>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

বগুড়ার পোড়াদহ মেলায় লাখ টাকার বাঘাইড় মাছ

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Bogura Bagairবুধবার বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় দেড়শতাধিক বছরের ঐতিহ্যবাহী পোড়াদহ মেলা শুরু হয়েছে। সন্যাসির মেলা দিয়ে শুরু হয় পোড়াদহ মেলা। কালের বিবর্তনে এখন বলা হয় মাছের মেলা। স্থানীয়রা বলেন, জামাই-মেয়ে মেলা। মেলার প্রথম দিন জামাই বরণ এবং দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার বউমেলার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়ে যাবে ঐহিত্যবাহী পোড়াদহ মেলা।

জানা যায়, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নে ইছামতি নদীর শাখা (খাল) সংলগ্ন পোড়াদহ নামক স্থানে বসে এই মেলা। প্রায় দেড়শতাধিক বছর আগে বগুড়া-চন্দনবাইশা সড়ক সংলগ্ন পোড়াদহ খালের পাড়ে এক বিশাল বটবৃক্ষ তলে আয়োজন করা হতো সন্যাসী পূজার। প্রতি বছরের মাঘ মাসের শেষ বুধবার আয়োজিত এই মেলা কালের বিবর্তনে হয়ে ওঠে পূর্ব বগুড়াবাসীর মিলনমেলা।

পোড়াদহ নামক স্থানে হয় বলে এ মেলার নাম হয়ে যায় পোড়াদহ মেলা। এ মেলাকে ঘিরে আশপাশে প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ মেয়ে ও মেয়ে জামাইকে নিমন্ত্রণ দিয়ে আপ্যায়ন করে থাকে। তাদের সাথে নিমন্ত্রণ দিয়ে থাকে স্বজনদের। এ কারণে স্থানীয়রা আবার এ মেলাকে জামাই-মেয়ে মেলা বলে থাকে। ইছামতীর খালের পশ্চিমপাশের খোলা মাঠে হাজার হাজার মানুষের সমাবেশ ঘটে এই মেলায়। মেলা উপলক্ষে পার্শ্ববর্তী অন্তত ২০ গ্রাম আত্মীয়-স্বজন, বন্ধুবান্ধবদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

নদী তীরবর্তী স্থানে এই মেলায় দিন দিন নানা প্রজাতির মাছের আমদানি হতে থাকে। এক সময় তা এই অঞ্চলে মাছের মেলা হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা হরেক প্রজাতির বিশাল আকৃতির মাছ এই মেলার প্রধান আকর্ষণ। মেলায় আসা মাছ বিক্রেতাদের মধ্যে এক ধরনের বড় মাছ বিক্রির প্রতিযোগিতা লেগে যায়। যে যত বড় মাছ মেলায় তুলতে পারবে তত তার নাম ডাক।

এবার পোড়াদহ মেলায় একটি বাঘাইড় মাছ উঠেছে, যার ওজন ৮২ কেজি ৫ শ’ গ্রাম। এ মাছের দাম হাকা হয়েছে সব্বোর্চ , ১৫০০ টাকা কেজি দরে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। তবে দুপুর পর্যন্ত ১২শ টাকা কেজি দাম বলেছে ক্রেতারা। বাঘাইড় মাছটি নিয়ে এসেছেন গাবতলী উপজেলার মহিষাবান গ্রামের মাছ ব্যবসায়ি দুখু মিয়া। রাজশাহীর গোদাগাড়ী থেকে আনা মাছটি পদ্মা নদীর বলে তিনি জানান।

এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির ও আকারের মাছও এবারের মেলায় উঠেছে। উঠেছে বোয়াল মাছ ১০ কেজি, কাতল মাছ ৪০ কেজি, রুই মাছ ১০ কেজি, পাঙ্গাস মাছ ১৫ কেজি ওজনের। গাবতলী উপজেলার মড়িয়া গ্রামের মাছ বিক্রেতা ইসলাম জানান, এবারের মেলায় তিনি ৪০ কেজি ওজনের কাতলা মাছ নিয়ে এসেছেন। মাছটির দাম হাকা হয়েছে ২০০০ টাকা কেজি দরে ৮০,০০০ টাকা। তিনি বলেন, মেলায় বিভিন্ন সাইজের মাছ রয়েছে। বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে শুরু করে ২০০০ টাকা কেজি পর্যন্ত।

মাছ বিক্রেতাদের সাথে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে মিষ্টি বিক্রেতারাও। গত কয়েক বছরে তাদের মধ্যে এ প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। গত বছরের পরে এবছরও একটি ২০ কেজি ওজনের মিষ্টি বিক্রি হয়েছে। ষেযদ আহম্মেদ কলেজ এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাকের দোকানে এ মিষ্টি বিক্রি হয়েছে ৮ হাজার টাকায়। এছাড়া এক কেজি, দুই কেজি, ৩ কেজি, ৪ কেজি ওজনের মিষ্টিও মেলায় পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন নামে।

এ মেলায় মাছ, মিষ্টি, ফর্নিচার, বরই, পান-শুপারী, তৈজস পত্র, খেলনা বিক্রি হলেও মেলাটি এখন মাছের জন্য বিখ্যাত। মেলাকে ঘিরে মেয়ে ও মেয়ে জামাইকে নিয়ে বাড়ি বাড়ি চলে আনন্দ উৎসব। মেলায় যেমন মাছের আকর্ষন তেমনি বাড়ি বাড়ি জামাই আকর্ষণ। কোন জামাই কত বড় মাছ কিনেছে তা নিয়েও চলে প্রতিযোগিতা। জামাইরা শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে যায় মিষ্টি হাতে।

বুধবার প্রথম দিনের মেলা শেষ হলে দ্বিতীয় দিন বৃহস্পতিবার একই স্থানে বসবে বউমেলা। এ মেলায় বাড়ির গৃহিনী বা মহিলাদের জন্য আয়োজন করা হয়ে থাকে। মেলার প্রথম দিন পুরুষদের ভিড়ের জন্য মহিলারা যেতে পারে না। এ কারণে পরের দিন মহিলাদের জন্য অনুষ্ঠিত হয় বউমেলা।

-বাসস

বাংলাদেশনিউজ
০৮.০২.২০১৭


Comments are closed.