>> কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে >> স্পেনের বার্সেলোনায় পথচারীদের উপর ভ্যান নিহত ১৩ আহত ৫০ >> সিরিয়ায় মার্কিন জোটের বিমান হামলায় ৬ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত

আত্মহত্যার কথা রটিয়ে দিয়ে হিটলার আর্জেন্টিনায় পালিয়ে গিয়েছিলেন

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Hitlerকথাটি বহুকাল ধরে আলোচনায় ছিল, এখনও আছে। সেটা হ’ল হিটলার তার আত্মহত্যার একটি বানোয়াট কাহিনী রটনা করে দিয়ে ডেনমার্কে পালিয়ে যান এবং সেখান থেকে আর্জেন্টিনা চলে যান। তবে কিছু পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য প্রমাণ ব্যতীত এ কাহিনীর স্বপক্ষে অকাট্য কোন প্রমান এ পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। তবে এমনটা অনেকে বিশ্বাস করতেন এবং করেন। কারণ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হাজার হাজার নাৎসী নেতা ও সেনা কমাণ্ডার পালিয়ে ল্যাটিন আমেরিকা চলে গিয়েছিল। বিশেষ করে বহু জার্মান পালিয়ে আর্জেন্টিনায় গিয়েছিল।তারপর বিগত শতাব্দীর আট-নয় দশক পর্যন্ত তাদের অনেককে ফিরিয়ে এনে জার্মানীতে বিচার করা হয়েছিল। সন্দেহভাজন যারা মারা গিয়েছিল তাদের হাড় সংগ্রহ করে এনে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শণাক্ত করা হয়েছিল।

আসলে জার্মানীর সাবেক নাৎসি নেতা এডলফ হিটলার এবং তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেননি বরং আর্জেন্টিনা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। আত্মহত্যার কথা রটিয়ে দিয়েই তারা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিলেন। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র সাবেক কর্মকর্তা রব বেয়ার এবং মার্কিন স্পেশাল ফোর্সেস’এর সদস্য টিম কেনেডির অনুসন্ধানে এ তথ্য ওঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। আল-কায়েদার সাবেক নেতা ওসামা বিন লাদেন এবং আবু আজ-জারকাভি গ্রেফতারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন টিম কেনেডি।

১৪ হাজার দলিলপত্র ঘেঁটে এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন তারা। অনুসন্ধানে দেখা গেছে ৩০ এপ্রিল, ১৯৪৫ সালে হিটলার তার স্ত্রী ইভা ব্রাউনসহ আত্মহত্যা করেছেন বহুল প্রচলিত কাহিনীর বিকল্প সত্যও থাকতে পারে। ব্রিটিশ গোয়েন্দা বাহিনীর একটি দলিলে বলা হয়েছে, কথিত আত্মহত্যার আগের দিন জার্মানির রাজধানী বার্লিন থেকে বিমানযোগে হিটলারকে নিয়ে গেছেন জার্মানির বিমানবাহিনী লুফটবাফের পাইলট ক্যাপ্টেন পিটার বুমগার্ট।

অনুসন্ধান চালাতে যেয়ে আরো দেখা গেছে, বার্লিনে হিটলারের বাঙ্কারে পঞ্চম একটি বহির্গমন পথ ছিল। এর আগে এ পথ সম্পর্কে কেউ কিছুই জানতেন না। বা এটি তাদের নজর এড়িয়ে গেছে। এ পথ দিয়ে এমন এলাকায় যাওয়া সম্ভব ছিল, যেখানে বিমান ওঠানামা করার উপযোগী রানওয়ের মত বিশাল খোলামেলা জায়গাও ছিল।

hitler and evaএ ছাড়া,আরেকটি দলিলে দেখা যায়, ডেনমার্কে হিটলারকে দেখার দাবি করেছেন জার্মানির কুখ্যাত বিশেষ বাহিনী এসএস’এর এক কর্মকর্তা। চূড়ান্ত গন্তব্যে যাওয়ার জন্য ডেনমার্কে প্লেন পরিবর্তন করেছিলেন হিটলার। আর্জেন্টিনায় ফোর্থ রাইখের কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল হিটলারের, এমন ধারণা ব্যক্ত করেছেন বায়ের।

এ দাবির স্বপক্ষে কিছু বক্তব্যও তুলে ধরেছেন তিনি। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর আর্জেন্টিনায় হাজার হাজার নাৎসি জড়ো হয়েছিল। এ ছাড়া, নাৎসি পদার্থবিদরা স্থানীয় একটি পরমাণু স্থাপনায় কাজ করতে শুরু করার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি। বিস্ফোরণ ঘটানোর কাজে ব্যবহৃত একটি যন্ত্র পরীক্ষার জন্য তারা সেখানে জড়ো হয় বলে দাবি করেছেন বায়ের।

হিটলারের দেহাবশেষ বলতে একটি মাত্র চোয়ালের হাড়ই কেবল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। এটি রয়ে গেছে ক্রেমলিনের হাতে। এটি পরীক্ষা না করে এ কাহিনীর চূড়ান্ত রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে না। ক্রেমলিন সে হাড় পরীক্ষা করতে দেবে কিনা এখন সে জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

বাংলাদেশনিউজ
১৭.০১.২০১৬


Comments are closed.