>> কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে >> স্পেনের বার্সেলোনায় পথচারীদের উপর ভ্যান নিহত ১৩ আহত ৫০ >> সিরিয়ায় মার্কিন জোটের বিমান হামলায় ৬ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত

ইয়েমেন যুদ্ধে ব্যর্থতা ঢাকতে মরিয়া সৌদি আরব

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Mideast Yemenসৌদি আগ্রাসনের মোকাবেলায় ইয়েমেনের জনগণের অব্যাহত প্রতিরোধে পরিস্থিতি ক্রমেই পাল্টে যাচেছ। সৌদি আরব ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ হত্যা করে এবং সম্পদের ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে এখন এ যুদ্ধে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছে।

কিন্তু ইয়েমেনের সরকার ও জনগণ তীব্র প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া থেকে বোঝা যায়, সৌদি আরবের ব্যর্থতার পাল্লা ক্রমেই ভারী হচ্ছে। গত কয়েকদিনে ইয়েমেনের যোদ্ধারা মাআ’রিব প্রদেশে সৌদি ভাড়াটে সেনাদের অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে করে সৌদি এক কমান্ডারসহ ৬০ সেনা হতাহত হয়েছে। এ ছাড়া, ইয়েমেনের ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট সম্প্রতি সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় জিযানে একটি মধ্যমপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। সর্বশেষ সৌদি রাজধানী রিয়াদের কাছে সালমান সামরিক ঘাঁটিতে স্কাড ক্ষেপণাস্ত্রের হামলা চালিয়ে বিভিন্ন স্থাপনার ব্যপক ক্ষতিসাধন করেছে।

ইয়েমেনের বিভিন্ন পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা সৌদি আরবের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ইয়েমেনের সেনা ও গণবাহিনী বহুবার বলেছে, আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে তাদেরও আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। তাই আত্মরক্ষার জন্য সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর অধিকারও তাদের রয়েছ। সৌদি বর্বর আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ইয়েমেনের ১২ হাজার মানুষ নিহত এবং ৩৫ হাজার আহত হয়েছ। এ ছাড়া, দেশটির লাখ লাখ মানুষ শণার্থীতে পরিণত হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবাকাঠামোগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে সৌদি আরব। এসবই মারাত্মক যুদ্ধাপরাধ।

সৌদি আরব ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে ইয়েমেনের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর হামলা শুরু করে। তাদের ধারণা ছিল খুব সহজেই ইয়েমেনের গণপ্রতিরোধ বাহিনী হুথি ‘আনসারুল্লাহ’কে পরাজিত করা যাবে এবং পলাতক সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদিকে আবার ক্ষমতায় বসানো যাবে। কিন্তু তাদের সে ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং প্রায় আড়াই বছর ধরে ইয়েমেনের জনগণ প্রতিরোধ যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে, সৌদি কর্মকর্তারা হুথি আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জনগণের মধ্যে তাদের ব্যাপক জনপ্রিয়তার বিষয়টিকে হাল্কাভাবে দেখেছিল। এখন সৌদি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে হুথি আনসারুল্লাহ যোদ্ধারা স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং প্রতিরোধের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। তারা এখন সৌদি আরবের অনেক ভেতরে সৌদি সেনা ও তাদের ভাড়াটে সেনাদের অবস্থানে হামলা চালানোর ক্ষমতা রাখে।

ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সম্প্রতি হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়ে দেশটির বিরুদ্ধে সৌদি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে মার্কিন বিরোধী শ্লোগান দেয়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইয়েমেন যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি লক্ষ্য করলে বোঝা যায়, সৌদি আগ্রাসনের ফলে ওই দেশটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে। ইয়েমেনকে কোণঠাসা করতে গিয়ে সৌদি আরব নিজেই কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। এ কারণে সৌদি আরব ক্ষিপ্ত হয়ে ইয়েমেনের নিরাপরাধ সাধারণ মানুষের উপর বর্বর আগ্রাসী হামলা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অপরদিকে, বার বার প্রমাণিত হয়েছে, সৌদি সেনারা যুদ্ধে আদৌ পারঙ্গম নয়। মাঝে মাঝে তারা দল ধরে ব্যারাক থেকে এবং যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য সৌদি আরব বিভিন্ন দেশ থেকে সেনা সংগ্রহ করেছে এবং আরও বিদেশী সেনা সংগ্রহ করতে চেষ্টা করছে। নিজের নিয়মিত সেনারা যেখানে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে যাচ্ছে, সেখানে ভাড়াটে সেনাদের দিয়ে যে কিছুই হবেনা সেটা বুঝতেও চেষ্টা করছে না সৌদি সরকার। এরপরও ইয়েমেন যুদ্ধে ‘সাফল্য’ পেতে এবং দেশটি দখল করতে মরিয়া হয়ে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থল যুদ্ধে সাফল্য না পেলে, কেবল বিমান হামলা চালিয়ে হয়তো ইয়েমেনের অবকাঠামোর প্রভূত ক্ষতি সাধন করা যাবে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে ইয়েমেনের আরও বহু নিরীহ মানুষকে হত্যা করা যাবে এবং সৌদি আরবের আরও বহু সেনেও মারা পড়বে। তার বেশী কিছু হবে এমনটা মনে হচ্ছে না।

মাঝখান থেকে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে দেশটিকে নতুন করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র কিনতে হচ্ছে। তেলের দাম পড়ে যাওয়া এবং যুদ্ধের খরচ যোগাতে এমনিতে সৌদি অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। তার উপর অস্ত্র কিনতে বিপুল অর্থ ব্যয় অর্থনীতিকে বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে। এই উদ্দেশ্যহীন গোয়ার্তুমির ফলে শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবই যে বড় ধরণের ক্ষতির মুখে পড়বে তা মাথা মোটা বেদুঈন শাসকদের মাথায় এখনও ঢুকছে না।

-পারসটুডে, ঈষৎ সম্পাদিত ও পরিমার্জিত

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ২০.০৩.২০১৭


Comments are closed.