>> এমপি লিটন হত্যা মামলায় কাদের খানসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র >> মানবতার দুশমন ইসরাইল ক্ষমাহীন শাস্তির মুখে পড়বে: উত্তর কোরিয়া >> তীব্র আক্রমণে ইয়েমেনের হুথি বাহিনী ১০ সৌদি সেনাকে উড়িয়ে দিল >> তুরস্কে আরও ৪০০০ সরকারী কর্মকর্তা চাকরীচ্যূত

আমেরিকায় মুসলিম নারীদের দুর্বিষহ জীবনযাপন

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

america-muslim-womenআমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের বিজয়ের পর মুসলিম নারীদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা ব্যাপক বেড়ে গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষী উগ্র বক্তব্যের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।

ইসলাম অবমাননাসহ মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতেও হামলার ঘটনা বেড়েছে। উগ্রনীতিতে বিশ্বাসী ট্রাম্পের বিজয়ের পর ক্ষমতা বুঝে না পাবার আগেই যেভাবে মুসলমান বিশেষ করে মুসলিম নারীদের ওপর নির্যাতন চলছে তা খুবই ভয়াবহ এবং দু:খজনক। মুসলিম নারীদের শালীন পোশাক এবং হিজাব দেখেই তাদের চেনা যায়। সেজন্য তারা শারীরিকভাবেও বিভিন্নরকম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই নির্যাতন স্বাভাবিকভাবেই মানসিকতার ওপর প্রভাব ফেলে যার প্রতিফলন পুরো মুসলিম নারী সমাজের ওপর পড়ে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত সাতশ’ বার মুসলিম বিরোধী বিভিন্নরকমের হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে মার্কিন মুসলিম নারীদের বিরাট একটি অংশ আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ নিতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি হতে বাধ্য হয়েছে। কেবল ট্রাম্পের ইসলাম বিদ্বেষী অবস্থানের পাশাপাশি আমেরিকায় মুসলমান বিরোধী প্রচারণাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ হলো আমেরিকা ও ইউরোপে সন্ত্রাসী ঘটনা বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব। আমেরিকার জনগণ মুসলমানদের সম্পর্কে, ইসলাম সম্পর্কে তেমন ধারণা রাখে না। সে কারণে শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের সঙ্গে তাদের তেমন কোনো অর্থবহ সংযোগও গড়ে ওঠে নি। আবার অনেক সংখ্যালঘু উগ্র সংগঠনও রয়েছে সেখানে যারা ব্যাপক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে থাকে। মুসলমানরাও সংখ্যালঘু হবার কারণে তাদের ওপরও সেই অপকর্মের দায় বর্তায়। সেদেশের গণমাধ্যমগুলোও পশ্চিমা সরকারগুলোর মতোই ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। তারা ইসলামকেও ওইসব উগ্র গোষ্ঠির সাথে এক করে প্রচার চালাচ্ছে। সরকারের ওই রাজনীতির লক্ষ্য হলো আমেরিকায় মুসলমানদের বিরুদ্ধে বিচিত্র হামলা চালিয়ে তাদেরকে ব্যাপক চাপের মুখে রাখা। গেল জুনে ফ্লোরিয়ার অরল্যান্ডের একটি নাইট ক্লাবে হামলার ঘটনায় ৫০ জন প্রাণ হারায় আহত হয় আরও ৫৩ জন। ক্যালিফোর্নিয়াতেও গত ডিসেম্বরে অনুরূপ হামলায় ১৪ জন নিহত হয়েছিল। এইসব হামলার ঘটনায় আমেরিকায় ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও বিদ্বেষ ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে। বিদ্বেষীরা এগুলোকে কাজে লাগিয়ে মুসলমানদেরকে হামলার টার্গেট করছে। নির্বাচনের সময় ট্রাম্পও মুসলমান বিরোধী পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলে জনরায় আকৃষ্ট করাসহ নিজের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিরও চেষ্টা করেছে। ওই দুই হামলার ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে ট্রাম্প বলেছিল আমেরিকায় মুসলমানদের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা হবে। নির্বাচনের পরেও ট্রাম্প সেই অবস্থানে অনড় রয়েছে। ট্রাম্পের এই অবস্থানকে অনেকেই সেদেশের বর্ণবাদী ও কট্টরপন্থিদের চাপে রাখার কৌশল বলে মনে করছেন। আমেরিকায় যেসব মুসলমান বসবাস করছে, তারা বাক-সন্ত্রাস এবং শারীরিক হামলার শিকার তো হচ্ছেই এমনকি মুসলমানদের ধর্মীয় স্থাপনাগুলোও অগ্নিকাণ্ড কিংবা ভাঙচুরের শিকার হচ্ছে অহরহ। সেইসঙ্গে অফিস আদালত, শিক্ষাঙ্গন সবখানেই বৈষম্যের শিকার হচ্ছে মুসলমানরা। সবচেয়ে জঘন্য বিষয়টি হলো মার্কিন জনগণের মাঝে ইসলামভীতি মারাত্মকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে তারা। তারা ইসলামের পবিত্র স্থাপনাগুলোর অবমাননা করছে। ইসলামের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে। এভাবেই মার্কিন মুলুকে এখন মুসলমান নরনারী একরকম দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে।

-পারসটুডে

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, ২৯.১১.২০১৬


Comments are closed.