>> দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে >> রংপুর পীরগঞ্জে ট্রাক উল্টে ঈদে ঘরমূখী ১৭ জন নিহত >> চীনের সিচুয়ান প্রদেশে জিনমো গ্রামে ভূমি ধ্বসে ১০০ মানুষ নিঁখোজ >> পাকিস্তানের পারাচিনারে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ >> টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে ৪ জন নিহত

ভারত বাড়াবাড়ি করলে কাশ্মীরে হস্তক্ষেপ করতে পারে চীন

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

china-india-flag 1শুক্রবার চীনা সরকারি সংবাদপত্র গ্লোবাল টাইমসে একটি সম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়েছে। সম্পাদকীয়তে প্রশ্ন করা হয়েছে- ‘‘উত্তর ভারতের অশান্ত রাজ্যটি (কাশ্মীর) চীনা সীমান্ত ঘেঁষা। এই অবস্থায় চীন যদি ভূ-কৌশলগত খেলায় নামে, তা হলে কী দিল্লি এঁটে উঠতে পারবে?’’

এর আগে চীন অভিযোগ করেছে, দলাই লামাকে সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদী সরকার রাজনীতি করছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নিয়মিত ব্রিফিং এর সময় এ মন্তব্য করেন।

শুক্রবার সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, “চীনের আর্থিক বৃদ্ধির হার ভারতের চেয়ে অনেক বেশি, ভারত মহাসাগর তাদের সামরিক শক্তির নাগালে, ভারত-লাগোয়া দেশগুলির সঙ্গে চীনের সুসম্পর্কও রয়েছে। দলাই লামার অরুণাচল সফরের মাধ্যমে চীনকে চাপ দিতে চাইছে ভারত। আর সেই উদ্দেশ্যে তাঁকে কূটনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এটা উদ্ভট ও অসৌজন্যমূলক পথ। চীনের কাছে দলাই লামার ভাবমূর্তি চূড়ান্ত রাজনৈতিক। কাজেই তাঁর সঙ্গে কোন দেশ কী রকম সম্পর্ক রাখছে, তার প্রভাব পড়ে গোটা চীনে।’’

চীনের রাজনীতিতে দালাই লামা এখন গুরুত্বহীন ব্যাক্তি। চীনে বা তিব্বতে তাঁর গণভিত্তি বা রাজনৈতিক প্রভাব কোনটাই নেই। এমন কি ধর্মগুরু হিসেবেও তিনি গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছেন। দালাই লামার একজন সিনিয়র-মোষ্ট সহযোগী বৌদ্ধ ধর্মগুরু সম্প্রতি সন্ন্যাস জীবন ত্যাগ করে ভূটানী এক মেয়েকে বিয়ে করে দালাই লামার কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।

জিয়াং জেমিন এর আমল থেকে চীন তিব্বতের অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষা খাতে উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য বড় ধরনের অর্থ বিনিয়োগ শুরু করেছে। হু জিনতাও আমলেও তা অব্যাহত ছিল। বর্তমানে শি জিনপিং এর আমলে তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তিব্বতের আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন এখন চোখে পড়তে শুরু করেছে। ফলে তিব্বতে দালাই  লামা এখন আর কোন বড় ইস্যু নয়।

এদিকে, প্রভাব প্রতিপত্তিহীন দেউলিয়া দালাই লামাকে এতদিন আমেরিকা তার চীন-বিরোধী প্রপাগাণ্ডার কাজে ব্যবহার করেছে। এখন ভারতও সেই পথ ধরেছে। চীন বিরোধী প্রপাগাণ্ডায় তাকে ব্যবহার করছে এবং চীনের সাথে বিরোধপূর্ণ এলাকায় তাকে ব্যবহার করে নতুন করে প্রপাগাণ্ডা চালাতে শুরু করেছে।

১৯৬২ সালের যুদ্ধে চীন যেমন ভারতের কিছু এলাকা দখল করে নেয়, ভারতও চীনের কিছু এলাকা দখল করে নেয়। মাঝে এক সময় এসব এলাকা বিনিময় করে, অথবা যার যার দখলে যা আছে তা তার মেনে নিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়েছিল চীন। আলোচনাও শুরু হয়েছিল। কিন্তু ভারতই তাতে ব্যাগড়া বাঁধিয়ে আলোচনা থেকে সরে আসে। ভারত তার দখলে যে এলাকা আছে সেটা নিজের দাবী করে ছাড়তে অস্বীকার করে। উপরন্তু, চীনের দখলে থাকা এলাকাও ভারতের বলে দাবী করে তাও ফেরত চায়।

ভারতের এসব কর্মকাণ্ডে চীন বিরক্ত। এ জন্য দলাই লামার বিরোধপূর্ণ অরুণাচল সফর নিয়ে গোড়া থেকে অসন্তোষ জানিয়ে আসছে চীন। দিল্লি অবশ্য দাবী করছে, তিব্বতী ধর্মগুরুর সফর একান্তই ধর্মীয়। কিন্তু সেই যুক্তি মানতে নারাজ চীন।

আজ গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত সম্পাদকীয়র মাধ্যমে চীন সরাসরি ভারতকে জানিয়ে দিল, চীন চেপে ধরলে ভারত শক্তিতে পেরে উঠবে কি? এমন কি ইচ্ছে করলে চীন যে কাশ্মীরেও স্বাধীনতাকামীদের সাহায্য সহযোগিতা করতে পারে, সেটাও সম্ভবতঃ স্মরণ করিয়ে দিল। চীন যদি সেটা করেই, তাহলে পশ্চিমে পাকিস্তানের সাথে সীমান্ত ছাড়াও কাশ্মীরের উত্তর-পূর্বে আরও একটি ফ্রন্ট খুলে যাবে। আর পশ্চিম সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠিন হলেও ভারত তা পরছে, কিন্তু লাদাখে চীন সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা ভারতের পক্ষে সম্ভব হবে এমনটা মনে হয় না। তখণ কী আর কাশ্মীর ধরে রাখা সম্ভব হবে?

বাংলাদেশনিউজ
০৭.০৪.২০১৭


Comments are closed.