>> নারী-শিশুসহ ভূমধ্যসাগরে পানিতে ডুবে ৩০ আভিবাসন প্রতাশীর মৃত্য >> আত্মঘাতী বোমা হামলায় জাকার্তায় ৩ পুলিশ নিহত ১০ জন আহত >> ইয়েমেনের রাজধানী সানা'য় হুথি পাল্টা হামলায় ২০ সৌদি ভাড়াটে সেনা নিহত

পুনরুজ্জীবনের আশায় কিশোরীর মরদেহ সংরক্ষণের রায় ব্রিটিশ হাইকোর্টের

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

dead-body-british-girl-preservedক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে অকালে মারা যাওয়া এক কিশোরীর শেষ ইচ্ছা অনুযায় তার মরদেহ হিমায়িত করে সংরক্ষণের নজিরবিহীন রায় দিয়েছে ব্রিটেনের সর্বোচ্চ আদালত।

গত অক্টোবরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ১৪ বছরের এই কিশোরী মারা যায়।

কোনো একদিন আবার তাকে বাঁচিয়ে তোলা যাবে, এমন আশায় নিজের মরদেহ সংরক্ষণের অনুরোধ জানিয়েছিল মেয়েটি। আদালত তাঁর শেষ ইচ্ছের পক্ষে সম্মতি দিয়েছে।

মেয়েটি যখন হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন, তখন ব্রিটেনের হাইকোর্টের বিচারপতি পিটার জ্যাকসন তাকে সেখানে দেখতে পর্যন্ত যান।

তিনি জানিয়েছেন, মেয়েটি যেভাবে তার দুর্ভাগ্যকে মেনে নিয়ে এর মুখোমুখি হয়েছিল, সেটি তাকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে।

তার দেহ কবর দেয়ার পরিবর্তে হিমায়িত করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে।

যারা বিশ্বাস করেন যে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির ফলে একদিন মৃত মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করা যাবে এবং যে রোগে তারা মারা গেছেন তারও নিরাময় খুঁজে পাওয়া যাবে, তার বিশেষ পদ্ধতিতে মৃত্যুর পর তাদের দেহ সংরক্ষণ করতে চান। এভাবে মরদেহ সংরক্ষণের প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় ‘ক্রায়োনিক্স’।

মৃত্যুর আগে এই কিশোরী আদালতের বিচারকের কাছে চিঠি লিখে জানিয়েছিল, সে আরও বাঁচতে চায় এবং তার দেহ মাটিতে কবর দেয়া হোক সেটা চায় না।

মেয়েটি লিখেছিল, ‘আমার বয়স মাত্র ১৪ বছর। আমি মরতে চাই না কিন্তু আমি মার যাচ্ছি।’

চিঠিতে সে লিখেছিল: ‘আমি বিশ্বাস করি আমার দেহ সংরক্ষণ করা হলে আমি ভবিষ্যতে শত শত বছর পরে হলেও আমার অসুখ সারিয়ে আমাকে পুনরুজ্জীবিত করার সুযোগ পাবো।’

তবে মেয়েটির শেষ ইচ্ছে নিয়ে বিরোধ দেখা দিয়েছিল তার বাবা-মার মধ্যে। মেয়েটির মা তার এই সিদ্ধান্ত সমর্থন করলেও তার বাবা প্রথম দিকে ছিলেন এর বিপক্ষে। তার বাবা প্রক্রিয়াটির করচ ও এর ফলাফল নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। এছাড়া তার যুক্তি ছিল, ধরা যাক, দু’শ বছর পর মেয়েটিকে পুনরুজ্জীবিত করা গেলো। তখন তো তার কোনো স্বজন থাকবে না। এ ছাড়া তখন তার কিছু মনে নাও থাকতে পারে। এ পরিস্থিতি সুখকর হবে না বলে মনে করেছিলেন তিনি। তাই শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আদালতে গড়ায়।

তবে বাবাও শেষ পর্যন্ত তার অবস্থান পাল্টে বলেছিলন, তিনি তার মেয়ের শেষ ইচ্ছাকে শ্রদ্ধা করেন।

বিচারক মেয়েটির পক্ষে রায় দিয়ে বলেছে, তাদের এই সিদ্ধান্ত ‘ক্রায়োনিক্স’-এর পক্ষে বা বিপক্ষে নয়। মেয়েটির মৃতদেহ নিয়ে কী করা হবে, তা নিয়ে বাবা-মার মধ্যে যে বিরোধ দেখা দিয়েছে, তারই মীমাংসা দিয়েছেন তারা।

বিচারক তার রায়ে বলেন, ‘বিজ্ঞান আইনের সামনে যেসব নতুন প্রশ্ন হাজির করে এটি তার একটি দৃষ্টান্ত।

মৃত্যুর আগেই মেয়েটি আদালতের এই রায় জেনেছিল। এই মামলায় তার মায়ের পক্ষের আইনজীবী জানিয়ছেন, আদালতের রায় শুনে মেয়েটি খুশি হয়েছিল।

ক্রায়োনিক্স একটি বিতর্কিত বিষয়। এভাবে সংরক্ষণ করা দেহ আসলেই কোনদিন পুনরুজ্জীবিত করা যাবে কিনা তা এখনো পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত নন।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ায় এই পদ্ধতিতে বহু মানুষের মৃতদেহ সংরক্ষণ করা হয়। তরলায়িত নাইট্রোজেনে হিমাঙ্কের ১৩০ ডিগ্রির নিচের তাপমাত্রায় এসব দেহ হিমায়িত করে রাখা হয়।

একটি দেহ এভাবে অনির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত সংরক্ষণের খরচ প্রায় ৩৭ হাজার মার্কিন ডলার।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, জের, ১৮.১১.২০১৬


Comments are closed.