>> এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর পাশের হার ৬৮.৯১

মুসলিম মহিলাদের প্রশ্ন ধর্ষণে শারিয়াহ আইনের কথা ওঠে না কেন?

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

india-muslim-women-want-triple-talaq-abolitionভারত সরকার মুখের কথায় মুসলিশ বিবাহ বিচ্ছেদ বা তিন তালাক প্রথা আইনগতভাবে রহিত করার চিন্তা-ভাবনা করছে। এ নিয়ে তারা ভারতের ‘মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড’ এর সাথে কথাও বলেছে। কিন্তু ‘মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড’ ঘোরতরভাবে এ প্রস্তাবের বিরোধী। তারা তিন তালাক প্রথাকে ইসলামী শারিয়াহ আইন হিসেবে যুক্তি প্রদর্শন করে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করছে। ভরতের ল’ কমিশন তিন তালাক প্রথার ভাল-মন্দ, সুফল-কুফল বিষয়ে সাধারণ মুসলিমদের মতামত জানতে একটি প্রশ্নমালা তৈরী করে বিতরণ করছে। ‘মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড’ ঐ প্রশ্নমালা ও জরীপ বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে।

কিন্তু ভারতের মুসলিম নারী নেত্রীরা এবং মুসলিম নারী সংগঠনগুলোর বেশীরভাগই ‘মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড’ এর সঙ্গে একমত নয়। তাঁরা তিন তালাক প্রথা রহিত/বিলোপ চান। বরং এই প্রথা নিয়ে বোর্ডের অনড় অবস্থানে ক্ষুব্ধ দেশের অধিকাংশ মুসলিম মহিলা সংগঠন। ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নুরজাহান সাফিয়া নিয়াজের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে আসলে রাজনীতি করছে ‘মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড’।

তারা বলছেন, শরিয়তকে হাতিয়ার করে পুরুষতন্ত্রকেই কায়েম রাখতে চাইছে ‘মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড’। শনিবার এমন আক্রমণাত্মক ভাবেই বোর্ডের প্রতি নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন দেশের এক সংখ্যালঘু মহিলা সংগঠনের নেতারা। তিন তালাক এবং বহুবিবাহ বা বহুগামিতা নিয়ে ‘ল’ কমিশনে’র প্রশ্নমালা বয়কট করা নিয়েও বোর্ডের কড়া সমালোচনা করেছেন তাঁরা।

শুধুমাত্র মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সমালোচনা করেই থেমে থাকেননি আন্দোলনকারী মহিলারা। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, শুধু “বৌ-তাড়ানোর” জন্য কেন শরিয়তের দোহাই পাড়া হবে? মুসলিম ধর্ষকদের কেন তবে শারিয়াহ আইনে বিচার করা হয় না?

এ প্রসঙ্গে লক্ষৌয়ের মুসলিম মহিলা ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট নাজনিন আনসারির দাবি, ল বোর্ড নিজেদের স্বার্থেই শরিয়তের আইনকে বিকৃত করছে।

তিনি বলেন, “কেবলমাত্র মুসলিম মহিলাদের স্বাধীনতার প্রশ্নেই কেন শরিয়তের আইনের প্রসঙ্গ তোলা হবে?” নাজনিনের প্রশ্ন, “ধর্ষণ বা এ রকম জঘন্য অপরাধে অভিযুক্ত মুসলিম পুরুষদের বিরদ্ধে কেন শরিয়তি আইন প্রয়োগের কথা তুলছেন না এই ধর্মীয় নেতা ও আলেমরা?”

ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলনের সদস্য জাকিয়া সোমান আবার এই ইস্যুটি নিয়ে আরও জোরদার আন্দোলনে নামতে চান।

আগ্রার মাটিতে দাঁড়িয়ে তিনি জানিয়েছেন, দেশ জুড়ে এই ইস্যুতে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে। মুসলিম মহিলারা যাতে ‘ল কমিশনে’র প্রশ্নমালায় নিজেদের মতামত জানাতে পারেন সে উদ্যোগও নেবেন তাঁরা।

তিনি বলেন, “আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে মুসলিম মহিলাদের মধ্যে ৫০ হাজার ফর্ম বিলি করা হবে। এ কাজে দেশের ১৫টি শাখা সংগঠনের সাহায্য নেওয়া হবে।”

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, জের, ১৬.১০.২০১৬


Comments are closed.