>> আইন সচিব জহিরুল হকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ তিন মাস স্থগিত : হাইকোর্ট >> না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাক >> উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে রেল ঢাকার যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে >> কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে >> সিঙ্গাপুরে মার্কিন ডেষ্ট্রয়ার ও তেলবাহী জাহাজের সংঘর্ষ ১০ নাবিক নিখোঁজ >> রাশিয়ার বিমান হামলায় ২০০ দায়েশ সন্ত্রাসী নিহত

সিরিয়ায় নিজের অপরাধ আড়াল করতে পারবে না আমেরিকা

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

us airstrike syriaসিরিয়া সেদেশে মার্কিন নেতৃত্বে দায়েশ বিরোধী কথিত আন্তর্জাতিক জোটের হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সম্প্রতি একটি স্কুলে মার্কিন বিমান হামলায় বহু লোক নিহত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় সিরিয়া সরকার এ আহ্বান জানালো।

সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রধানের কাছে পাঠানো আলাদা আলাদা বার্তায় ওই আহ্বান জানিয়েছে। এতে অভিযোগ করা হয়েছে, মার্কিন নেতৃত্বে দায়েশ বিরোধী কথিত আন্তর্জাতিক জোট রাকার একটি স্কুলে বোমাবর্ষণ করে গণহত্যা চালিয়েছে। ওই হামলায় এক নারী ও শিশুসহ ৩২ ব্যক্তি নিহত হয়েছে। বহু বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছে এবং স্কুলটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।

একদিকে আমেরিকা হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষ হত্যা করছে, অন্যদিকে দায়েশ ও আন্‌ নুসরার মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো নিরীহ মানুষ হত্যা করে জনমনে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। আমেরিকা দায়েশ দমনের কথা বললেও দায়েশের হাতে নিত্যনতুন আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের তৈরী অত্যাধুনকি অস্ত্র তাদের সে দাবীর সত্যতা প্রমাণ করে না। একাধিকবার সিরিয়ার সেনাবাহিনী দায়েশ ও আল-নূসরার কাছ থেকে বড় ধরনের আমেরিকান, ব্রিটিশ ও ফরাসী অস্ত্রের চালান আটক করেছে। অঅটক হয়েছে সৌদি আরব ও ইসরাইলের অস্ত্রও। এসব ঘটনায় প্রমানিত হয়, সন্ত্রাস দমন নয়, সিরিয়ায় মার্কিন কোয়ালিশনের উপস্থিতির মূল উদ্দেশ্য সন্ত্রাসীদের অস্ত্র সরবরাহ করাসহ তাদের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করা।

আমেরিকা ও সন্ত্রাসীদের তৎপরতার ধরণও একই এবং তারা উভয়ে সিরিয়ায় বেসামরিক মানুষকে হত্যা করছে, অবকাঠামো ধ্বংস করছে। আমেরিকা দায়েশ বিরোধী অভিযানের নামে সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে। অথচ সিরিয়ার সরকার হামলা চালানোর কোনো অনুমতি আমেরিকাকে দেয়নি, কিংবা দামেস্ক এ ধরণের হামলা চালানোর জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বানও জানায়নি।

সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি করলেও তাদের কাজের সঙ্গে ওই দাবির কোনো মিল নেই। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করাই যে আমেরিকার প্রধান উদ্দেশ্য সেটা এরই মধ্যে প্রমাণিত হয়ে গেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, যে কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতি নেয়া প্রয়োজন। কিন্তু এ নিয়ম নীতির কোনো তোয়াক্কা না করে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দায়েশ বিরোধী কথিত জোট গঠন করে সেদেশে হামলা চালানো শুরু করে। ওবামার নিয়ম ভাঙ্গার ওই খারাপ দৃষ্টান্ত সারা বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর সিরিয়ার বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপের মাত্রা আরো বেড়েছে। তাই এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যে কোনো স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপের মাধ্যমে অব্যাহতভাবে দেশটির সার্বভৌমত্ব বিনষ্ট করা হচ্ছে। এভাবে দায়েশকে অজুহাত করে সিরিয়ায় গণহত্যা চালিয়ে ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে নিজের অপরাধ আড়াল করতে পারবে না আমেরিকা।

মার্কিন কর্মকর্তারা বিশ্বের মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য ইরাক ও সিরিয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা জোন গঠনের কথা বলছেন। অথচ এর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছ, ওই দুটি দেশে আরো বেশি সামরিক হস্তক্ষেপ করা এবং সন্ত্রাসীদেরকে সহযোগিতা করা যাতে করে সন্ত্রাসীদেরকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করা যায়। এছাড়া দেশ দু’টিকে ভেঙে ঠুকরো-টুকরো করার পরিকল্পনার সাথেও এই প্রস্তাবিত নিরাপত্তা জোন গঠনের সম্পর্ক রয়েছে।

দায়েশ সন্ত্রাসীরা সম্প্রতি ইরাক ও সিরিয়া যুদ্ধে পরাজিত হওয়ায় মার্কিন কর্মকর্তারা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তাই সন্ত্রাসীদেরকে রক্ষার জন্য তারা মরিয়া হয়ে উঠেছে। এ জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা সিরিয়ার স্কুল, হাসপাতাল, শরণার্থী শিবির, ব্রিজ, বাঁধ, পানি শোধনাগার, বিদ্যুৎ প্লান্ট, গ্যাস প্লান্ট, তেলের পাইপলাইন কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে বর্বরোচিতভাবে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে আমেরিকা সন্ত্রাসীদেরকে শক্তি সঞ্চয় করার সুযোগ দিচ্ছে, বলা যায় শক্তি বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করছে। আমেরিকার একাধিক সিনেটর ও কংগ্রেস সদস্য বলেছেন, আমেরিকা সিরিয়ায় “রেজিম চেঞ্জ” মিশন নিয়ে কাজ করছে। এই নীতি পরিত্যাগ করে প্রকৃত সন্ত্রাস দমনের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য তারা মার্কিন প্রশাসনের প্রতি আহবানও জানিয়েছেন।

সিরিয়ায় আমেরিকার এই দ্বিচারিতা ও আসাদ সরকার পরিবর্তনের আশায় সন্ত্রাসে মদদ দেয়া মার্কিন প্রশাসন কখনও আড়াল করতে পারবে না।

-পারসটুডে/সম্পাদিত ও পরিমার্জিত

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ২৪.০৩.২০১৭


Comments are closed.