>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

পশ্চিমা গণমাধ্যম এখন মুখে কূলুপ এঁটেছে

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Aleppo Bustan Al-Qasr 1গত বছর ডিসেম্বর মাসের ১৩ তারিখ সিএনএন, আল-জাজিরা, বিবিসিসহ পশ্চিমা প্রধান প্রধান টেলিভিশন চ্যানেল খবর প্রচার করে যে, ১২ ডিসেম্বর সিরিয় সেনাবাহিনী পূর্ব আলেপ্পোর পূর্ব আলেপ্পোর বুস্তান আল-কাসর, আল-কাল্লেসেহ, আল-ফিরদৌস এবং আল-সালহীন এলাকার চারটি বাড়িতে ঢুকে নারী-শিশুসহ ৮২ জন বেসামরিক ব্যক্তিকে হত্যা করেছে। এ ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যাযিত করে দাবী করা হয় নিহতদের মধ্যে ১১ জন নারী ও ১৩ জন শিশু ছিল। ইউরোপ ও আমেরিকার প্রধান প্রধান সকল সংবাদপত্রেও ফলাও করে এ খবর প্রকাশিত হয়।

আমেরিকা, জার্মানী, ব্রিটেন, ফ্রান্, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট আসাদকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে এবং অঅন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে আসাদসহ সিরিয় কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’র অভিযোগে মামলা দয়েরের আহবান জানায়। এমন কি জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্তার তৎকালীর প্রধান রূপার্ট কালভিল ঘটনার ‘সত্যতা’ নিশ্চিত করে  আসাদকে ব্যক্তিগতভাবে দায়ী করে তীব্র নিন্দা জানান। বান কি মুন ব্যক্তিগতভাবেও তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘের একাধিক সংস্থা এ ঘটনার তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য সিরিয়ার আসাদ সরকারের প্রতি আহবান জানায়। শুধু তাই নয়, সপ্তাহখানেক পরে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, সিরিয় সেনাদের ‘গণহত্যা’ তদন্তে সিরিয়া সরকার সহযোগিতা করছে না।

সিরিয়া সরকার এবং রাশিয়া জানায় এরকম কোন ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের জানা নেই। তারপরও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে সিরিয়া সরকার ও প্রেসিডেন্ট আসাদকে ব্যাক্তিগতভাবে দায়ী করে একটি প্রস্তাব পাস করার চেষ্টা করে আমেরিকা ও তার সহযোগী দেশ গুলো। জাতিসংঘে রাশিয়ার প্রতিনিধি পশ্চিমাদের কাছে এ ঘটনার অকাট্য প্রমাণ দাবী করেন। মার্কিন প্রতিনিধি জানান আসাদ তাদেরকে তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহ করতে দিচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি পাস বন্ধ করতে বাধ্য হয়ে রাশিয়াকে ভেটো প্রয়োগ করতে হয়। কিন্তু পশ্চিমা গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে প্রপাগাণ্ডা অব্যাহত থাকে।

ইতোমধ্যে, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে পূর্ব আলেপ্পো দায়েশমুক্ত হলে, মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, জাপান ও চীনের শত শত টিভি এবং প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিক আলেপ্পোতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন সেই গণহত্যার খবর ও তথ্য সংগ্রহ করতে। তাঁরা তন্ন তন্ন করে পূর্ব আলেপ্পো চষে ফেলেন, কিন্তু কোথায় এ গণহত্যা ঘটেছে তার হদিশ বের করতে ব্যর্থ হন। স্থানীয় অধিবাসীরাও এমন কোন ঘটনার তথ্য দিতে পারেন নি। যে সমস্ত দায়েশ সন্ত্রাসী সিরিয় সেনাদের হাতে ধরা পড়েছিল তারাও কথিত ঐ গণহত্যার স্থান বা ঠিকানা সম্পর্কে কিছু বলতে পারে নি। যে ৮২ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে বলে খবরে প্রচার করা হয়েছিল তারা কার ছেলে, কার মেয়ে, কার স্বামী, কার স্ত্রী সে সম্পর্কেও কোন তথ্য সাংবাদিকরা বের করতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত খবরটি নির্জলা মিথ্যা এবং সম্পূর্ণ বানোয়াট প্রমাণিত হয়।

এই যে আলেপ্পোয় কথিত গণহত্যার সংবাদ মিথ্যা এবং বানোয়াট প্রমাণিত হ’ল, সে বিষয়েও কনে খবর পশ্চিমা টিভি চ্যালেন বা সংবাদপত্রে প্রচার বা প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যম মুখে কূলুপ এঁটে বসে আছে।

ইউরোপ আমেরিকার গণমাধ্যমের একটি অংশ যে বর্তমানে পশ্চিমা সামরিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এবং আধিপত্যবাদী লক্ষ্য অর্জনে গোয়েন্দা সংস্থা সমূহের ডান হাত, বাঁ হাত ও প্রপাগাণ্ডা মেশিন হিসেবে কাজ করছে তা সিরিয়ার এই ঘটনায় আরও একবার প্রমাণিত হ’ল।

বাংলাদেশনিউজ
২৩.০১.২০১৬


Comments are closed.