>> আইন সচিব জহিরুল হকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ তিন মাস স্থগিত : হাইকোর্ট >> না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাক >> উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে রেল ঢাকার যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে >> কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে >> সিঙ্গাপুরে মার্কিন ডেষ্ট্রয়ার ও তেলবাহী জাহাজের সংঘর্ষ ১০ নাবিক নিখোঁজ >> রাশিয়ার বিমান হামলায় ২০০ দায়েশ সন্ত্রাসী নিহত

দায়েশ নির্মূলের পর ইরাককে খণ্ডবিখণ্ড করার ষড়যন্ত্র

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Iraq Map 1ইরাকে শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বলে সম্প্রতি জেনেভায় ইরাক বিষয়ে একটি আলোচনার পরপরই তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আবার একটি সন্দেহজনক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেনেভা বৈঠকের মতো ইস্তাম্বুল বৈঠকেও দায়েশ নির্মূলের পর ইরাকের সুন্নি অধ্যুষিত এলাকাকে বিতর্কিত হিসেবে তুলে ধরে সেখানে স্বতন্ত্র এলাকা গঠনের উপায় নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। তুরস্ক এ ধরণের বৈঠকের আয়োজন করে এবং কাতার ও সৌদি আরব ওই বৈঠকের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান দিয়েছে।

ইরাকের কয়েকটি সুন্নি গ্রুপ এবং দায়েশ সন্ত্রাসীদের সমর্থক বলে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তিত্ব জেনেভা ও ইস্তাম্বুল বৈঠকে অংশ নেয়। তারা ইরাককে বিভক্ত করার জন্য আমেরিকা ও এ অঞ্চলের কয়েকটি আরব দেশের পরিকল্পনার সাথে যুক্ত। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক প্রধান ডেভিড পেট্রাউসের উপস্থিতিতে আমেরিকা ও ইউরোপের এ বিষয়ক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। সন্দেহজনক ওই বৈঠকেও ইরাকের বিভিন্ন সুন্নি গ্রুপ উপস্থিত ছিল। বৈঠকে দায়েশ মুক্ত ইরাকে পৃথক সুন্নি অধ্যুষিত স্বতন্ত্র এলাকা গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য, ইরাককে সুন্নী, কুর্দি ও শিয়া অঞ্চলে বিভক্ত করার মার্কিন ও ইউরোপীয় ষড়যন্ত্র থেকেই দায়েশের উত্থান এবং এত রক্তপাত ঘটিয়েছে পশ্চিমারা এবং তাদের সৌদি মিত্র।

আমেরিকা এবং ন্যাটো দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছে যে, ইরাকে দায়েশের সাথে যুদ্ধ দ্রুত শেষ হয়ে যাবে না। এ যুদ্ধ অনেক বছর ধরে চলবে। ওবামাও সেই কথাই বলতেন। সম্প্রতি আমেরিকা ইরাক ও সিরিয়ায় দায়েশ বিরোধী যুদ্ধ করার জন্য কুয়েত ও কাতার ভিত্তিক বিশেষ বাহিনী গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, অথচ ইরাক ও সিরিয়া সরকার বলছে যে, দায়েশ বিরোধী যুদ্ধ এ বছরই শেষ হবে। অপর দিকে আমেরিকা সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে সৈন্য মোতায়েনসহ বিমান ঘাঁটি নির্মাণ করছে। এদিকে কুর্দিস্তান স্বশাসিত এলাকার প্রেসিডেন্ট মাসুদ বারজানি বলেছেন, মসুলের পতন হলেই দায়েশ শেস হয়ে যাবে না, দায়েশের সাথে যুদ্ধ আরও অনেক দিন ধরে চলবে। সামরিক বিশ্লেষকরা ধরণা করছেন কুর্দিস্তান স্বশাসিত এলাকা ব্যবহার করে আমেরিকা ও ন্যাটো দায়েশকে পুনঃসংগঠিত করবে এবং দায়েশ বা ভিন্ন কোন নামে প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে ইরাকে নাশকতামূলক কাজ অব্যাহত রাখবে, দেশটিকে খণ্ড-বিখণ্ড যে পরিকল্পনা তারা নিয়েছে সেটি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে। সেই সাথে ইরাকে মার্কিন বাহিনীর শক্তিশালী অবস্থানকে জাস্টিফাই করবে, যেমনটি তারা করছে আফগানিস্তানে তালেবানের একটি ফ্যাকশন বা অংশকে ব্যবহার করে।

এ বিষয়ে ইরাকের পার্লামেন্টের স্পিকার সালিম আল জাবুরি বলেছেন, বিদেশিদের মোড়লিপনা ও তার দেশকে বিভক্ত করার জন্য দেশের ভিতরে ও বাইরের বিভিন্ন মহলের ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই মেনে নেয়া হবে না।

সালিম আল জাবুরি ইরাকের ভবিষ্যত নিয়ে আমেরিকা ও কয়েকটি আরব দেশের একাধিক বৈঠকের ব্যাপারে এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ইরাক সরকার বিদেশি যে কোনো হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরাকে সেনা ও গণবাহিনীর মোকাবেলায় বিদেশি মদদপুষ্ট দায়েশ সন্ত্রাসীদের একের পর এক ব্যর্থতার পর এখন দায়েশ ও তাদের সমর্থকরা ইরাকে জাতিগত বিভেদ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। এ অবস্থায় বিদেশিদের ষড়যন্ত্র মোকাবেলার জন্য ইরাকের জনগণের মধ্যে ঐক্য জরুরি। দায়েশ সন্ত্রাসীদের প্রধান টার্গেট হচ্ছে ইরাকের সব ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে ধ্বংস করা। আর এ ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় ইরাকের সংবিধানের আওতায় সন্ত্রাসীদেরকে নির্মূল করা সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে। ইরাকিদের ঐক্য দেশ খণ্ড-বিখণ্ড করার বিদেশি ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে পারে। ইরাকে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করে আসছে। তাই বিদেশী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।

-সংগ্রহ

বাংলাদেশনিউজ
১১.০৩.২০১৭


Comments are closed.