>> দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে >> মার্কিন বিমান হামলায় সিরিয়ায় আবার ২৮ বেসামরিক নাগরিক নিহত >> ঈদের পরদিন ইয়েমেনে আবার সৌদি বিমান হামলায় নিহত ১০ >> খাগড়াছড়িতে বাস উল্টে মা ও শিশুসহ নিহত ৩ আহত ১৩ >> গোপালগঞ্জে পিক-আপ উল্টে নিহত ১ আহত ৮

হঠাৎ অদৃশ্য হওয়া সাবমেরিনের সন্ধান নাই চরম উদ্বেগে আমেরিকা

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

US ASW Planes and Halicopters-horzচার-পাঁচদিন আগে আমেরিকার ক্যালিফোর্ণিয়া উপকূলে কয়েকটি অজ্ঞাত সাবমেরিনের উপস্থিতি ধরা পড়ে প্রতিরক্ষা বিভাগের রাডারে। কিন্তু সাবমেরিনগুলো কোন দেশের তা চিহ্নিত করার আগেই হঠাৎ করে সেগুলো রাডারের পর্দা থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। সাথে সাথে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সজ্জিত কয়েক ডজন পর্যবেক্ষণ ও সাবমেরিন বিরোধী যুদ্ধ বিমান ও হেলিকপ্টার আকাশে উড়ানো হয় ঐ সাবমেরিনগুলোকে খুঁজে বের কারার জন্য।

এদিকে স্থানীয় অধিবাসীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, কারণ তারা জানে যে, এসব বিমান ও হেলিকপ্টার তখনই আকাশে উড়ানো হয় যখন কোন শত্রু জাহাজ বা সাবমেরিন মার্কিন উপকূলে হাজির হয়ে হুমকি সৃষ্টি করে। যে সমস্ত বিমান ও হেলিকপ্টার অদৃশ্য হয়ে যাওয়া সাবমেরিনের খোঁজে নিয়োজিত করা হয় তার মধ্যে ছিল সাবমেরিন বিরোধী পর্যবেক্ষণ ও যুদ্ধ বিমান বোয়িং পি-৮ পসেডন (Boeing P-8 Poseidon), নৌবাহিনীর ইপি-৩ই এরিস ২ (Navy EP-3E Aries II), নৌবাহিনীর পি-৩সি ওরিয়ন (Navy P-3C Orion) এবং বেল হেলিকপ্টার।

কিন্তু, পাঁচ দিনের মধ্যেও কোন সাবমেরিনের অস্তিত্ব খুঁজে পায় নি আমেরিকা। এমন কি, সেগুলো যদি পালিয়ে গিয়ে থাকে, তাহেলে কোন পথে, কোন দিকে পালিয়ে গেল, তারও হদিস করতে পারে নি। এ ঘটনায় মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্বেগ যতই চরমে উঠেছে, ঘুমও ততই হারাম হয়ে যাচ্ছে।

তবে, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এগুলো রাশিয়া বা উত্তর কোরিয়ার সাবমেরিন। অবশ্য বেশীরভাগ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এগুলো উত্তর কোরিয়ার। তাদের মতে, আমেরিকার সাথে সমাপ্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি ও যুদ্ধ সম্ভাবনা সৃষ্টির প্রেক্ষিতে দেশটি এসব সাবমেরিন পাঠিয়েছে মার্কিন রাডারের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য। অন্য কথায়, উত্তর কোরিয়ার সাবমেরিন মার্কিন রাডার ফাঁকি দিতে কতটা সক্ষম তা পরীক্ষা করতেই উত্তর কোরিয়া সাবমেরিন পাঠিয়েছে।

North Korea ballistics missile submarine 1প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উত্তর কোরিয়ার এসব সাবমেরিন রাডার জ্যাম করা বা অকেজো করার মত অত্যাধুনিক ইলেক্ট্রনিক এবং লেসার প্রযুক্তিতে সজ্জিত। মার্কিন উপকূলে এসে তারা এসব যন্ত্রপাতি নিস্ক্রিয় করে রাখে এবং মার্কিন রাডার সক্রিয় আছে তা নিশ্চিত হওয়ার পরই নিজেদের যন্ত্রপাতি সক্রিয় করে রাডারের পর্দা থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার এ ধারণের প্রযুক্তি আয়ত্ব করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

দুই বছর আগে, ২০১৫ সালে, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের উপকূল থেকে এভাবে হঠাৎ উত্তর কোরিয়ার প্রায় ৫০টির মত সাবমেরিন রাডারের পর্দা থেকে উধাও হয়ে গিয়েছিল। তখনই জাপানী বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন যে, উত্তর কোরিয়া রাডার জ্যাম করা বা অকেজো করার মত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্ব করেছে এবং সে প্রযুক্তি সম্ভবতঃ সামেরিনে যুক্ত করেছে।

বাংলাদেশনিউজ,
১৬.০৪.২০১৭


Comments are closed.