>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

উত্তর প্রদেশে বিজেপির জন্য বুমেরাং হতে পারে মুসলিম বিদ্বেষী প্রচার

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

UP mapভারতের উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারণা বেশ জমে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সমস্যা সমাধান কিংবা উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রতিশ্রুতি দেয়ার পরিবর্তে পরস্পরকে ঘায়েল করার দিকে বেশি মনযোগী হয়েছে। এরমধ্যে উগ্র হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি হিন্দু ভোটারদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে চরম মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য দিচ্ছে।

উত্তর প্রদেশের ক্ষমতাসীন দল সমাজবাদী পার্টি ও বহুজন সমাজবাদী পার্টির মোকাবিলায় বিজেপির অবস্থান ততটা সংহত নয়। এ কারণে হিন্দুত্ববাদী দলটির নেতারা সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠীর ভোট টানার জন্য সংখ্যালঘু মুসলমানদের বিরুদ্ধে চরম উস্কানিমূলক বক্তব্য দিতে শুরু করেছেন। তারা জনগণকে একথা বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, রাজ্যের সব হিন্দু মুসলমান হয়ে যাচ্ছে, মুসলমানরা হিন্দুদের ধর্মীয় চেতনায় আঘাত করে গরুর গোশত ভক্ষণ করে যাচ্ছে এবং সব হিন্দু তরুণী মুসলিম তরুণদের বিয়ে করে ধর্মত্যাগ করছে।

বিহার বা পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যগুলোর বিধানসভা নির্বাচনের প্রভাব সাধারণত ওই রাজ্যগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু উত্তর প্রদেশের নির্বাচনের ফলাফল সারা ভারতের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে বলে সব রাজনৈতিক দল এই রাজ্যের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চায়।

আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি উত্তর প্রদেশ আইনসভার নির্বাচন শুরু হবে এবং সাত দফায় তা ৮ মার্চ পর্যন্ত চলবে। প্রায় ২০ কোটি জনসংখ্যা অধ্যুষিত উত্তর প্রদেশ ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য এবং এই জনগোষ্ঠীর শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ মুসলমান। কাজেই সংখ্যালঘু এই জনগোষ্ঠীর ভোট বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণে নিয়ামক ভূমিকা পালন করে।

আসন্ন নির্বাচনে ক্ষমতাসীন সমাজবাদী পার্টি কেন্দ্রের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট গঠন করেছে। এই জোটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে বহুজন সমাজ পার্টি এবং বিজেপি। মুসলিম দল ও সংগঠনগুলো সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতীর নেতৃত্বাধীন বহুজন সমাজ পার্টি বা বিএসপি’র প্রতি সমর্থন ঘোষণা করায় সমাজবাদী জোট এবং বিজেপি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।

উত্তর প্রদেশের মুসলমানরা অভিযোগ করছেন, ক্ষমতাসীন সমাজবাদী পার্টি বিগত নির্বাচনে তাদেরকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। এটি মুসলিম ভোট ব্যাংক ব্যবহার করে ক্ষমতায় গেলেও তাদের স্বার্থে কোনো কাজ করেনি বরং অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে কাজ করেছে।

এদিকে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি বড় নোট বাতিল করাকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম বিপর্যকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। উত্তর প্রদেশের আসন্ন নির্বাচনে এ বিষয়টি হিন্দুত্ববাদী দলটির বিপক্ষে যাবে। কাজেই দেখা যাচ্ছে, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং উত্তর প্রদেশে ক্ষমতাসীন সমাজবাদী পার্টি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নড়বড়ে অবস্থানে রয়েছে। ঠিক এ কারণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সম্প্রতি বলেছেন, উত্তর প্রদেশের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য তার দল প্রচুর বিনিয়োগ করেছে।

কিন্তু তারপরও বিজেপি নেতাদের চরম মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য প্রমাণ করছে, সাধারণ মানুষের ভোট আকৃষ্ট করতে দলটি তেমন সফল হয়নি। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি রায় দিয়েছে, নির্বাচনে কোনো দল ধর্মকে পুঁজি করে প্রচারণা চালাতে পারবে না। কিন্তু সে রায় লঙ্ঘন করে বিজেপি নেতারা উগ্র হিন্দুত্ববাদী স্লোগান ও মুসলিম বিদ্বেষী বক্তব্য প্রচার করে যাচ্ছেন। কিন্তু এ ধরনের বিদ্বেষ ছড়িয়ে অতীতে ভোটারদের আকৃষ্ট করা গেলেও বর্তমান যুগে এই কৌশল অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তাদের মতে, উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি মারাত্মক ফল বিপর্যয়ের মুখে পড়বে; ২০১৯ সালে অনুষ্ঠেয় লোকসভা নির্বাচনে যার প্রভাব হবে ভয়াবহ।

-সংগ্রহ

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ০৮.০২.২০১৭


Comments are closed.