>> কুমিল্লা বিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে রংপুর রাইডার্স বিপিএল ফাইনালে >> হবিগঞ্জে ৫ জেএমবি সদস্য আটক

গোসসায় ফেঁটে যাচ্ছেন রবি শাস্ত্রী

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

India Ravi Shastriভারতীয় সামাজিক মনঃস্তত্বে হাজার হাজার বছর ধরে যে শ্রেনীপ্রথা বা বর্ণপ্রথা বাসা বেঁধেছে, এন শ্রীনিবাসন সে কূপ্রথা চালু করেছিলেন ক্রিকেটের শাসক সংস্থা আইসিসিতে। “বিগ থ্রি” নামে সৃষ্টি হয়েছিল এক বাহ্মণ শ্রেনী। “বিগ থ্রি” ছিল ভারত, ইংল্যাণ্ড ও অষ্ট্রেলিয়া। আর তারাই বিভিন্ন কলাকৌশলে নিয়ে যাওয়ার কথা প্রায় অর্ধেক লাভ বা নীট আয়। এর পর বাকী ৭ দল। শ্রী নিবাসনের আমলে চালু হওয়া এই বিগ থ্রি ফর্মুলায় ‘কন্ট্রিবিউশন’ ভিত্তিতে আর্থিক বণ্টন নীতি চলছিল। এই পদ্ধতিতে আইসিসির আয়ের ২৭ ভাগ জমা পড়ত ভারতের খাতায়। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়াকে ভাগ দেওয়ার পর বাকি দেশগুলো লভ্যাংশের সামান্যই ভাগ পেত।

তবে ‘বিগ-থ্রি’ নীতি থেকে সরে এসেছে আইসিসি। এখন থেকে টেস্টখেলুড়ে সব দেশই সমানসংখ্যক টেস্ট খেলার সুযোগ পাবে। কেবল তাই নয়, এখন থেকে আইসিসি থেকে অর্জিত আয়ের লাভের অংশটা টেস্টখেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করা হবে। এমনটা হলে ভারত নিশ্চিতভাবেই ক্ষতির মুখে পড়বে। আইসিসির পুরোনো কাঠামো অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভারতের লাভ হওয়ার কথা ২৯৭৩.৫ কোটি রুপি। তবে সব দেশ সমানভাবে লাভের অংশ পেলে তা কমে দাঁড়াবে ১৭৩৭.২ কোটি রুপি। তবে এ সিদ্ধান্তের পক্ষে বাংলাদেশসহ আট দেশ। ব্রাহ্মণ ইংল্যাণ্ড ও অষ্ট্রেলিয়াও এই আট দেশের মধ্যে।এর বিরুদ্ধে কেবল ভারত ও শ্রীলংকা। শ্রীলংকা ঠিক সক্রিয়ভাবে বিরুদ্ধে নয়, ভারতের সমর্থক।

এ কারণে সরব হয়েছেন ভারতের নীতিনির্ধারক ও সাবেক ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসির এমন প্রস্তাবের বিপক্ষে গেছে কেবল ভারত ও শ্রীলঙ্কা। বাংলাদেশও বিগ-থ্রির প্রভাব কমানোর পক্ষে ভোট দিয়েছে। বাংলাদেশ ভারতের বিপক্ষে যাওয়ায় দারুণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন ভারতের সাবেক ক্রিরেকটার ও ধারাভাষ্যকার রবি শাস্ত্রী। গোসসায় ফেঁটে যাচ্ছেন তিনি। আক্রোশ প্রকাশ করতেও ছাড়েন নি। আনন্দবাজারে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক এই অলরাউন্ডার বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা ছাড়া আর কোন দেশ ভারতের পাশে দাঁড়াল না দেখে আমি বিস্মিত। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের কথা না হয় ছেড়ে দিলাম। কিন্তু বাংলাদেশ কী করে ভারতের বিরুদ্ধে গেল? ওদের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া থেকে শুরু করে সমস্ত অগ্রগতিটাই তো ভারতের হাত ধরে। কতবার ওদের অনুরোধে আমরা দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলে এসেছি। একই কাজ করল জিম্বাবুয়েও। এই সেদিনও ভারতীয় দল গিয়ে ওয়ানডে খেলে এলো ওদের দেশে।’

রবি বাবু হয়তো ভুলে গেছেন, ২০১৫ আইসিসি বিশ্বকাপে অষ্ট্রেলিয়ায় কী ভাবে বাংলাদেশকে হারানো হয়েছিল। টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার পর কী ভাবে দুইজন বোলারকে নিষিদ্ধি করা হয়েছিল। কী ভাবে আইসিসির কোড ভঙ্গ করে যেসব টেষ্ট প্রাসাঙ্গিক নয় সেই সেব টেষ্টে দিতে বাধ্য করে তাসকিনকে আটকানো হয়েছিল। তিন মিনিটে তিনটি বাউণ্সার, যা আইসিস’র ইতিহাসে ঘটে নি তাও করতে বাধ্য করা হয়েছিল। বাংলাদেশ প্রথম টেষ্ট খেলতে ভারতকে নিমন্ত্রণ করেছিল ২০০০ সালে। আর ভারত বাংলাদেশকে ডাকলো ২০১৭ সালে, তাও একটি মাত্র টেষ্ট। বাংলাদেশ কী করে ভোলে এসব? তবে এর চেয়েও বড় হ’ল নৈতিকতার প্রশ্ন। বাংলাদেশ কেন ক্রিকেট জগতে বর্ণপ্রথা সমর্থন করবে?

রবি শাস্ত্রী আবার হুমকিও দিয়েছেন! তিনি বলেন, আইসিসির নতুন কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হলে ক্ষতির মুখে পড়বে ক্রিকেট বিশ্ব। তিনি বলেন, ‘আইসিসি বলছে, সব দেশ নাকি সমান লভ্যাংশ পাবে। আইসিসির ঘরে ৮০ শতাংশ টাকা ঢুকছে ভারতীয় ক্রিকেটের দয়ায়। আমি মনে করিয়ে দিতে চাই যে, ভারতীয় ক্রিকেট হলো সোনার ডিম পাড়তে থাকা রাজহাঁস। ওই সোনার ডিম দিয়েই কোষাগার ভরছে। আর সেটাকেই কি না তোমরা কাটতে আসছ! আর সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে! কী আবদার! জিম্বাবুয়ে যা টাকা পাবে, আমাকেও তাই নিতে হবে। ওহে আইসিসি, রাজহাঁস কেটে ফেললে তোমাদের সোনার ডিমও যে বন্ধ হয়ে যাবে, সেটা ভেবে দেখেছ? তখন তো ক্রিকেটবিশ্বই আক্রান্ত হবে।’

(সম্পাদিত, পরিমার্জিত, পরিবর্ধিত)

বাংলাদেশনিউজ
১৭.০২.২০১৭


Comments are closed.