>> ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ৬০ কিলোমিটার যানজট >> লিবিয়ায় জাহাজের কন্টেইনার থেকে ১৩ অভিবাসন প্রত্যাশীর লাশ উদ্ধার >> টাঙ্গাইল মির্জাপুরে গরু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা

ভারতে নবজাতক চুরি ও বিক্রি’র দায়ে ৬ হাসপাতাল কর্মী আটক

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

india-baby-stealing-selling-ring-1ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকে হাসপাতাল থেকে নবজাতক শিশু চুরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে হাসপাতালের সাবেক ছয় কর্মচারীকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে শিশু চুরি ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।। তিন জন পুরুষ এবং তিন জন নারীকে নিয়ে গঠিত এই চক্রে ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান এবং নার্সও রয়েছে। এ চক্রটি হাসপাতাল থেকে নবজাতক এবং শিশুদের চুরি করে তা নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে বিক্রি করতো।

তদন্ত কর্মকর্তা রবি চান্নানাভার বলেছেন, মহিশুর শহরের পাঁচটি বেসরকারি এবং একটি সরকারি হাসপাতালে এরা কর্মরত ছিল। এ ছাড়া, তারা গৃহহীন, বস্তিবাসী ও ভাসমান পরিবারের নবজাতক এবং শিশু চুরি করে ব্যাঙ্গালুরুর মতো বড় বড় নগরীর নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে ২০০,০০০ ভারতীয় রুপি বা তিন হাজার ডলারেরও বেশী মূল্যে বিক্রি করত।

এ চক্রটি ১৫টি নবজাতক এবং শিশুকে চুরি করে বিক্রি করেছে বলে এ পর্যন্ত তদন্তে ধরা পড়েছে। হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিতে আসা গরিব দম্পতিরা এ চক্রের শিকার হতো উল্লেখ করে তদন্ত কর্মকর্তা আরো বলেন, এ পর্যন্ত চুরি যাওয়া তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে, বাকি শিশুদের উদ্ধারের তৎপরতা চলছে। এ চক্রের সঙ্গে ডাক্তারদের যোগসাজশ থাকার আভাসও পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

এ দিকে, চেন্নাইয়ের গৃহহীন শিশুদের সহায়তায় জড়িত অলাভজনক সংস্থা কারুনালিয়ার কর্মকর্তা পল সুন্দর সিং বলেছেন, ভারতে এ জাতীয় অনেক ঘটনা ঘটছে। তার মধ্যে হাতে গোনা যে কয়টার কথা প্রকাশিত হয়েছে এটি তারই অন্যতম।

শিশু চুরি ও অপহরণকে ভারতের অন্যতম বড় সংঘবদ্ধ অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, এ জাতীয় চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে যেয়ে হিমসিম খাচ্ছে ভারতের পুলিশ। চেন্নাই নগরীর ফুটপাত থেকে চলতি বছরের গোড়ার দিকে শিশু অপহরণের যে সব ঘটনা ঘটেছে তার রহস্য এখনো সুরাহা হয় নি বলেও জানান তিনি।

উল্রেখ্য, ভারতের বড় বড় শহরের বড় বড় সরকারী, বেসরকারী হাসপাতাল ও মাতৃসদনগুলোতে নবজাতক শিশু চোর-চক্র যে সক্রিয় সে বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। বিশেষ করে দিল্রী, মুম্বাই, চেন্নাই, ভুবনেশ্বর, কোলকাতা’র মত শহরে। তবে এসব চক্রকে প্রতিহত করতে তাদের শণাক্ত করা, আটক করা এবং বিচারের মুখোমুখি করার বিষয়ে তেমন কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ে না। বরং হাসপাতালের চিকিৎসক ও বড় বড় কর্মকর্তারা এসব চক্রের সাথে জড়িত সে অভিযোগও কারো অজানা নয়।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, জের, ০৫.১১.২০১৬


Comments are closed.