>> আইন সচিব জহিরুল হকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ তিন মাস স্থগিত : হাইকোর্ট >> না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাক >> উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে রেল ঢাকার যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে >> কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে >> সিঙ্গাপুরে মার্কিন ডেষ্ট্রয়ার ও তেলবাহী জাহাজের সংঘর্ষ ১০ নাবিক নিখোঁজ >> রাশিয়ার বিমান হামলায় ২০০ দায়েশ সন্ত্রাসী নিহত

তিস্তার পানি ছেড়ে দিয়ে চলছে নিচু স্তরের চালাকি

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Teesta river India sectionএর আগেরবারও শেখ হাসিনা যখন ভারত সফরে গিয়েছিলেন, তখন ভারত তিস্তার পানি ছেড়ে দিয়ে দু’কূল ভাসিয়ে দিয়েছিল। এবারও শেখ হাসিনার ভারত সফরের আগে বাধঁ খুলে দিয়ে তিস্তার পানি ছেড়েছে ভারত।

এদিকে সূত্রের খবর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার , পশ্চিমবঙ্গের স্বরাষ্ট্রসচিব মলয়কুমার দে বাবুকে আশ্বাস দিয়েছে যে, রাজ্যের সমস্যার ক্ষেত্রগুলিকে চিহ্নিত করেই তবে তিস্তার সমাধান করা হবে।

মলয় বাবু ইতোমধ্যে ভারতের রাজধানী দিল্লিতে গিয়েছেন। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি নৃপেন মিশ্রর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক হয়েছে তাঁর। বৈঠকে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সচিব ভাস্কর খুলবেও। তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে রাজ্যের আপত্তির বিষয়গুলো শুনেছেন নৃপেন মিশ্র।

এ বিষয়টি এখন পরিস্কার যে, শেখ হাসিনার দিল্লি সফরকালে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখপাধ্যায়ের আমন্ত্রণে পশ্চিম বঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে হাজির থাকলেও তিস্তা চুক্তি হচ্ছে না, এ নিয়ে আলোচনাও হচ্ছে না।

তাহলে, প্রতিবার শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময় বা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরের সময় তিস্তার পানি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের সাথে, তিস্তাকূলের কৃষকদের সাথে এ তামাশা করার কারণ কী? ভারতের সরকার ও প্রশাসন কী এটা বোঝে না যে, এ ধরণের সাময়িক সস্তা প্রলোভন অত্যন্ত নিচু স্তরের চালাকি?

এদিকে ভারতের এক শ্রেণীর রাজনীতিক এবং গণমাধ্যম “তিস্তা পানি চুক্তি” ইস্যুকে শেখ হাসিনার নির্বাচনী গরজ হিসেবে আখ্যায়িত করছে। তারা বলছে, ২০১৮-র শেষে বাংলাদেশে নির্বাচন। তার আগে তিস্তা পানি চুক্তি সম্পাদনের মত সাফল্য হাতে নিয়ে শেখ হাসিনা ভোটে যেতে চান।

বাস্তবতা হল, মমতা তিস্তার পানি দেওয়ার পক্ষে সম্মতি দিবেন না। এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পরিস্কার। মমতা বলছেন, সিকিমে অসংখ্য জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও ৮টি বড় বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। সিকিম এ ভাবে অপরিকল্পিত ভাবে যথেচ্ছ বাঁধ দেওয়ায়, শুকনা মওসুমে তিস্তায় পানি থাকছে না। আবার বর্ষা মওসুমে বাঁধ বাঁচাতে সিকিম পানি ছেড়ে ভাসিয়ে দিচ্ছে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিঙের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন মমতা। প্রধানমন্ত্রী মোদী, সুষমা স্বরাজ, রাজনাথকেও বিষয়টি জানিয়েছিলেন। কাজ হয়নি।

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের অভিযোগ, ঢাকার সেই সফরের পরে এক বছরের বেশি কেটে গেলেও সিকিম ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে এক সঙ্গে বসিয়ে তিস্তা নিয়ে কোনও বৈঠক করেনি কেন্দ্র। সিকিমকেও এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়নি। দ্বিতীয়ত, শুকনা মওসুমে তিস্তায় পানি সঙ্কটের জন্য উত্তরবঙ্গে পানির সমস্যা যাতে না হয়, সে জন্য ছোট ছোট জলাধার গড়ার কথা বলা হয়েছিল। মমতা নিযুক্ত নদী বিশেষজ্ঞ কল্যাণ রুদ্রের কমিটিই এই প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু এখনও কেন্দ্র এ নিয়ে উদ্যোগী হয়নি। উত্তরবঙ্গে বিকল্প পানি প্রকল্পের জন্য বিশেষ আর্থিক প্যাকেজও বরাদ্দ হয়নি।

বৃহস্পতিবার দিল্লির বৈঠকে ভারতের প্রাধনমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন ভাস্কর খুলবে। শুক্রবার দিল্লি পৌঁছবেন মমতা। শনিবার দুপুরে হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী মোদীর মধ্যাহ্নভোজে উপস্থিত থাকবেন তিনি। সেখানে শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর কথা হবে। পরের দিন রাষ্ট্রপতির নৈশভোজেও মমতা এবং মোদী উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া শনিবার হায়দরাবাদ হাউসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে খুলনা-কলকাতা বাস এবং খুলনা-কলকাতা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধণীতে মোদী এবং হাসিনার সঙ্গে তিনিও উপস্থিত থাকবেন।

সব মিলিয়ে এটা স্পষ্ট যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলতি সফরে তিস্তা পানি চুক্তি স্বাক্ষর হচ্ছে না। তবে ভারতের সেই পুরোন কৌশল এবারও প্রয়োগ হচ্ছে। বিভিন্ন আশ্বাসের মূলো ঝুলিয়ে “অদূর ভবিষ্যতে এসব সমস্যা যাতে সমাধান করা যায়” সে জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে “কিছুটা নমনীয়” করতে চেষ্টা চলছে। এজন্য, মমতাকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার একটি আবহ তৈরী করা হচ্ছে। যে কারণে, তিনি ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মধ্যাহ্নভোজে অন্য কোন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে নিমন্ত্রণ করা হয়নি।

তিস্তা নিয়ে মমতা শিবিরের বক্তব্য, বাংলাদেশের মানুষ পানি পাক, এটা কাম্য। সে ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের স্বার্থ রক্ষা করে যদি তা সম্ভব হয়, তবে আপত্তির কারণ নেই। অর্থ কী দাঁড়ালো? “ষোল মন ঘিও যোগাড় হবে না, রাধাও নাচবে না”। বরং সাময়িক তিস্তার পানি ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের সাথে চলছে নিচু স্তরের চালাকি!

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ০৭.০৪.২০১৭


Comments are closed.