>> বরগুণায় সাগরে ট্রলার ডুবি ৪ জেলে উদ্ধার ৪ জন নিখোঁজ >> টেষ্ট অধিনায়কত্ব হারালেন মুশফিকুর রহিম >> নতুন টেষ্ট অধিনায়ক সাকিব আল-হাসান সহ-অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ

‘অবস্থান পাল্টাতে পারে তুরস্ক’

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

turkey-iran-russia-flag-1ইরান সিরিয়া সমস্যা সাধানের ব্যাপারে মস্কোয় অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে। ইরানের কর্মকর্তারা বলেছেন, ওই তিন দেশের মধ্যে তুরস্ক অন্যতম এবং আঙ্কারার এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ হবে না যাতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হয় এবং এ অঞ্চলের বাস্তবতা উপেক্ষিত হয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমি এ ব্যাপারে বলেছেন, তুরস্ক যদি রাজনৈতিক উপায়ে সিরিয়া সমস্যা সমাধানের জন্য আলোচনাকে সফল করতে চায় এবং সেদেশে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় তাহলে যেসব সন্ত্রাসী গ্রুপ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই শক্ত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে বাস্তবতাকে অস্বীকার করে অযৌক্তিক পদক্ষেপ নেয়া এবং অন্যকে দোষারোপ করার নীতি থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুস ওগলুর এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসব কথা বলেছেন। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেছেন, সিরিয়ার সরকার বিরোধী সশস্ত্র গ্রুপগুলো যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধবিরতি মেনে চলতে সিরিয়া সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য ইরানের প্রতি আহ্বান জানান।

গত ৩০ ডিসেম্বর থেকে সমগ্র সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতি চলছে। কিন্তু যুদ্ধবিরতির পরও সরকার বিরোধী সশস্ত্র গ্রুপগুলো বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। মস্কো সমঝোতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়া সিরিয়ায় যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে একমত হয় এবং সমঝোতা বাস্তবায়নে তারা সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায় তারা মস্কো সমঝোতা থেকে যেন কিছুটা সরে এসেছে। অথচ মস্কো সমঝোতা এ অঞ্চলে রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বীতার অবসান ঘটানোর সুযোগ এনে দিয়েছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তুরস্কের সামনে দু’টি পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, তুরস্ককে মস্কো সমঝোতা মেনে চলতে হবে এবং অতীতের ভুল নীতি থেকে সরে আসতে হবে। কিন্তু দ্বিতীয় যে সম্ভাবনা বা পথ খোলা রয়েছে তা হচ্ছে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান হয়তো মস্কো সমঝোতা ও কাজাখস্তানে অনুষ্ঠেয় আলোচনা থেকে সরেও আসতে পারেন। আর তাই যদি হয় তাহলে বুঝতে হবে তুরস্কের ওপর সৌদি আরবের চাপ রয়েছে যা কিনা সিরিয়া পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে এবং রাশিয়ার সঙ্গে আবার তুরস্কের সম্পর্কের অবনতি ঘটাবে।

কাজাখস্তানে সিরিয়া বিষয়ক আলোচনার আগেভাগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানের অসংলগ্ন বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, তিনি তার মিত্রদেরকে আবার সিরিয়া বিষয়ক আলোচনায় টেনে আনার চেষ্টা করছেন। এরদোগান গত ২৮ ডিসেম্বর বলেছিলেন, কাতার ও সৌদি আরবকেও সিরিয়া বিষয়ক আলোচনায় শামিল করা উচিৎ।

এদিকে, ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার হোসেন দেহকান রুশ টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে কাজাখস্তানে বৈঠকের ব্যাপারে তুরস্কের এ প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন, সিরিয়া সংকট সমাধানে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক যে উদ্যোগ নিয়েছে তাতে সৌদি আরবকে যুক্ত করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, তুরস্ক মস্কো সমঝোতা মেনে নিলেও সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ করছে যা কিনা সেদেশটির সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন।

অপরদিকে নাইট ক্লাবে হামলার পর দায়েশ বন্দুক াহমলা চালিয়েছে এবং বৃহস্পতিবার ইজমিরে গাড়ি বোমা হামলা চালিয়েছে। সন্ত্রাসী সংগঠনটি তুরস্কে আরও প্রতিশোধমূলক হামলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। এতে তুর্কি প্রশাসন বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে, বলা যায় খানিকটা বিচলিতও বটে। এমন কি প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে ক্ষমতাচ্যূত করা বা হত্যা করার জন্য বিদেশী গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখনও সক্রিয়। সব মিলিয়ে এরদোগান যে খানিকটা দিশেহারা তা তার বক্তব্য ও আচরণে প্রকাশ পাচ্ছে। এমনিতে লোকটির মনোভাব বোঝা খুবই কঠিন, তারপর এ দিশেহারা পরিস্থিতিতে তিনি কখন যে কী বলবেন বা কী করবেন, তা বোধ হয় তার সৃষ্টিকর্তাও জানে না।

এরকম একটি পরিস্থিতিতে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বাহরাম কাসেমির বক্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ! তিনি তুরস্কের অস্থির মানসিকতার দিকে ইঙ্গিত করে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। তিনি তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যকে অগঠনমূলক অভিহিত করে বলেছেন, এর ফলে সিরিয়ার পরিস্থিতি কেবল জটিল হবে এবং রাজনৈতিক উপায়ে সিরিয়া সংকট সমাধানের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত হবে।

সূত্র : পারসটুডে (ঈষৎ সংযোজিত ও পরিমার্জিত)

বাংলাদেশনিউজ
০৫.০১.২০১৬


Comments are closed.