>> কুমিল্লা বিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে রংপুর রাইডার্স বিপিএল ফাইনালে >> হবিগঞ্জে ৫ জেএমবি সদস্য আটক

সৌদি আরবকে গুচ্ছবোমা দেবে আমেরিকা

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

cluster-bombজাতিসংঘের কোনো কোনো প্রতিবেদনে ইয়েমেনে সৌদি আরবের নিষিদ্ধ গুচ্ছ বোমা ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ মুখপাত্র ফারহান হক নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এ ব্যাপারে সংস্থাটি তদন্ত অব্যাহত রাখবে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের বার্ষিক প্রতিবেদনে শিশু অধিকার লঙ্ঘনকারী দেশগুলোর তালিকায় আবারো সৌদি আরবের নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

এদিকে, সৌদি আরব জানিয়েছে তারা ব্রিটেনের তৈরি গুচ্ছ বোমা ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আর ব্যবহার করবে না। এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায় সৌদি আরব পাশ্চাত্যের সরকারগুলো বিশেষ করে আমেরিকা ও ব্রিটেনের দেয়া নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যাপকমাত্রায় ব্যবহার করেছে ইয়েমেন যুদ্ধে।

মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোষ্ট আমেরিকা ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের কাছে নিষিদ্ধ গুচ্ছ বোমা ব্যবহার বিক্রি অব্যাহত রয়েছে বলে খবর দিয়েছে। দৈনিকটি এ তথ্যও ফাঁস করে দিয়েছে যে, মার্কিন কংগ্রেস নিষিদ্ধ ঘোষিত গুচ্ছ বোমার ওপর প্রস্তুতকারী দেশ হিসেবে আমেরিকার নাম উল্লেখ না করেই তা সৌদি আরবের কাছে বিক্রি করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকা ও ব্রিটেনের সমর্থন নিয়ে সৌদি আরব ইয়েমেনের বিরুদ্ধে এমন কোনো অপরাধযজ্ঞ নেই যা তারা করছে না। ইয়েমেনে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য সৌদি আরব গুচ্ছবোমা ও ফসফরাস বোমা ব্যাপকমাত্রায় ব্যবহার করেছে। ইয়েমেনের বেশিরভাগ জায়গাতেই সৌদি আরব বোমা বর্ষণ করেছে। বিশেষ করে সড়ক, ব্রিজ, স্কুল, হাসপাতাল ও সাধারণ মানুষ হচ্ছে এ হামলার প্রধান টার্গেট। ইয়েমেনে এ পর্যন্ত কোটি কোটি ডলার মূল্যের অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা এত বেশি যে, তা পুনর্গঠন করতে কয়েক দশক সময় লাগবে।

cluster-bomb-1আমেরিকার সবুজ সংকেত পেয়ে সৌদি আরব ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ থেকে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করে। এ হামলায় অবকাঠামো ও হাসপাতাল ধ্বংস হওয়া ছাড়াও নারী ও শিশুসহ ১১,০০০ বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে ৩৫,০০০ এর এও বেশী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতো বড় অন্যায়ের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ কোনো পদক্ষেপ না নেয়ায় সৌদি আরব অবাধে ইয়েমেনে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সম্প্রতি জাতিসংঘ শিশু হত্যাকারী দেশগুলোর তালিকা থেকে সৌদি আরবরে নাম বাদ দেয়ায় সৌদি আরব আরো বেপরোয়া হয়ে পড়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের উপ-মুখপাত্র এই সংস্থার বার্ষিক প্রতিবেদনে শিশু অধিকার লঙ্ঘনকারী দেশের তালিকায় সৌদি আরবের নাম আবারো অন্তর্ভুক্ত করার যে কথা বলেছেন তাতে বোঝা যায় হাজার হাজার নারী শিশু নিহত হওয়ার পর এখন তাদের সামান্যতম টনক নড়েছে বাস্তবে যার কোনো মূল্য নেই। তারপরও সৌদি আরব ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের দুর্বল অবস্থানের কারণে শিশু হত্যার তালিকায় শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হবে কিনা তাতে সন্দেহ রয়েই গেছে।

অন্যদিকে, দখলদার ইসরাইল ফিলিস্তিনি শিশুদের হত্যা অব্যাহত রাখলেও শিশু হত্যার তালিকায় কখনো ইসরাইলকে অন্তর্ভুক্ত করেনি জাতিসংঘ। এ অবস্থায় ইয়েমেন ইস্যুতে জাতিসংঘ উদ্বেগ প্রকাশ করলেও এ আগ্রাসন বন্ধে পদক্ষেপ নিবে না এবং এ অপরাধযজ্ঞ থামবে বরে মনে হয়না।

বাংলাদেশনিউজ
২২.১২.২০১৬


Comments are closed.