনই রূপ নিয়েছে যে তুর্কি সরকারই এখন এইসব রাজনৈতিক খেলা বা ষড়যন্ত্রের পরিণতি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। আর এ জন্যই এখন এরদোগান সিরিয়া ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের কথা প্রকাশ করতে বাধ্য হচ্ছেন।

মার্কিন সরকার সিরিয়ার কুর্দিদের সহায়তা দেয়ায় এরদোগান এই পদক্ষেপকে আশপাশের সব দেশের কুর্দিদের প্রতি মার্কিন সহায়তা হিসেবে ধরে নিচ্ছেন। মার্কিন এই সহায়তার ফলে সিরিয়ার কুর্দিরা শক্তিশালী ও ক্ষমতাধর হবে বলে আতঙ্কিত তুর্কি সরকার। আর এ বিষয়টি তুরস্কের ভৌগলিক অখণ্ডতার জন্যেও হুমকি হয়ে উঠবে বলে আঙ্কারা চিন্তিত। তাই তুর্কি-সিরিয় সীমান্তের কাছে সিরিয়ার ভেতরে নিরাপদ অঞ্চল ও বাফার জোন গঠন বলতে মার্কিন ও তুর্কি ব্যাখ্যা অবশ্যই এক নয়।

আসলে এটা স্পষ্ট যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুরস্কের মধ্যপ্রাচ্য নীতি দেশটিকে স্বল্প-মেয়াদে কিছু ফায়দা লুটের সুযোগ দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে তা দেশটির জাতীয় স্বার্থের জন্য ক্ষতি বয়ে এনেছে।

এক সময় এরদোগান সরকার বলেছিলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে মতভেদ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনবে আঙ্কারা। সিরিয়া ও আসাদ সরকারের ব্যাপারে তুর্কি সরকারের সাম্প্রতিক ঘোষণাগুলো হয়তো আঙ্কারার সেই পুরনো নীতিতেই ফিরে যাওয়ার চেষ্টা মাত্র। তাই তুরস্ক এখন আর সিরিয়ার ব্যাপারে রুশ অবস্থানের সমালোচনা করছে না আগের মত। বরং ইদানীং মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়ে পাশ্চাত্যের নীতিরই সমালোচনা করছে এরদোগান সরকার! তুর্কি সরকারের এই আকস্মিক নীতি বদল ও নরম সুরেরই প্রকাশ ঘটছে তুর্কি সরকারি নেতাদের পরস্পর-বিরোধী নানা বক্তব্যে। ভালোভাবে না বুঝেই মধ্যপ্রাচ্যে পশ্চিমাদের পেতে রাখা ফাঁদে পা দিয়ে ও পশ্চিমাদের হঠকারী রাজনৈতিক খেলায় সহযোগীর ভূমিকা রেখে তুর্কি সরকারকে এখন প্রায়ই নানামুখী বা স্ব-বিরোধী বক্তব্য রাখতে হচ্ছে। আর দীর্ঘ মেয়াদের আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক কৌশলগত বিষয়ে তুর্কি পররাষ্ট্রনীতির সেইসব দুর্বল ভূমিকার কারণেই হয়তো এরদোগান সরকার সাম্প্রতিক গণভোটে খুব ন্যুনতম ব্যবধানে জয়ী হয়েছে। তাই এরদোগান সরকারের পর্যায়ক্রমিক নীতি পরিবর্তনের ধারা সামনের দিনগুলোতেও হয়তো অব্যাহত থাকবে।

-পারসটুডের নিবন্ধ

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ২১.০৪.২০১৭


Comments are closed.