>> ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৬০ কিলোমিটার যানজট >> লিবিয়ায় জাহাজের কন্টেইনার থেকে ১৩ অভিবাসন প্রত্যাশীর লাশ উদ্ধার >> টাঙ্গাইল মির্জাপুরে গরু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

নরসিংদীতে সহকারি শিক্ষিকাকে প্রধান শিক্ষকের মারধর

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

narshingdi-mapনরসিংদী জেলার খাকচক-এ স্কুলের সহকারি শিক্ষিকাকে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে মারধর করেছেন স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এমন অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পর প্রধান শিক্ষকের উপযুক্ত শাস্তি চেয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ রানার বরাবর লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন নির্যাতিত সহকারি শিক্ষিকা।

গত ২১ ডিসেম্বর খাকচক (দক্ষিণ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের হাতে সহকারি শিক্ষক নিগৃহের এই ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সহকারি শিক্ষিকা ও প্রধান শিক্ষক উভয়েই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। তদন্ত শেষে প্রকৃত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষার শেষ দিন গত ২১ ডিসেম্বর ছিল চারু ও কারুকলা পরীক্ষা। এদিন সকালে প্রধান শিক্ষক শহীদ হোসেন বাদল সহকারি শিক্ষিকাকে বলেন, আপনি স্কুলের শিক্ষার্থীদের সাবান আনার কথা বলেছেন। এসময় শিক্ষিকা এমন কিছু করেননি বলে প্রতিবাদ জানান। দুই শিক্ষকের কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক সহকারি শিক্ষিকার গায়ে আঘাত করেন। তিনি এসময় শিক্ষিকাকে বেদম মারধর করেন। এসময় স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে অন্যান্য শিক্ষকের হস্তক্ষেপে মারধর বন্ধ করেন প্রধান শিক্ষক।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষিকা নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হেড মাস্টার ইচ্ছাকৃতভাবে এই কাজটি করেছে।

তিনি বলেন, আমি যদি চাইতাম তাহলে স্কুলের ২৩০ টা শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সাবান চাইতাম। স্কুলের সাত-আটজন বাচ্চার কাছে কেন নম্বর বেশি দেবার কথা বলে সাবান চাইতে যাব?

তিনি বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইচ্ছাকৃতভাবে আক্রোশ থেকে আমাকে এভাবে অপমান করেছে। আমি দীর্ঘ ২৮ বৎসর যাবৎ এই স্কুলে সম্মানের সাথে শিক্ষকতা করছি। কোনদিন কোনরকম অসম্মানের মুখোমুখি হইনি। আর এই হেডমাস্টারের হাতে আমাকে এমন ঘটনার শিকার হতে হলো!

জানা যায়, নরসিংদী জেলার খাকচক (দক্ষিণ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। এটি দীর্ঘদিন রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল। গত ২০১৩ সালে এটি সরকারিকরণ হয়। এসময় ঐ সহকারি শিক্ষিকার এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট তৃতীয় শ্রেণি থাকায় তাকে শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে নিজের যোগ্যতা বৃদ্ধির জন্য বলা হয়। তিনি ২০১৩ সালে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এইচএসসি প্রোগ্রামে ভর্তি হন। ২০১৩-২০১৪ সেশনে তিনি এইচএসসি উত্তীর্ণ হন। এবছর তার পরীক্ষা পাসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অফিসে জমা দেন। এরপর তিনি গত নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসের বেতন পেয়েছেন। জানা যায়, ঐ স্কুল শিক্ষিকা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের চাচি। ঐ শিক্ষিকার পরিবারে তার দুই ছেলে সরকারি চাকরিজীবী এবং দুই পুত্রবধু সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা। ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এই কাজটি করেছেন।

এ প্রসঙ্গে রায়পুরা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি লিখিত আকারে অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক এবং নির্যাতনের শিকার সহকারি শিক্ষিকা দুজনেই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে দুজন উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তাকে অভিযোগ যাচাই বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, দুজনের মধ্যে যে অভিযুক্ত হবে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ব্যাপারে নরসিংদী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্ণামেন্ট এর জন্য কয়েকদিন গোপালগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। তাই তিনি বিষয়টি জানেন না। বিষয়টি জেনে পরে বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ২৫.১২.২০১৬


Comments are closed.