>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

মার্কিন জেনারেলরা মসুলে মুখ রক্ষায় নেমেছেন

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

US generals attempt save face in Mosulসন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ না দিয়ে, বরং পেছন থেকে সন্ত্রাসীদের সব রকম সাহায্য-সহায়তা দিয়েও সিরিয়াতে আমেরিকা আলেপ্পোর পতন ঠেকাতে পারেনি। প্রকৃতপক্ষে, আসাদ বাহিনীর হাতে আলেপ্পোর পতন হবে এটা তারা কলপ্নাও করেনি। সবচেয়ে বড় কথা, আলেপ্পোয় তাদের ভূমিকা গোপন থাকেনি। তাই এখন মার্কিন জেনারেলরা ইরাকের মসুলে মুখ রক্ষায় নেমেছেন।

মসুলে ইরাকী বাহিনীর বিজয় অভিযান তাদেরকে আরও বেকায়দায় ফেলেছে। সপ্তাহ দু’য়েক আগে এক মার্কিন জেনারেল বলেছিলেন, মসুল মুক্ত করতে দুই বছর লেগে যাবে। তখন ইরাকী প্রধানমন্ত্রী হায়দার এবাদি বলেছিলেন, তিন মাসের মধ্যে ইরাক দায়েশমুক্ত হবে। তারপর, মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে পূর্ব মসুল মুক্ত করে নিয়েছে ইরাকী বাহিনী। এ জন্য তাদের বড় ধরনের কোন যুদ্ধও করতে হয়নি। এখন পশ্চিম মসুল মুক্ত করা বাকী। সেটা করতেও ইরাকী বাহিনীর এক দেড় মাসের বেশী সম্ভবতঃ লাগবে না। তারপর ইরাককে দায়েশমুক্ত করতে তেমন একটা বেগ পাওয়ার কথা নয়। কারণ, দায়েশই বলছে, মসুলের পতন হলে ইরাকে আর এমন কোন জায়গা তাদের নিয়ন্ত্রণে নেই যেখানে তারা আশ্রয় নিতে পারে।

এসব দেখেশুনে, এতদিন পর কানে পানি ঢুকেছে মার্কিন জেনারেলদের। তারা বুঝতে পেরেছেন, প্রধানমন্ত্রী এবাদির কথাই ঠিক। তারপর আবার গোদের উপর বিঁষ ফোঁড়ার মত নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরাকে মার্কিন জোটের দায়েশ বিরোধী যুদ্ধ নিয়ে সন্দেহ প্রক্শ করেছেন। তাই মার্কিন জেনারেলরা তড়িঘড়ি করে বাড়তি সেনা এনেছেন মসুলে। তাদের চলাচলের মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের দুষ্টি আকর্ষণ করে বোঝাতে চাইছেন, মসুল দায়েশমুক্ত করতে তারাও সক্রিয়। মসুলসহ ইরাকের বিভিন্ন এলাকায় দায়েশের বিরুদ্ধে ইদানিং দৃশ্যমান কিছু বিমান হামলাও পরিচালনা করছে মার্কিন বাহিনী। এসব তৎপরতায় একটি বিষয় পরিস্কার। আর তা হ’ল, তারা আলেপ্পোর মত বাদ পড়তে ও নতুন করে বদনামের ভাগীদার হতে চাইছেন না। ইরাক ও মসুলে তাই শেষ বাজারে মুখ রক্ষায় নেমেছেন মার্কিন জেনারেলরা।

বাংলাদেশনিউজ
২১.০১.২০১৬


Comments are closed.