>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

শুভ নববর্ষ ১৪২৪!

Shuvo Nababorsha- 1424আবার পহেলা বৈশাখ। আবার একটি নতুন বাংলা বছরের শুরু। নতুন বছর শুরুর মধ্য দিয়ে ‌অতীত হয়ে গেল আর একটি বছর। বাংলা পঞ্জিকায় ১৪২৩ সালের বিলুপ্তি ঘটল। পুরনো জঞ্জাল সরিয়ে, পুরনো পাতা ঝরিয়ে, নতুন কুঁড়ি, নতুন পাতায়, নতুন খাতায় শুরু হলো ১৪২৪ বাংলা সনের শুভযাত্রা। বাংলা নববর্ষের শুভ যাত্রায় শরীক হলো বাংলাদেশের সকল মানুষ। সেঁজে-গুজে, নেচে-গেয়ে, আনন্দ-উল্লাসে, মেলা-উৎসবে নতুন বছরের সূচনা করল বাঙালি। তবে শুধু বাংলাদেশের বাঙালিরা নয়, সারা পৃথিবীতে যেখানে যত বাঙালি আছে সবাই এই শুভ যাত্রার আনন্দ উৎসবে আজ শরীক।

আবহমান কাল থেকে চলে অসছে বাংলা নববর্ষ উদযাপন। আগে এদেশেও বৎসরান্তে বর্ষবিদায় এবং নববর্ষকে বরণ করার উৎসব শুরু হতো বছরের শেষ দিন বা তার আগের দিন থেকে। যেমন, চৈত্রসংক্রান্তি, বিজু, প্রভৃতি। নতুন জীবনের প্রত্যাশা, খাজনা আদায়, ব্যবসার নতুন খাতা খোলা এবং প্রজাদের মনোরঞ্জন ও ব্যবসার খদ্দের-লক্ষীদের আপ্যায়নের একটি সৃংস্কৃতি এসব উৎসব। এর জন্য বিশেষভাবে বছরের প্রথম দিনটিকে বেছে নেয়া হয়। এভাবেই বাংলা নববর্ষ উদযাপনের আবহমান যাত্রা। আজ তা বাঙালির ইতিহাস এবং ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে বাংলা ভূ-খণ্ডের সকল অধিবাসী এই উৎসবের সমান অংশীদার। এ উৎসবের মহত্ব হ’ল মানুষে মানুষে মিলন মেলা।

স্বাধীন বাংলাদেশে কিছু অপশক্তি আছে যারা বাঙালির এই ঐতিহ্যকে ম্লান করার চক্রান্তে লিপ্ত। কিন্তু বাঙালি জাতি কখনো কোন অপশক্তির নিকট মাথা নত করেনি। এবারও বাংলা নববর্ষে ছোট শিশু থেকে শুরু করে কিশোর-কিশোরী, নারী-পুরুষ এবং খুন-খুনে বৃদ্ধ-বৃদ্ধা পর্যন্ত আপামর জনসাধারণের পদচারণায় জানান দিয়ে যাবে, বাঙালির রক্তে মিশে থাকা তার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং কৃষ্টি কোন দিন মুছে ফেলা সম্ভব নয়; মুছে ফেলা যাবে না। এ ঐতিহ্যের উপর দাঁড়িয়ে সৃদৃঢ় পদচারণায় সামনের দিকে এগিয়ে যাবে বাঙালি।

শুভ কামনা এবং মঙ্গলবারতা নিয়ে প্রতিবছর অব্যাহত থাকবে ১লা বৈশাখে বাঙালির পথে নেমে পড়া। দেশ জুড়ে নানা বর্ণে জমে উঠবে বাঙালিত্বের মিলন মেলা।

পাঠক, শভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা!

বাংলাদেশনিউজ
১৪.০৪.২০১৭


Comments are closed.