>> ইউএনও তারিক সালমনের ঘটনায় বরিশাল ও বরগুনার ডিসি প্রত্যাহার >> জর্দানে ইসরাইলি দূতাবাসে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলায় নিহত ২ দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা >> আফগানিস্তানে ঘোর প্রদেশে হাসপাতালে তালেবান হামলায় নিহত ৩৫ >> লাহোরে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের কাছে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ২৫ >> কাবুলে ভয়াবহ গাড়ি বোমা হামলা নিহত ৩৫ আহত ৪২ >> ইসরাইলি বর্বরতায় পশ্চিম তীরে আরও ২ ফিলিস্তিনি নিহত

বাংলাদেশে ৭৫’র পর থেকে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয় : প্রধানমন্ত্রী

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

hasina-4বাংলাদেশে ৭৫’র পর থেকে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু হয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের জনসভায় একথা বলেন।

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১০ জানুয়ারি বাঙালির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে প্রথমে লন্ডন ও পরে দিল্লি হয়ে ১৯৭২ সালের এ দিনে স্বাধীন বাংলার মাটিতে ফিরে আসেন। তিনি একটি স্বাধীন দেশ কিভাবে পরিচালিত হবে সেই পথ দেখিয়েছিলেন। একটি বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার কাজ শুরু করেছিলেন। প্রতিটি মানুষের মনে উন্নয়নের আশা জেগেছিল। ঠিক সেই সময় অন্ধকার ১৫ আগস্ট নেমে এসেছিল।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে ২৫/৩০ বছর আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশ হতো।’

সমাবেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সোহরাওয়ার্দী মাঠ থেকে দেশ স্বাধীনের ভাষণ দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। জাতির পিতার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশের মানুষ অস্ত্র হাতে নিয়ে নয় মাস যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করেছিল। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছিল এ দেশের জনগণ। ৩২ নম্বরের বাসা থেকে বঙ্গবন্ধু যেসব নির্দেশ দিতেন, তা জনগণ মেনে নিতো। কিন্তু ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ হানাদার বাহিনী এদেশে গণহত্যা শুরু করে। ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু দেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করে দেশকে শত্রুমুক্ত করার আহ্বান জানান। তার ডাকেই সাড়া দিয়ে যুদ্ধ করে এদেশের মানুষ দেশকে স্বাধীন করে। এই মাঠেই হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করেছিল।’

তিনি বলেন, “যুদ্ধের ভয়াবহতা কাটিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে তখনই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত‌্যা করা হয়। আর এরপর যারাই ক্ষমতায় এসেছে, ‘নিজেদের আখের গোছানোই’ ছিল তাদের একমাত্র লক্ষ‌্য ছিল।”

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর যারা ক্ষমতায় এসেছে, তারা কখনো জাতিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দিতে চায়নি। কারণ তাদের দেহ এ দেশে থাকলেও মন পড়ে থাকত পাকিস্তানে।’

10-januaryপ্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই উদ্যানেই বঙ্গবন্ধু কীভাবে একটি স্বাধীন দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করা যায়, তার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিলেন। তিনি ভাষণে বলেছিলেন, ‘আমার দেশের প্রতিটি মানুষ খাদ্য, আশ্রয় পাবেন, উন্নত জীবন পাবেন , এই আমার স্বাপ্ন।’

বিকাল সোয়া ৪টায় প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে বক্তব্য শুরু করেন। এরআগে পৌনে ৪টার দিকে তিনি সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। আজ মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৩টার দিকে ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মধ‌্য দিয়ে জনসভার কার্যক্রম শুরু করেন দলীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক হাছান মাহমুদ।

এদিকে পূর্বঘোষিত এ কর্মসূচিতে দুপুর ১২টা থেকে ঢাকা মহানগর ও জেলা এবং আশপাশের জেলা থেকে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে আসতে শুরু করেন।

এ সময় বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর কাছ থেকে রাজনীতি শিখতে হবে, গণতন্ত্র শিখতে হবে—সেটা বাংলাদেশের মানুষ কোনোভাবে মেনে নেবে না। আজকে দেশের মানুষ শান্তিতে আছে, স্বস্তিতে আছে। দেশের মানুষ সুন্দর জীবনের স্বপ্ন দেখে। মানুষ যখন ভালো থাকে, তখন তাঁর অন্তরজ্বালা সৃষ্টি হয়। এটাই হচ্ছে দুর্ভাগ্যের।’

খালেদার উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, ‘এতিমের টাকা চুরি করে খেয়েছেন। এতিমের নামে টাকা এসেছে। মামলায় হাজিরা দিতে যান। একদিন যান তো ১০ দিন যান না। পালিয়ে বেড়ান, ব্যাপারটা কী? এতেই তো ধরা পড়ে যায় যে চোরের মন পুলিশ পুলিশ।’

উল্লেখ্য, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি পাকিস্তানের বন্দীদশা থেকে মুক্তি পেয়ে রক্তস্নাত স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীন বাংলাদেশে মহান এই নেতার প্রত্যাবর্তনে স্বাধীনতা সংগ্রামের বিজয় পূর্ণতা পায়। স্বয়ং বঙ্গবন্ধু তার এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ‘অন্ধকার হতে আলোর পথে যাত্রা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ১০.০১.২০১৬


Comments are closed.