>> দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে >> রংপুর পীরগঞ্জে ট্রাক উল্টে ঈদে ঘরমূখী ১৭ জন নিহত >> চীনের সিচুয়ান প্রদেশে জিনমো গ্রামে ভূমি ধ্বসে ১০০ মানুষ নিঁখোজ >> পাকিস্তানের পারাচিনারে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ >> টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে ৪ জন নিহত

দায়েশ বিরোধী যুদ্ধে ইরাককে সাহায্য করতে রাশিয়া প্রস্তুত

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Tu-22-bomber 1পল কায়সার নামে রাশিয়ার একজন বিশ্লেষক রাশিয়া ইনসাইডার পত্রিকায় প্রকাশিত নিবন্ধে মত প্রকাশ করেছেন যে, দায়েশ বিরোধী যুদ্ধে ইরাককে সাহায্য করতে রাশিয়া প্রস্তুত।

নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, চলমান অস্ত্রাবরতি ধরে রাখা সিরিয়ার জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে সিরিয়ায় একটি মোটামুটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক সমাধান এখনও একটি প্রত্যাশা হিসেবে থেকে যাচ্ছে, কারণ অস্ত্রবিরতি দীর্ঘায়িত করে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।

তিনি লিখেছেন, অস্ত্রবিরতি ধরে রাখা বিশাল চ্যালেঞ্জ তার কারণ সিরিয়ার সাথে ইরাকের সূদীর্ঘ সীমান্ত। এ সীমান্ত ব্যবহার করেই ইরাক এবং অন্যান্য দেশ থেকে শত শত সন্ত্রাসী সিরিয়ায় প্রবেশ করছে, প্রবেশ করছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ। লোকবল ও অস্ত্র বহণসহ যুদ্ধের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে শত শত টয়োটা (পিক-আপ) গাড়ি। এ কারণে সিরিয়ার দায়েশ বার বার নভিু নিভু অবস্থায় গিয়েও আবার প্রজ্জ্বলিত হয়ে উঠছে।

অপরদিকে ইরাক নিজেই দায়েশ সমস্যায় জর্জরিত এবং দেশের পুরো এলাকা সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। ঐ দেশটির সেনাবাহিনীকেও দেশের মধ্যে অনেকগুলি ফ্রন্টে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ফলে ইরাক-সিরিয়া সীমান্তে নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা এবং দায়েশের সিরিয়ায় প্রবেশ বন্ধ করা এই মুহূর্তে তাদের পক্ষেও সম্ভব নয়।

পল কায়সার বলেন, এই বাস্তবতায় রাশিয়া সিরিয়ার মত ইরাককেও দায়েশ দমনে সামরিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে, যাতে ইরাকে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা যায় এবং উভয় দেশের যৌথ সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা বিধান করা যায়।

এ প্রসঙ্গে সোমবার রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ মস্কোতে বলেছেন, “সামগ্রিক অর্থে বলতে গেলে, আমাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, ইসলামিক ষ্টেট কেবল মাত্র সিরিয়ায় তৎপর নয়, তারা ইরাকেও সমানভাবে তৎপর। বাগদাদের অনুমতি নিয়ে আমেরিকার নেতৃত্বে একটি কোয়ালিশন সেখানে কাজ করছে। তারপরও আমি এমন সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছি না যে, ইরাক সরকার যদি আগ্রহ দেখায়, তাহলে আমরা তাদেরকে বাড়তি সহায়তা প্রদান করতে পারি, নিদেন পক্ষে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে এবং আরও অনেকভাবে”।

পল কায়সার বলেন, এ কথার মাধ্যমে ল্যাভরভ যে শুধু গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করার কথা বলেছেন সেটা মনে করার কোন কারণ নেই। এজন্য যে, ইতোমধ্যে রাশিয়া, ইরান, ইরাক ও সিরিয়ার যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বাগদাদ কেন্দ্রের মাধ্যমে গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে। বস্ততঃ ল্যভরভের শেষ কথাটা- “আরও অনেকভাবে”, এখানে বিশেষ প্রণিধানযোগ্য।

মস্কো যখন সিরিয়ায় সামরিক অভিযান শেষ করার জন্য একটি তারিখ-রেখা নির্দেশ করতে চায়, আর সেটা করতে হলে ইরাকেও দায়েশ দমন করে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হবে। সেটা করতে না পারলে এ পর্যন্ত সিরিয়ায় যা কিছু অর্জিত হয়েছে, তাও ভেস্তে যেতে পারে। এমতাবস্থায়, আমরা কী তাহলে রাশিয়া ও আমেরিকার জঙ্গী বিমানগুলোকে পাশাপাশি ইরাকের আকাশে উড়তে দেখব? প্রশ্ন পল কায়সারের।

পাল কায়সার বলেন, এটা কল্পনা করা কঠিন, তবে সে সম্ভাবনা আমি বাতিল করতে চাই না। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে আমরা সেটাই দেখতে পাবো।

বাংলাদেশনিউজ
৩১.০১.২০১৬


Comments are closed.