>> সিলেট শিবপুরে জঙ্গী বিরোধী অভিযান চলছে গুলি ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে >> নারায়ণগঞ্জে পিকআপভ্যানের চাপায় পুলিশ কনস্টেবল নিহত >> ভারতের মনিপুরে বাস দুর্ঘটনায় নিহত ১০ আহত ২৫

সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে আমেরিকার কপট আচরণ

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

us-jetsআইএস বা দায়েশ বিরোধী কথিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের জঙ্গিবিমানগুলো এবার সিরিয়ার দেইর আয-যোর প্রদেশে বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে বহু বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে। সেইসঙ্গে সিরিয়ার রাক্কা প্রদেশেও মার্কিন নেতৃত্বাধীন কথিত সন্ত্রাস বিরোধী জোটের বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছে।

সিরিয়ার বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, দেইর আয-যোর শহরের উপকণ্ঠে একটি বাজারের উপর মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় অন্তত ২১ ব্যক্তি নিহত এবং অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। এ ছাড়া, রাক্কা প্রদেশে মার্কিন জোটের বিমান হামলায় পাঁচ শিশুসহ ১১ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এসব হামলায় আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, ২০১৬ সালে সিরিয়ার বিভিন্ন স্থানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় ৪৭০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুর সংখ্যা ১০০ জনের বেশি। পাশাপাশি এসব হামলায় আহত শত শত ব্যক্তি স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে গেছে।

এর আগেও সিরিয়ার পাশাপাশি ইরাক এবং আফগানিস্তানে মার্কিন বিমান হামলায় বহু বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় মসুল নগরীর কাছে গত দু’দিনের মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় ২৭ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।

এসব বর্বর হামলার ব্যাপারে আক্রান্ত দেশগুলোর তীব্র প্রতিবাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলিও প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানিয়েছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কথিত সন্ত্রাস বিরোধী জোট দাবি করছে, হামলা চালাতে গিয়ে ভুল হওয়ার কারণে এ ধরনের হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে।

কিন্তু ওয়াশিংটনের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। তারা বলেছেন, মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের হাতে যেসব অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও সমরাস্ত্র থাকার দাবি তারা করে সেগুলো এত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে যে, ভুল করে বেসামরিক নাগরিক হত্যার দাবি মেনে নেয়া যায় না।

মার্কিন সরকার এমন সময় নিজের সমরাস্ত্র ও যন্ত্রপাতির নির্ভুল থাকার দাবি করে যখন তারা গত বছরের সেপ্টেম্বরে দেইর আয-যোরে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর অবস্থানে বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ৮০ সরকারি সৈন্যকে হত্যা করেছিল। উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশের বিরুদ্ধে লড়াইরত সিরিয়ার সেনাবাহিনীর অবস্থানে মার্কিন বিমান হামলায় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের গোপন আঁতাতের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়।

দামেস্ক সরকারের অনুমতি না নিয়েই সিরিয়ায় তৎপর কথিত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা শুরু হয় ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। কিন্তু এসব হামলায় জঙ্গিদের পরিবর্তে মারা পড়ছে সিরিয়ার বেসামরিক নাগরিক এবং ধ্বংস হচ্ছে দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো।

এদিকে, আমেরিকা আসাদ সরকারের পতন ঘটানোর জন্য দায়েশ সৃষ্টি করেছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি চলতি সপ্তাহে যে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তা থেকে সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে আমেরিকার কপটতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সমাজের উচিত সিরিয়ার বেসামরিক অবস্থানে মার্কিন বিমান হামলার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি নিরপরাধ মানুষ হত্যার জন্য ওয়াশিংটনকে বিচারের সম্মুখীন করা।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ০৯.০১.২০১৬


Comments are closed.