>> পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে তেল ট্যাংকার বিস্ফোরণে ১২৩ জন নিহত

মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

us-fighter-jets-in-turkeyমার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাশ্টোন কার্টার বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে তাদের ৫০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে ইরাক ও সিরিয়ায় মোতায়েন রয়েছে পাঁচ হাজার।

অ্যাশ্টোন কার্টার গতকাল শনিবার বাহরাইনের রাজধানী মানামায় নিরাপত্তা বিষয়ক সম্মেলনে এ তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল সেনা মোতায়েন ছাড়াও ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন রাখা হয়েছে যাতে মার্কিন মিত্রদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যে কোনো আগ্রাসন ঠেকানো যায়। আমেরিকা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে শক্তিশালী উপস্থিতি বজায় রেখেছে উল্লেখ করে কার্টার বলেন, এ অঞ্চলে আমাদের শক্তি সামর্থ্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও বিকল্প কেউ নেই।

কাতার, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে আমেরিকার ২১টি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এ থেকেই এ অঞ্চলে তাদের ব্যাপক সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি উপলব্ধি করা যায়। এ অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় এসব ঘাঁটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই ছয়টি দেশের মধ্যে শুধু কুয়েতেই রয়েছে আমেরিকার ছয়টি সামরিক ঘাঁটি। ইরাকে আগ্রাসন চালানোসহ এ অঞ্চলে আধিপত্য বজায় রাখার জন্য এসব ঘাঁটি ব্যবহার করে আমেরিকা।

এ ছাড়া অধিকৃত ফিলিস্তিন অর্থাৎ ইসরাইলেও আমেরিকার ছয়টি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। দখলদার ইসরাইল ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতা অনুযায়ী সেখানে সংরক্ষিত আমেরিকার অস্ত্রশস্ত্র প্রয়োজনে ইসরাইলও ব্যবহার করত পারবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে বিশাল অস্ত্রের মজুদ গড়ে তুলে কার্যত এ অঞ্চলকে চরম নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। মার্কিন সামরিক উপস্থিতির ফলে শুধু যে এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে তাই নয়, একই সঙ্গে যুদ্ধ ও সন্ত্রাসবাদেরও বিস্তার ঘটিয়েছে। এ ছাড়া, রাজতন্ত্র শাসিত আরব দেশগুলোকে রক্ষার কথা বলে আমেরিকা কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকা তার সামরিক ঘাঁটি সম্প্রসারণের যে পদক্ষেপ নিয়েছে তার মাধ্যমে মূলত এ অঞ্চলের দেশগুলোর স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে চলেছে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল বহুবার সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, নতুন নতুন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমেরিকা এ অঞ্চলে তার অবৈধ স্বার্থ পূরণের চেষ্টা করছে। আর তাদের সামরিক উপস্থিতির উদ্দেশ্য এটাই। ইরাক ও সিরিয়ায় সন্ত্রাসীদের প্রতি আমেরিকার সমর্থন থেকেই তাদের লক্ষ্যের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। মার্কিন কর্মকাণ্ড থেকে বোঝা যায়, ‘বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য’ ও ‘নয়া মধ্যপ্রাচ্য’ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা এ অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। ওই পরিকল্পনাগুলোর মূল লক্ষ্য হচ্ছে এ অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোকে ভেঙে টুকরো টুকরো করা। ‘বৃহৎ মধ্যপ্রাচ্য’ পরিকল্পনা অনুসারে তাদের প্রথম টার্গেট ইরাক ও সিরিয়াকে খণ্ড-বিখণ্ড করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা সন্ত্রাসীদের দমনের কথা বলে ইরাক ও সিরিয়ায় গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

ইরাকের সরকার ও সেনাবাহিনীর অনুমতি না নিয়েই আমেরিকা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লোক দেখানো হামলা চালাচ্ছে আর এর ফলে প্রকৃত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ইরাকিদের সামরিক অভিযান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি আমেরিকা সন্ত্রাসীদের ওপর বোমা বর্ষণ না করে ইরাকি সেনাদের ওপর বোমাবর্ষণ করছে। আজও ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় মসুল শহরে মার্কিন বিমান হামলায় অন্তত ৯০ জন ইরাকি সৈন্য নিহত ও প্রায় ১০০ জন আহত হয়েছে। এর আগে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ওপরও আমেরিকা হামলা চালিয়ে ৯৭ জন সেনাকে হত্যা করেছিল।

-পারসটুডে

bdn24x7.com
১১.১২.২০১৬


Comments are closed.