>> কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে >> স্পেনের বার্সেলোনায় পথচারীদের উপর ভ্যান নিহত ১৩ আহত ৫০ >> সিরিয়ায় মার্কিন জোটের বিমান হামলায় ৬ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত

এত টাকা তো পানিতে ফেলে দেয়া যায়না!

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

US F 35 repairআমেরিকার এফ-৩৫ যুদ্ধ বিমান নির্মাণ প্রকল্পে বিশাল অংকের অর্থ বিনিয়োগের পর বিমানগুলো বা প্রকল্পটি তো আর পানিতে ফেলে দেওয়া যায়না! তাই ত্রুটিপূর্ণ এই বিমানকে যে কোন মূল্যে ব্যবহারোপযোগী করতে বা রাখতে বারবার বাড়তি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় আবার ত্রুটি মেরামতের জন্য ১০ কোটি ডলার বরাদ্দ দেওয়া হ’ল।

গত বৃহস্পতিবার পেন্টাগন জানিয়েছে, এফ-৩৫ লাইটনিং জয়েন্ট ষ্ট্রাইক ফাইটার বিমান মেরামতের জন্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহীড মার্টিন কোম্পানীকে আবার ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এফ-৩৫ লাইটনিং জয়েন্ট ষ্ট্রাইক ফাইটার বিমানের কারিগরী, লজিষ্টিকস সহায়তা, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ সার্ভিস দেওয়ার জন্য টেক্সাসের লকহীড মার্টিন কোম্পানীকে আবার ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বিমানটি তৈরীর শুরু থেকেই এর কারিগরী, যান্ত্রিক এবং সফটওয়ার ত্রুটি পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হয়নি। এসব ত্রুটির কারণে সরবরাহ বা বিক্রি করার পরেও এ বিমানটিকে বার বার গ্রাউণ্ডেড করে রাখতে হয়েছে। তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বার বার মেরামত ও কারিগরী উন্নয়ণ ঘটিয়েও এর ত্রুটিসমূহ পুরোপুরি দূর করতে পারে নি। তবে এসব প্রক্রিয়ায় এই বিমান নির্মাণ প্রকল্পে বিনিয়োগ ব্যয় হুহু করে বেড়েছে।

বিমানটির সবচেয়ে বড় দু’টি ত্রুটি হ’ল, প্রথমতঃ, এর ইঞ্জিনের সক্ষমতার তুলনায় দেহের ওজন বেশী। ফলে প্রকৃত আকাশ যুদ্ধে শত্রু বিমান তাড়া করলে এফ-৩৫ বিমানের আত্মরক্ষা কঠিন হয়ে পড়বে। দ্বিতীয়তঃ, এটিকে ষ্টীলথ বিমান বলা হলেও, এটি রাশিয়ার ও চীনের রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম নয়।

এখন আবার এর এভিয়োনিক্স এবং সফটওয়ার পরিবর্তনের কথা ভাবা হচ্ছে। আরও উন্নত মানের এভিযোনিক্স যুক্ত করে বিমনটির নেভিগেশন ও সুরক্ষার মান উন্নত করার চিন্তা চলছে। এছাড়া, এ বিমানে যেসব সফটওয়ার ব্যবহার করা হয়েছে তার অনেক সফটওয়ার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এখন আর সেসব তৈরী করছে না। যে গুলোর ত্রুটি ধরা পড়েছে বা অকেজো হয়েছে সেগুলো পুনঃস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ঐসব সফটওয়ার বাদ দিয়ে আরও উন্নত সফটওয়ার ব্যবহারের কথা চলছে।

এদিকে, মার্কিন বিমান ও নৌবাহিনী এ বিমান যে ক’টি সরবরাহ নিয়েছে তার বাইরে আর না নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তাদের সুপারিশ ছিল আপাতত আরও এফ-১৬ ও এফ-১৮ বিমান ক্রয় করে জরুরী প্রয়োজন মেটাতে এবং নতুন একটি অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান তৈরীর প্রকল্প হাতে নিতে। তারা বলেছিল যুদ্ধ সক্ষমতা ও মানগত দিক বিচারে এফ-৩৫ বিমানের চেয়ে এফ-১৬ ও এফ-১৮ বিমান উন্নত। কিন্তু মার্কিন সিনেটের প্রতিরক্ষা ক্রয় সংক্রান্ত কমিটি তাদের সুপারিশ নাকচ করে জানিয়ে দিয়েছে, এফ-৩৫ বিমানই নিতে হবে।

প্রথম দিকে বিমানটির প্রচারণায় মুগ্ধ হয়ে অনেক মার্কিন মিত্র দেশ এটি কিনতে আগ্রহ প্রকাশ করেছিল এবং অর্ডার প্লেস করেছিল। পরে বিমানটির ত্রুটি ধরা পড়ার পর, এনেক দেশই এখন আর এটি কিনতে আগ্রহী নয়। যারা অর্ডার করেছিল তারা যতটা কিনতে চেয়েছিল এখন আর তত সংখ্যায় নিতে চাইছে না, অনেক কম সংখ্যক নিতে চাইছে। কানাডা, এ বিমান কিনতে না চাওয়ায় লকহীড মার্টিন কোম্পানী হুমকি দিয়ে বলেছে, এফ-৩৫ বিমান না কিনলে তারা কানাডার অর্থনীতিতে ধ্বস নামিয়ে দিবে। মার্কিন সরকার অবশ্য এ বিমান কিনতে দুর্বল মিত্রদের উপর চাপ সৃষ্টি করে চলেছে।

এফ ৩৫ প্রকল্পের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ১,৫০,৮০০ কোটি (১.৫০৮ ট্রিলিয়ন) ডলার ব্যয় হয়েছে। এর মধ্যে ৩২,৩০০ কোটি (৩২৩ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় হয়েছে বাণিজ্যিক উৎপাদন, সরঞ্জাম ক্রয়, ত্রুটি সংশোধণ ও মেরামতে। বাকী ১,১৮,৫০০ কোটি (১১.৮৫ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় হয়েছে গবেষণা, ডিজাইন, প্রটোটাইপ নির্মান ও উন্নয়ণে।

বিশ্বের ইতিহাসে এত ব্যয়বহুল যুদ্ধ বিমান তৈরীর প্রকল্প দ্বিতীয়টি আর নেই। সে কারণে এ বিমানের বিক্রয় মূল্যও অনেক বেশী। প্রতিটি এফ-৩৫এ ৯ কোটি ৪৬ লক্ষ (৯৪.৬ মিলিয়ন) ডলার, এফ-৩৫বি ১২ কোটি ২৮ লক্ষ (১২২.৮ মিলিয়ন) ডলার এবং এফ-৩৫সি ১২ কোটি ১৮ লক্ষ (১২১.৮ মিলিয়ন) ডলার।

বাংলাদেশনিউজ
০২.০৪.২০১৭


Comments are closed.