>> আজ পবিত্র ঈদ উল ফিতর! >> পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে তেল ট্যাংকার বিস্ফোরণে ১২৩ জন নিহত

সন্ত্রাস মোকাবেলায় চার দেশের জোটে শামিল হতে ইরাকের আহ্বান

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

haider-abadi-141ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল এবাদি বলেছেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় ইরাক, সিরিয়া, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা সবার জন্যই কল্যাণকর এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, এ অঞ্চলের সব দেশকে আমাদের কাতারে যোগ দেয়ার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। কারণ সন্ত্রাসীদের নির্মূল করার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, ইরান, রাশিয়া, ইরাক ও সিরিয়ার মধ্যে সহযোগিতা সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের ব্যর্থ করে দেয়া বিশেষ করে সিরিয়ার আলেপ্পো থেকে সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি বিতাড়িত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে ইরাকের মসুলেও সেনা ও স্বেচ্ছাসেবী বাহিনী ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে এবং এখন চূড়ান্ত বিজয়ের পথে রয়েছে।

সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে এমন সময় এ সাফল্য এল যখন দায়েশ বিরোধী মার্কিন নেতৃত্বে কথিত আন্তর্জাতিক জোট সন্ত্রাসীদের দমনে কোনো সহযোগিতাতো করেনি বরং সন্ত্রাস নির্মূলে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে আমেরিকাসহ পাশ্চাত্য ও কয়েকটি আরব মিত্র দেশ মিলে দায়েশ বিরোধী জোট গঠন করেছে অথচ তারাই দায়েশকে অর্থ ও অস্ত্রে সজ্জিত করেছে, প্রশিক্ষণ দিয়েছে।

সিরিয়ার কথিত বিদ্রোহীদের আমেরিকা অর্থ দিয়েছে, ইরাক ও সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীদের অস্ত্র যোগাচ্ছে, সন্ত্রাসীদেরকে ভালো ও মন্দ এ দুইভাবে ভাগ করেছে। এ অবস্থায় আমেরিকার দায়েশ বিরোধী যুদ্ধের দাবি ডাহা মিথ্যা ছাড়া আর কিছু নয়। মার্কিন সবুজ সংকেতে দায়েশের মাধ্যমে ইরাকের বিভিন্ন শহর দখলের ঘটনা সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে আমেরিকার দ্বিমুখী নীতির বড় প্রমাণ। আমেরিকা একদিকে ইরাক সরকারকে সহযোগিতা করার কথা বলছে অন্যদিকে ইরাক ও সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসীদের মদদ দেয়ার কারণে এখন মার্কিন নেতৃত্বে দায়েশ বিরোধী কথিত জোট কেবল দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

প্রকৃতপক্ষে, সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে আমেরিকার পরস্পর বিরোধী অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলেছে। সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে আমেরিকা আন্তরিক না হওয়ায় দায়েশ এখনো টিকে আছে। বরং কোনো কোনো সাক্ষ্য প্রমাণে দেখা গেছে, আমেরিকা দায়েশকে পরিচালনা করে। মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় দায়েশ সরাসরি মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করছে। আমেরিকার এ দ্বিমুখী নীতির ফলে এ অঞ্চলসহ সারা বিশ্বে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার আশা করা যায় না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, নিরাপত্তাহীনতা, সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রবাদ রোধের একমাত্র পথ হচ্ছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বিশ্বের দেশগুলোর আন্তরিক সহযোগিতা। কারণ সন্ত্রাসীদের কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই। ইরাক ও সিরিয়ায় দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান ও রাশিয়ার সমর্থন সত্যিকারের সহযোগিতার ক্ষেত্রে বড় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। বর্তমানে ইরাক ও সিরিয়ার জনগণ ও সেনাবাহিনী দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ফ্রন্ট লাইনে রয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি নির্মূলে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে এ বিষয়টিকেই তুলে ধরেছেন।

-পারসটুডে

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ০৪.০১.২০১৬


Comments are closed.