>> এমপি লিটন হত্যা কাদের খানের ভাতিজাসহ ৩ জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি >> নরসিংদীতে ৩ ভাই-বোনকে গলা টিপে হত্যাকারী ভাই আটক

বাবা-মার ঠিকানায় থাকতে হলে তাঁদের কথা শুনেই চলতে হবে

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

kolkata-high-courtবাবা-মায়ের ঠিকানায় থাকতে হলে, তাঁদের কথা শুনে চলতে হবে। আচার-ব্যবহার ভালো করতে হবে। অন্যথায় দেখে নিতে হবে নিজের পথ। জানিয়ে দিল ভারতের কোলকাতা হাইকোর্ট।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পুত্র ও পুত্রবধূর বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের অভিযোগ নিয়ে রাজ্যের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ এক বর্ষীয়ান দম্পতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে সোমবার বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি দ্বর্থ্যহীনভাবে এমন অভিমত দিয়েছেন। তরুণ দম্পতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ থাকায় সংশ্লিষ্ট থানাকে চার সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দাখিল করতে বলা হয়েছে।

বাবা-মায়ের বাড়ি-জমির উপর লোভের কারণে বারংবার এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন বৃদ্ধ বা বৃদ্ধারা। আদালতের শরণাপন্নও হয়েছেন তাঁরা। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই আদালত মানবিক কারণে বয়স্ক মানুষগুলির সমস্যার প্রতিকার করতে চেয়েছে। তার প্রধান কারণ, এই মানুষগুলি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশের কাছে গিয়ে সমস্যার সমাধান পাননি। এছাড়াও এমন অনেক ক্ষতিগ্রস্ত বয়স্ক রয়েছেন, যাঁরা প্রথমে পুলিশ, তারপর ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়ে শেষ জীবনে স্বস্তির ঠিকানা পান না বা পাননি। অনেকেরই সেই শারীরিক ও আর্থিক ক্ষমতা নেই বা ছিল না। সেই প্রবণতার ব্যতিক্রম হলেন উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা সুভাষচন্দ্র ও তাঁর স্ত্রী বিরতি হালদার।

২০১৪ সালে এই দম্পতি প্রথম বার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে। ছেলে শুভেন্দু ও ছেলের বউ রিয়া সম্ভাব্য সবরকম উপায়ে নিগ্রহ করছে বলে সেবারও তাঁরা অভিযোগ এনেছিলেন। কিন্তু, সেবারও পুলিশি সাহায্য না পাওয়ায় বিচারপতি ইন্দ্রপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায় ২০১৫ সালের ১৭ এপ্রিল বাদুড়িয়া থানার তদানীন্তন আইসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, মামলাকারীর পুত্র ও পুত্রবধূকে থানায় ডেকে স্পষ্টভাষায় হুঁশিয়ারি দিতে হবে। বলে দিতে হবে, পিতামাতাকে যেন কোনওভাবেই নিগ্রহ না করা হয়। নাহলে ওই তরুণ দম্পতির বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এই দায়িত্ব পুলিশকে পালন করতে হবে।

বৃদ্ধ দম্পতির আইনজীবী অঞ্জন ভট্টাচার্য এদিন আদালতকে জানান, হাইকোর্টের ওই নির্দেশের পর পুলিশ সেইমতো ব্যবস্থা নিতে বাড়ির পরিস্থিতি কিছুদিন ভালো ছিল। কিন্তু, ফের আগের মতো ঘটনা ঘটতে থাকে। বাধ্য হয়ে বয়স্ক মানুষ দু’টি ফের থানায় অভিযোগ করেন। একবার নয়, বেশ কয়েক বার। কিন্তু, কয়েকবারই এমন হয়েছে যে, থানায় অভিযোগ করার পরই পুত্র ও পুত্রবধূ নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন। এমনকী নাতিকে তাঁদের সামনে এগিয়ে দিয়ে মানসিকভাবে দুর্বল করে দিয়েছেন। আবেগময় সেই পরিস্থিতির জেরে তাঁরাও পুলিশকে অনুরোধ করেছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যেন কোনও আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়। কিন্তু, পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠায় তাঁরা ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এফআইআর দায়ের করেছেন। সেইসূত্রে ছেলে ও ছেলের বউ গ্রেপ্তার হলেও জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। আর তাই পরিস্থিতি বয়স্ক মানুষ দু’টির কাছে আগের চেয়ে বেশি উদ্বেগ ও আতঙ্কজনক হয়েছে। এই আর্জি সূত্রেই কোলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ ও অভিমত দিয়েছে।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ১০.০১.২০১৬


Comments are closed.