>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

বেতন-ভাতার দাবিতে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ সংঘর্ষে আহত ১৫

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Gazipur Labor unrestগাজীপুরে বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ করেছেন।

শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল ছুড়েছে।

সংঘর্ষে বিদেশি নাগরিকসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে।

শিল্পাঞ্চল পুলিশ-২ (গাজীপুর)-এর সহকারী পুলিশ সুপার মো. আমিরুল ইসলাম জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বোর্ডবাজার সাইনবোর্ড এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট গ্রুপের পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রতি মাসের ৮-৯ তারিখে দেওয়া হয়। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা ওই নির্ধারিত তারিখে কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করেনি। এ নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে কয়েকদিন ধরে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। কারখানাটিতে প্রায় আট হাজার শ্রমিক কাজ করে। শ্রমিকদের দাবির মুখে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বুধবার রাতে আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে রাতে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ৮ মার্চ না দিয়ে ৯ মার্চ আংশিক এবং বাকি বেতন ১৬ মার্চ দেওয়ার ঘোষণা দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শ্রমিকরা কর্তৃপক্ষের ওই ঘোষণা মেনে না নিয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে রাতে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে কারখানায় ভাঙচুর চালায়। শ্রমিক অসন্তোষের কারণে কর্তৃপক্ষ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে ফটকে নোটিশ টাঙিয়ে দেয়।

পুলিশ জানায়, আজ সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে গিয়ে কারখানার ফটকে তালা ও অনির্দিষ্টকালের বন্ধের নোটিশ দেখে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এ সময় তাঁরা কারখানার সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে ওই মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের সড়কের ওপর থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষে দফায় দফায় চলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এতে সাতজন আহত হন। একপর্যায়ে পুলিশ কয়েকটি টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিপেটা করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। পুলিশ মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে সমস্যাটির দ্রুত সমাধানের আশ্বাসে দুপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, কালিয়াকৈর উপজেলার বাড়ৈপাড়া এলাকার হেচং পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবিতে বৃহস্পতিবার কারখানায় ভাঙচুর ও বিক্ষোভ করেছে। উত্তেজিত শ্রমিকদের হামলায় কারখানায় কর্মরত বিদেশি ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মারিয়া শিন, মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মাহে আলম, উৎপাদক ব্যবস্থাপক (পিএম) মো. মজনু ও সাগর, মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা (কিউসি) সুমন ও মার্চেন্ডাইজার মোহাম্মদ আলীসহ আটজন আহত হয়েছেন। তাদের সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কারখানার পরিচালক মো. শহীদুল ইসলাম লিটন জানান, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা প্রতি মাসের ৭-৮ তারিখের মধ্যে দেওয়া হয়। কিন্তু গত নভেম্বরে ইউরোপের একটি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় কারখানার উৎপাদন কাজে মন্দা অবস্থা দেখা দেয়। এ কারণে ফেব্রুয়ারির শুরুতে যথাযথ নিয়ম মেনে ১৭০০ শ্রমিক ছাঁটাইও করা হয়। কয়েকদিন ধরেই কারখানার প্রায় আট হাজার শ্রমিক তাঁদের বার্ষিক ছুটির টাকার দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছিলেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার শ্রমিক প্রতিনিধি ও কর্তৃপক্ষের এক সভায় আগামী ৩০ মের মধ্যে শ্রমিকদের বার্ষিক ছুটির টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আর্থিক সংকট থাকায় শ্রমিকদের পাওনা ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন ভাতা আগের নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে সোমবার পরিশোধ করার ঘোষণা দেয় কারখানার কয়েক কর্মকর্তা। এতে শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ওপর কর্মকর্তাদের চড়াও হয় এবং শারীরিকভাবে তাদের লাঞ্ছিত করেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত শ্রমিকরা কারখানার তৃতীয় ও চতুর্থ তলা এবং ইন্সপেকশনের দুটি কক্ষে ভাঙচুর করেন। এ ঘটনায় পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধের ঘোষণা দেয়।

এ ব্যাপারে শিল্পাঞ্চল পুলিশ জোন ২-এর সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. ফারুক মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ১০.০৩.২০১৭


Comments are closed.