>> দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে >> মার্কিন বিমান হামলায় সিরিয়ায় আবার ২৮ বেসামরিক নাগরিক নিহত >> ঈদের পরদিন ইয়েমেনে আবার সৌদি বিমান হামলায় নিহত ১০ >> খাগড়াছড়িতে বাস উল্টে মা ও শিশুসহ নিহত ৩ আহত ১৩ >> গোপালগঞ্জে পিক-আপ উল্টে নিহত ১ আহত ৮

সুরম্য প্রাসাদের টয়লেট

প্রতাপ কামাল

Bangladesh-Pakistan combined flagঅধ্যাপক সাহেব আগুনে পুড়িয়ে মানুষ হত্যাকে আন্দোলনের কো-লেটারাল ড্যামেজ দাবী করে একটি টিভি টক শো’-তে তার মতের স্বপক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বক্তব্য রেখেছিলেন। শুধু তাই নয, তিনি মত দিয়েছিলেন, ক্ষমতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগেরই দায়িত্ব এ আগুন নেভানো (মানে সরকার পদত্যাগ করে আগুন দেয়া লোকদের ডেকে এনে বলুক, এই নে ভাই তোরে দিয়ে গেলাম)।

শেখ সেলিম পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেন নি, তিনি বলেছেন প্রয়োজন হলে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হতে পারে।

সাথে সাথে অধ্যাপক সাহেব কক কক কক কককুউউউ করে উঠলেন! বললেন, অমরা যদি পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে চাই, তাহলে পাকিস্তানের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা ঠিক হবে না।

যে পাকিস্তান ১৯৭৪ সালের ত্রিদেশীয় চুক্তি মোতাবেক ১৯৩ যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিজ দেশে আজও করে নাই, যারা আটকে পড়া পাকিস্তানী বা বিহারীদের ফিরিয়ে নেয় নাই, যারা বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরোধিতা করে সংসদে প্রস্তাব পাশ করছে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে জাতিসংঘে অভিযোগ দায়েরের আস্ফালন করছে— অধ্যাপক সাহেব বলতে চাইছেন সেই পাকিস্তানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে এবং সেই আশায় কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করতে হবে?

অধ্যাপক সাহেব জানেন, বাংলাদেশে পাকিস্তানের হাইকমিশন থাকা মানে এক কুড়ি আইএসআই এজেন্টকে কাজের সুযোগ দেয়া, বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুটির চাল চালতে দেয়া, হত্যা-সন্ত্রাসে মদদ দেয়ার সুযোগ দেয়া, আসল-নকল ভারতীয় মূদ্রা এনে বাংলাদেশ ও ভারতে নাশকতামূলক কাজের রাস্তা সহজ করে দেয়া, অস্ত্র চোরাচালানের রাস্ত খোলা রাখা, আরও কত কী!! তারপরও তিনি ষ্ট্যাটাসকো চান, কেন?

বাংলাদেশে পাকিস্তানের হাইকমিশন বন্ধ হলে, কমপক্ষে হাজার খানেক মানুষের মোটা অঙ্কের গুপ্ত মাসোহারা বন্ধ হয়ে যাবে। কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন হবার কথা শুনলে তো তাদের মাথায় বাজ পড়বেই। অবশ্য অধ্যাপক সাহেব সেখান থেকে মাসোহারা পান কী না তা আমার জানা নেই।

একজন জ্ঞানী নারী বলেছিলেন, মানুষ জন্ম নিলে তার শরীরে একটি মলদ্বার থাকবেই। ঢেকে রাখলেও সেটা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না, বন্ধও হবে না। তার কাজ দুর্গন্ধযুক্ত বিষ্ঠা ত্যাগ করা, সেটা সে করবেই। হিজবুত তাহরীরের নেতা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক গ্রেফতার হওয়ার পর এক বন্ধু বলেছিলেন, প্রাসাদ যত বিশাল আর সৃরম্য হোক, তার ভিতর দু’চারটে টয়লেট-ইউরিনাল থাকবেই!

বিচিত্র নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বিশাল প্রতিষ্ঠানে কয়েক হাজার শিক্ষকের মাঝেও এমন আছেন।

বাংলাদেশনিউজ
১৪.০৫.২০১৬


Comments are closed.