>> আইন সচিব জহিরুল হকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ তিন মাস স্থগিত : হাইকোর্ট >> না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাক >> উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে রেল ঢাকার যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে >> কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে >> সিঙ্গাপুরে মার্কিন ডেষ্ট্রয়ার ও তেলবাহী জাহাজের সংঘর্ষ ১০ নাবিক নিখোঁজ >> রাশিয়ার বিমান হামলায় ২০০ দায়েশ সন্ত্রাসী নিহত

ভারতের তামিলনাড়ুতে জাল্লিকাট্টু আন্দোলন

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

India Jallikatuভারতের তামিলনাড়ুতে জাল্লিকাট্টু (ষাঁড়ের দৌড়) শুরুর দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়েছে। তামিলনাড়ু রাজ্যে এ নিয়ে শুক্রবার বনধ পালিত হয়। আন্দোলনকারীদের সমর্থনে চেন্নাইয়ের মেরিনা সৈকতে অনশন শুরু করেছেন বিশিষ্ট সঙ্গীতকার এ আর রহমানও। সমর্থন জানিয়েছেন সাবেক বিশ্বসেরা দাবা খেলোয়াড় বিশ্বনাথন আনন্দসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। কার্যত এ নিয়ে রাজ্যটিতে গণআন্দোলনের ঢেউ আছড়ে পড়েছে।

২০১৪ সালে একটি আবেদনের ভিত্তিতে জাল্লিকাট্টু নিষিদ্ধ করেছিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একটি ছুটন্ত ষাঁড়কে কৌশলে কাবু করার ঐতিহ্যবাহী এই খেলায় পশু নির্যাতন হয় এমন কারণ দেখিয়ে এর ওপর তখন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

তামিলনাড়ু সরকার গত বছর এবং চলতি বছরেও ওই রায় পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানায়। গতবছর আদালত ওই আবেদন খারিজ করে দেয়। তামিলনাড়ু বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে জাল্লিকাট্টুর সমর্থনে একটি বিলও পাস করা হয়। এছাড়া অর্ডিন্যান্স জারি করে জাল্লিকাট্টুকে বৈধতা দেয়ার জন্য রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।

চলতি সপ্তাহ থেকে তামিল সংস্কৃতির অঙ্গ জালিকাট্টু ফিরিয়ে আনার দাবিতে তামিলনাড়ুতে তুমুল আন্দোলন শুরু হয়েছে। চেন্নাইয়ের মেরিনা সৈকতে শুক্রবার এ নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ, ধর্না-অবস্থান কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

জালিকাট্টু নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অবস্থানকে ‘তামিল সংস্কৃতির পক্ষে অপমানজনক’ বলে অভিহিত করেছে বিক্ষোভকারীরা। তারা প্রধানমন্ত্রীর ছবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ডে কালি মাখিয়ে এবং কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী মেনকা গান্ধীর বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। ওই ঘটনা কেন্দ্রীয় হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের পক্ষে অস্বস্তিকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পনিরসেলভাম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দেখা করে জাল্লিকাট্টু চালুর দাবিতে অর্ডিন্যান্স জারির কথা বলেছেন। নরেন্দ্র মোদি অবশ্য বলেছেন, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে এখনো বিচারাধীন। তাই কেন্দ্রের পক্ষে অর্ডিন্যান্স আনা সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রীর এমন মনোভাবে বেজায় চটেছেন বিক্ষোভকারীরা।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং সুপ্রিম কোর্ট কী ভূমিকা নেয় সেটিই এখন লক্ষণীয় বিষয়। দেশের সুপ্রিম কোর্টের রায় বহাল থাকবে? না, চিরাচরিত ঐতিহ্য ও তামিল সংস্কৃতির অঙ্গ হিসেবে পুনরায় জালিকাট্টু বহাল হবে? এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশনিউজ
২১.০১.২০১৬


Comments are closed.