>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

দায়েশের তুরস্কে নাশকতার হুমকি ও বাস্তবতা

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

turkey-daeshউগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ তুরস্কের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক তৎপরতা ও গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর হুমকি দিয়ে ওই দেশটিকে জিহাদিদের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে।

আল মায়েদিন টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, দায়েশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে যোগ দেয়া এক তুর্কি নাগরিক একটি ভিডিও বার্তায় তুরস্ক সরকারের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়ে প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানকে ধর্ম বিরোধী আখ্যায়িত করে বলেছে মুসলমানদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার কারণে অবশ্যই তার শাস্তি হওয়া উচিত। শুক্রবার দায়েশ সন্ত্রাসীরা দুই তুর্কি সেনাকে জীবন্ত আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দৃশ্য প্রকাশ করেছে। ভিডিও চিত্রে দেখা যায় ওই দুই সেনার হাতে, পায়ে, গলায় লোহার শেকল পরিয়ে দাঁড়ানো অবস্থায় পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। দায়েশ সন্ত্রাসীরা তুরস্কের এ দুই সেনাকে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় আল বাব শহরের উপকণ্ঠ থেকে আটক করেছিল। ওই ভিডিও প্রকাশের পর তুরস্কের সরকার ও জনগণ প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। দায়েশ সন্ত্রাসীদের এ নৃশংসতা ও হুমকির জবাবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগানও আজমির শহরে এক ভাষণে বলেছেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিশোধ নেয়া হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আইএস বা দায়েশ সন্ত্রাসীরা তুরস্কে ধ্বংসাত্মক তৎপরতা চালানোর যে হুমকি দিয়েছে তার জন্য গত কয়েক বছরে তুরস্ক সরকারের ভুল নীতিই দায়ী। কারণ এরদোগান সরকার এতোদিন ধরে ইরাক ও সিরিয়ায় তৎপর সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিয়ে এসেছে। বাস্তবতা হচ্ছে, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উৎখাত করার জন্য গত পাঁচ বছর ধরে সব সন্ত্রাসী গ্রুপকে প্রকাশ্য ও গোপনে সমর্থন ও সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে এসেছেন। প্রেসিডেন্ট এরদোগান সন্ত্রাসীদেরকে ভালো ও মন্দ এই দুই ভাগে ভাগ করে নানা কৌশলে তাদেরকে সহযোগিতা দেয়া অব্যাহত রাখেন। অথচ ইরান ও রাশিয়া বহুবার তুরস্ককে সতর্ক করে দিয়ে সঠিক পথে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছিল এবং তারা বলেছিল ভালো ও মন্দ সন্ত্রাসী বলতে কিছু নেই।

তুর্কি কর্মকর্তারা ভেবেছিলেন, সন্ত্রাসীদেরকে সব রকম সাহায্য দিয়ে দ্রুত এ অঞ্চলে নিজের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা যাবে। তুরস্কে তৎপর সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ইসলামিক ষ্টেট বা দায়েশ। এই গোষ্ঠীটি ইরাক ও সিরিয়াসহ সারা বিশ্বে সৌদি ওহাবি মতবাদ ছড়িয়ে দেয়ার কাজে লিপ্ত রয়েছে এবং তারা সৌদি আরবের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, তুরস্ক সরকার সন্ত্রাসীদের সমর্থনের ব্যাপারে তাদের ভুল নীতির কথা স্বীকার করলেও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে উৎখাতের জন্য এখনো কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের প্রতি সমর্থন দেয়া অব্যাহত রেখেছে। যেমন তারা সিরিয়ার সরকার বিরোধী ফ্রি সিরিয়ান আর্মিকে সমর্থন যুগিয়ে যাচ্ছে। এ থেকে বোঝা যায় তুরস্কর সরকার এখনো পূর্বের নীতিই বজায় রেখেছে।

কোনো সন্দেহ নেই যে, গত কয়েক বছর ধরে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোর প্রতি তুরস্কের ব্যাপক সমর্থন বজায় ছিল। এ ভ্রান্ত নীতির ফলে সরকার হয়তো তার ভাবমূর্তি এতো সহজে পুনরুদ্ধার করতে পারবে না। কিন্তু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সত্যিকারের পদক্ষেপ নিয়ে দেশটি আন্তর্জাতিক সমাজকে অন্তত এটা বোঝাতে পারবে যে তারা দায়েশের হুমকি মোকাবেলায় সত্যিই আন্তরিক।

মধ্যপ্রচ্যের বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তুরস্ক সরকার দায়েশের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে তাদের অবশ্যই দ্বৈত নীতি পরিহার করে আন্তরিক হতে হবে। তা না হলে “অতি চালাকের গলায় দড়ি হতে পারে”, অর্থাৎ সামান্য ভুল কিংবা বিলম্বের জন্য তুরস্ককেও অবধারিতভাবে চড়া মূল্য দিতে হবে।

সূত্র : পারসটুডে অনলাইন (ঈষৎ সম্পাদিত/পরিমার্জিত)

বাংলাদেশনিউজ
৪.১২.২০১৬


Comments are closed.