>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

ঢাকায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কিশোরী গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

rape-2রাজধানীর ভাটারা থানা এলাকায় বিদেশ ফেরত ধনাঢ্য এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কিশোরী (১৪) গৃহকর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ওই কিশোরী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন।

কিশোরীর মা জানিয়েছেন, গত ২ জানুয়ারি তাঁর মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়। বাসার গৃহকর্তা ডা. মো. আবদুর রহিম (৪৫) এ ঘটনায় জড়িত বলে তিনি দাবি করেন। গৃহকর্তাকে আসামি করে গত ৪ জানুয়ারি ভাটারা থানায় মামলা করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

কিশোরীর মা জানান, তিনি রামপুরা এলাকায় থাকেন। নিজেও গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। প্রায় ১২ বছর আগে তাঁর স্বামী অন্যত্র চলে যান। সংসার চালানোর জন্য গত মাসে ট্রাস্ট অ্যাকটিভ এজেন্সি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবদুর রহিমের বাসায় কাজ পায় তাঁর মেয়ে।

কিশোরীর মা আরো জানান, গত ২৬ ডিসেম্বর ভাটারা থানা এলাকায় ডা. আবদুর রহিমের বাসায় কাজে যোগ দেয় তাঁর মেয়ে। ২ জানুয়ারি আবদুর রহিম তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ করেন। এরপর দিন তাঁকে ফোন করে বিষয়টি জানায় মেয়ে। পরে তিনি ওই বাসায় গিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসেন। তিনি অভিযোগ করেন, নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে গেলেও তাঁকে কোনো সাহায্যই করেননি ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা। এরপর তিনি গত ৪ জানুয়ারি ভাটারা থানায় মামলা করেন।

এ ব্যাপারে ট্রাস্ট অ্যাকটিভ এজেন্সির কর্ণধার মো. আবদুল মতিন জানান, ওই মেয়েটিকে ডা. আবদুর রহিম নামের এক ব্যক্তির বাসায় কাজ করতে দেওয়া হয়। আবদুর রহিম বিদেশ ফেরত একজন ধনী ব্যক্তি। তাঁর বাসায় কাজে দেওয়ার পাঁচদিন পর ওই মেয়েটির মা তাঁকে জানান যে তাঁর মেয়েকে তিনি আর সেখানে কাজ করতে দিতে চান না। পরে তিনি ভাটারা থানার মাধ্যমে জানতে পারেন মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

আবদুল মতিন আরো জানান, এই ঘটনাটি সত্য প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির উপযুক্ত বিচার হোক এটাই তাঁর চাওয়া।

এ ব্যাপারে আসামি ডা. আবদুর রহিমের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাটারা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শওকত আলী মিয়া জানান, আসামিকে গ্রেপ্তার করতে তিনি অভিযান চালিয়েছেন। কিন্তু গ্রেপ্তার করতে পারেননি। আর ধর্ষণের শিকার মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেলের ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। ওসিসির প্রতিবেদন এখনো পাননি বলে জানান।

একই কথা জানিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল মুত্তাকিন বলেন, মামলার পর থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা চলছে এবং তদন্ত করা হচ্ছে। আসামি গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসির সমন্বয়কারী বিলকিস আক্তার জানান, কিশোরীটি এখন শারীরিকভাবে সুস্থ। মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা চলছে। প্রতিবেদন এলে এই বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

-এনটিভিবিডি অনলাইন

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ০৮.০১.২০১৬


Comments are closed.