>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

আজ ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

Savar national musoleum smআজ ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। স্বাধীনতা দিবস বাঙালির জাতীয় জীবনে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সত্ত্বেও বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তর করে নি। বরং পাকিস্তানি সেনারা বাঙালি বেসামরিক লোকজনকে নির্বিচারে হত্যা শুরু করে। তাদের এ অভিযানের মূললক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগসহ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল সকল রাজনৈতিক নেতা-কর্মী এবং সকল সচেতন নাগরিককে হত্যা করা।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির কণ্ঠ চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার লক্ষ্যে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে ‘‌‌‌অপারেশন সার্চলাইট’ নাম দিয়ে নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চালিয়েছিল রক্তের হোলি-খেলা, হত্যার তান্ডবলীলা। শুধু রাজারবাগেই হত্যা করেছিল এক হাজারেরও বেশী পুলিশ সদস্যকে। তবে সেই রাজারবাগেই গড়ে উঠেছিল হানাদার পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ।

এভাবে পাকিস্তানীরা বাঙালি জাতির জীবনে এক বিভীষিকাময় যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল। দীর্ঘ নয়মাস মরণপণ লড়াইয়ের মাধ্যমে বাংলার দামাল সন্তানেরা এক সাগর রক্তের বিনিময়ে সে যুদ্ধে বিজয় লাভ করে এবং স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনে।

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের ৩০ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছিল হানাদার পাকিস্তানী সেনাবাহিনী এবং তাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-শামস। তাদের নির্মম বর্বর বিভৎসতায় ইজ্জৎ হারিয়েছিলেন প্রায় ৩ লক্ষ মা-বোন। হানাদার পাকিস্তানী সেনাবাহিনী জ্বালিয়ে দিয়েছিল লক্ষ লক্ষ ঘর-বাড়ি, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রদিষ্ঠান ও উপসনালয়। এক কোটিরও বেশী মানুষ পালিয়ে শরনার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছিল ভারতে। ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জনের পর দেশে ফিরে তাদের অধিকাংশ পেয়েছিল শুধু পোড়া মাটি।

সেদিন ফাকিস্তানী সেনা অভিযানের শুরুতেই হানাদার বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের আগে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যে কোন মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। মুহূর্তের মধ্যেই বঙ্গবন্ধুর এ ঘোষণা ওয়্যারলেসের মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে যায়।

আজ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে সমগ্র জাতির সাথে আমরাও বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করি স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদদের, সকল নির্যাতিত মা-বোন ও ভাইদের!

বাংলাদেশনিউজ
২৬.০৩.২০১৭


Comments are closed.