>> বরগুণায় সাগরে ট্রলার ডুবি ৪ জেলে উদ্ধার ৪ জন নিখোঁজ >> টেষ্ট অধিনায়কত্ব হারালেন মুশফিকুর রহিম >> নতুন টেষ্ট অধিনায়ক সাকিব আল-হাসান সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ

বাহরাইন ও ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান দহররম-মহরম

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

bahrain-and-israelইসরাইলের আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ক উপমন্ত্রী আইয়ুব ক্বারা বাহরাইনের রাজতান্ত্রিক সরকারের সঙ্গে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি ইসরাইলি দৈনিক হারেৎজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্প্রতি বাহরাইনে একদল ইহুদি পুরোহিতের সফরে তার ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন। ইসরাইলি পুরোহিতদের এই দল বাহরাইনের আলে খলিফা সরকারের শীর্ষস্থানীয় কোনো কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে আইয়ুব ক্বারা জানান।

ইসরাইলি উপমন্ত্রী আইয়ুব ক্বারা আরও বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় সব আরব সরকারের সঙ্গেই ইসরাইলের সম্পর্ক রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাহরাইনের এক ইহুদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ করেছে আলে খলিফার সরকার।বাহরাইনে ইহুদির সংখ্যা মাত্র ৩৭ জন।

আবুধাবিতে ইসরাইলের দপ্তর থাকার কথা জানিয়ে ইসরাইলি এ মন্ত্রী আরও বলেছেন, পারস্য উপসাগরীয় প্রায় সব আরব দেশ ও মরক্কোর সঙ্গে ইসরাইলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

বাহরাইনি জনগণের দাবির বিপরীতে ও দেশটির স্বার্থ উপেক্ষা করেই সেখানকার রাজতান্ত্রিক সরকার ক্রমেই ইসরাইল এবং মার্কিন সরকারের স্বার্থ দেখাশোনায় মনোযোগী হয়েছে। আর তাই গণজাগরণের জোয়ার থেকে জনসমর্থনহীন এই সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে সব কিছুই করছে পাশ্চাত্য।

মার্কিন পঞ্চম নৌ-বহরের ঘাটি রয়েছে বাহরাইনের রাজধানী মানামার পূর্বাঞ্চলে। সেখানে সম্প্রতি নানা নির্মাণ-কাজ জোরদার করেছে মার্কিনিরা। অথচ বাহরাইনে মার্কিন ও ইসরাইল-বিরোধী গণ-অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আরব শাসকদের ইসরাইল ও মার্কিন-তোষণ নীতি এ অঞ্চলে ইসলামী গণজাগরণের জোয়ারকে বেগবান করার অন্যতম চালিকা-শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

সম্প্রতি বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরাইলের সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং নানা গণহত্যার কুখ্যাত জল্লাদ শিমন পেরেজের মৃত্যুতে তার গভীর শোক ও বেদনার কথা জানিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন। আর এ থেকেই বাহরাইনের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান দহরম-মহরমের বিষয়টি ফুটে উঠেছিল।

গত শতকের ৫০ থেকে ৭০’র দশকেও ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞের নিন্দা করা ও মজলুম ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন দেয়াটা ছিল আরব শাসকদের জনপ্রিয়তা অর্জনের এক বড় মাধ্যম। আরব সরকারগুলো ইসরাইলের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যুদ্ধেও জড়িত হয়েছিল।

কিন্তু আরব সরকারগুলো ক্রমেই তাদের সেই নীতি থেকে পিছু হটতে থাকে লজ্জাজনকভাবে। ৯০’র দশকে মাদ্রিদ ও ওসলো’র কথিত আপোষ-সম্মেলনে আরব সরকারগুলো কার্যত ইসরাইলের অবৈধ অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং ফিলিস্তিনি জাতির অধিকার আদায়ের দাবি থেকে ক্রমেই পিছু হটছে।

৯০’র দশকে কাতার এবং ওমান ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্য-সম্পর্ক গড়ে তোলে। দোহায় খোলা হয় ইসরাইলি বাণিজ্য দপ্তর। এভাবে ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ার পরিবেশ তৈরি করেছে আরব সরকারগুলো।

আসলে জনপ্রতিনিধিত্বহীন ও পাশ্চাত্যের ক্রীড়নক আরব সরকারগুলো ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা জোরদারের মাধ্যমে তাদের প্রতি মার্কিন সরকারের সমর্থন ধরে রাখতে চায়। তাই তারা ইসরাইলের কাছে ক্রমেই নতজানু হচ্ছে। আর এ বিষয়টি ক্রমেই গণ-অসন্তোষকে জোরদার করছে।

-পারসটুডে

বাংলাদেশনিউজ
০৭.০১.২০১৬


Comments are closed.