>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

খাগড়াছড়িতে উদযাপিত হচ্ছে বৈসাবি উৎসব

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Boishabi Khagrachhariতিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানে উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হচ্ছে পাহাড়ী জনগোষ্ঠীর প্রধান ও বৃহৎ সামাজিক উৎসব বৈসাবি।

বৃহস্পতিবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনে চাকমাদের মূলবিজু চলছে। আর ত্রিপুরাদের চলছে গ্রামে গ্রামে গরয়া নৃত্যের সুর ঝংকার আর পাহাড়চূড়ার ‘দেবতাপুকুর’-এ পূজা অর্চনা। ঘরে ঘরে পাঁচনের সুবাস।

বৈসাবিকে ঘিরে পাহাড় এখন পরিণত হয়েছে পাহাড়ি-বাঙ্গালী মিলন মেলায়। ঘরে ঘরে চলছে অতিথি আপ্যায়ন। নতুন পোশাকে আদিবাসী তরুণ-তরুণীরা ঘুরে বেড়াচ্ছে পাড়ায় পাড়ায়। দেবতা পুকুরে বসেছে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মেলা।

বৃহস্পতিবার বৈসাবি উৎসবের দ্বিতীয় দিনে খাগড়াছড়ি’র মহালছড়ির মাইচছড়িতে পাহাড়ের প্রায় ১ হাজার ফুট চূড়ায় অবস্থিত দেবতা পুকুরে পাদদেশে বসেছে (ত্রিপুরা ভাষায় যা মাতাই পুখরী) ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মেলা। সকাল থেকে হাজার-হাজার ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণী দেবতা পুকুরে সমবেত হচ্ছে। চারি দিকে মালভূমি দ্বারা পাহাড়বেষ্টিত হওয়ায় দেবতা পুকুরকে সমতল ভূমিতে মনে হয়। সবচেয়ে আচর্য্যরে বিষয় হচ্ছে, এ পুকুরের পানি কখনো কমে না। ত্রিপুরাদের বিশ্বাস এইদিনে পাহাড়চূড়ায় অবস্থিত পুকুরে ¯œান করে দেবতাকে পূজা করলে বিশেষ মনোবাসনা পূরণ হয়। এসময় ঘরে থাকা পরিবারের অন্যরা বুনোফুলের মালা দিয়ে ঘর সাজান পরিপাটি করে।

এছাড়া ত্রিপুরাদের হারিবৈসু উপলক্ষে গ্রামের পর গ্রামে চষে বেড়াচ্ছেন, বিশেষ নাচের দল ‘গরয়া’। একেকটি দলে ৫০ থেকে ৬০ জনের নৃত্যশিল্পীরা পাহাড়ী জনপদে ঢোল আর বাঁশির সুরে ছড়িয়ে দিচ্ছেন ঐতিহ্যদীপ্ত ঝংকার। আবার কেউ কেউ পূণ্যার্জনের লক্ষ্যে পাড়ি জমান জেলা সদরে নুনছড়িতে অবস্থিত তীর্থস্থান “দেবতাপুকুর”-এ।

বৈবাবি’র উৎসবের দ্বিতীয় দিন অথাৎ মূল বিজুতে চাকমা সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে চলছে বিজুর ঐতিহ্যবাহী পাচন খাবার উৎসব। বৈসাবি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎসব হলেও এ অঞ্চলের বাংলা ভাষাভাষীরাও উৎসবের আনন্দ একাকার হয়ে উপভোগ করছে। আদিবাসী কিশোর-কিশোরীদের পাশাপাশি বাঙ্গালী তরুণ-তরুণীরাও দল বেধে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক পাড়া থেকে আরো এক পাড়ায়। অতিথিদের আপ্যায়ন করছে যে-যার সামর্থ অনুয়ায়ী।

সংস্কৃতিপ্রিয় মানুষের কাছে ‘গরয়া’র বিশেষ আকর্ষণ যেনো ফুরাবার নয়। তাই ত্রিপুরাদের পোশাকের উজ্জলতা, নাচে-গানে মুখর গরয়া’র সংঘবদ্ধ নৃত্যশৈলীকে স্বাগত জানাচ্ছেন, ত্রিপুরা’রা। ঘরে ঘরে-বাড়ীর উঠোনে গরয়া দলের প্রধান “অচাই (পুরোহিত)”র মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে নতচিত্তে পূজা-অর্চণা চলছে। নাচ শেষে সামর্থ্য অনুযায়ী যে যাই দেন তাই নিয়েই সন্তুষ্ট পাড়ি জমান গরয়া শিল্পীরা।

বীরত্ব ভূষণ ত্রিপুরা (গরয়া দলের প্রধান বা অচাই), স্মরনণ ত্রিপুরা (গরয়া শিল্পী), অক্ষয়মণি ত্রিপুরা (গরয়া শিল্পী) প্রতিবছরে উৎসবের সময় দলবেধে তারা গ্রামে গ্রামে নেচে গেয়ে বেড়ায । গৃহস্তের সামথ্যমত তাদের আমন্ত্রন জানান এবং তাদের দান দক্ষিনা করে ।

ত্রিপুরা সংস্কৃতি গবেষক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা জানান.গড়াইয়া নৃত্যের মাধ্যমে পুরানো বছরের গ¬ানী দুঃখ বেদনা মুচে নতুন বছরের পূন্য উদ্যমে কাজ করার আহবান জানানো হয়।

বৈসাবি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর উৎসব হলেও এ অঞ্চলের বাংলা ভাষাভাষীরাও উৎসবের আনন্দ একাকার হয়ে উপভোগ করছে।

আর মারমা গ্রামে চলছে লুপ্তপ্রায় খেলাধূলা। কাল থেকে শুরু হবে মারমাদের “সাংগ্রাই” উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

বৈসাবি মানেই রঙে বর্ণে বৈচিত্র্যময় এক সাংস্কৃতিক উৎসব। বিজু-সাংগ্রাই-বৈসু, যে নামেই বলা হোক না কেনো, এই উৎসব যেনো পাহাড়ীদের প্রেরণা-পাহাড়ের জাগরণ। বংশ পরম্পরায় পালিত এই উৎসবের সাথে আধুনিকতার ছোঁয়া আর বাংলা’র মিশেলে বৈসাবি হয়ে উঠেছে সর্বজনীন অন্য এক পাহাড়িয়া উৎসবে।

– ছবি : সিএইচটিনিউজ/নেট থেকে নেওয়া।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ১৩.০৪.২০১৭


Comments are closed.