>> ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে রেল দুর্ঘটনায় ২৩ যাত্রী নিহত >> ইতালীর হিমবাহ ধ্বসে চাপা পড়া ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার মৃত ৫ নিখোঁজ ১৫ >> পাকিস্তানের শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় বোমা বিস্ফোরণে নিহত ২১ >> ইতালির ভেরনায় বাস দুর্ঘটনায় ১৬ স্কুল ছাত্র নিহত

এরদোগানের যুদ্ধ দায়েশের বিরুদ্ধে লাশ পড়ে কুর্দিদের

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Erdoganতুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান তুর্কি-সিরিয় সীমান্ত অঞ্চলে তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশ তথা আইএসআইএল-এর ওপর তুরস্কের সশস্ত্র বাহিনীর হামলা জোরদারের সরকারি পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন।

দায়েশ মাঝে মধ্যে তুরস্কের ভেতরে গোলা বর্ষণ করেছে বলে তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন। কিন্তু তার এই বক্তব্যকে অনেকেই কেবলই অজুহাত বলে মনে করছেন। তাদের কেউ কেউ বলছেন, আসলে অতীতের মতই দায়েশকে শায়েস্তা করার নামে তুর্কি সরকার তুরস্ক-সংলগ্ন উত্তর সিরিয়া অঞ্চলে সক্রিয় কুর্দি সেনাদের ওপর আঘাত হানতে চায়। অন্য একদল বলছেন, দায়েশের বিরুদ্ধে বিশ্ব-জনমতের ঘৃণা বাড়তে থাকায় তুর্কি সরকারও নিজেকে দায়েশ ও সন্ত্রাস-বিরোধী বলে তুলে ধরতে চায়।

দায়েশের সঙ্গে তুর্কি সরকারের নানা সহযোগিতা সংক্রান্ত অনেক খবর ফাঁস হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে এরদোগানের রণমূর্তি ধারণকে লোক-দেখানো বলেই মনে করছেন একদল বিশ্লেষক। সম্প্রতি মিশরের কৌশলগত গবেষণা কেন্দ্র জানিয়েছে, এরদোগান বছর-খানেক বা তারও কিছু আগে দায়েশের হাতে ৪৯ তুর্কি নাগরিককে পণবন্দী করার ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছিলেন, কোনো মুসলমান তার মুসলমান ভাইয়ের ওপর জুলুম করেন না! অথচ এই ‘ভাইদের’কেই তুর্কি সরকার সহায়তা দেয় না বলেই দাবি করে! তুর্কি সরকার এদেরকে সন্ত্রাসী বলে স্বীকার করেনি এবং তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোরও বিরোধিতা করেছে। ইরাক ও সিরিয়ার সঙ্গে তুরস্কের রয়েছে ১২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ অভিন্ন সীমান্ত। আর বিদেশ থেকে আসা সরলমনা জিহাদি বা সন্ত্রাসীদের একটা বড় অংশ তুরস্ক দিয়েই ইরাক ও সিরিয়ায় ঢুকে দায়েশসহ নানা তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে যোগ দিচ্ছে।

তুরস্ক দায়েশের জন্য সিরিয়ায় অস্ত্র-চালান পাঠিয়েছে এবং দায়েশের আহত সন্ত্রাসীদেরকেও তুর্কি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সেবা দিয়েছে। সীমান্ত-সংলগ্ন তুরস্কের হোটেলগুলো পরিণত হয়েছে সন্ত্রাসীদের আবাসস্থলে।

দায়েশের চুরি-করা হাজার হাজার টন জ্বালানী তেল পাচারের ও বিক্রির সুযোগও করে দিয়েছে তুর্কি সরকার। তুরস্কের তেল-বাজার বেশ লাভবান হয়েছে সস্তায় তেল পেয়ে । তুরস্কের সংসদের বিরোধী দলীয় নেতারা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে এরদোগান সরকারের ওপর প্রবল চাপ দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি হয়েছে নিউইয়র্ক টাইমসেও।

তুরস্ক তাকফিরি সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। কুবানিতে দায়েশের হামলার আগে ১৮০ জন দায়েশ সদস্য তুর্কি পুলিশের কাছে ধরা পড়লেও তাদের ছেড়ে দিয়েছিল। তুর্কি যুবকরাও অবাধে যোগ দিতে পেরেছে এইসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে।

জার্মান রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনও এক প্রামাণ্য প্রতিবেদন প্রচার করে জানিয়েছে, ইস্তাম্বুলের ফাতেহ সড়কে রয়েছে দায়েশের কার্যালয়। এখানে সংগ্রহ করা হয় দায়েশের জন্য নানা সাহায্য ও অনুচর যারা সিরিয়া ও ইরাকে ঢুকে সন্ত্রাসী বাহিনীতে যোগ দিচ্ছে। এই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তুরস্কের বেশ কয়েকটি সেনা-ঘাঁটি দায়েশের যোদ্ধা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসবের মধ্যে গাজি আন্তাপ, আরুফা এবং আল ওসমানিয়া ঘাঁটি বা শিবিরগুলোর কথা বলা যায়।

সিএনএনও এক প্রতিবেদনে দেখিয়েছে, বিদেশী যোদ্ধারা তুরস্ক সীমান্ত দিয়ে সিরিয়ায় ঢুকছে। এই টেলিভিশন মৌরিতানিয়া, লিবিয়া, মিশর, সৌদি আরব ও ব্রিটেনের স্বেচ্ছাসেবী সন্ত্রাসীদের ছবিও দেখিয়েছে যারা সিরিয়া সীমান্তের কাছে অবস্থিত তুরস্কের ‘হাতাই’ বিমানবন্দর থেকে সিরিয়ায় ঢুকেছে। এইসব প্রমাণের আলোকে বলা যায় দায়েশের বিরুদ্ধে হামলার কথিত তুর্কি আয়োজন তুর্কি নাগরিক ও পাশ্চাত্যসহ বিশ্ববাসীকে বোকা বানানোর ব্যর্থ চেষ্টা অথবা তুরস্কের ঘরোয়া রাজনৈতিক সংকটকে আড়াল করারই প্রচেষ্টা। ইউরোপীয় জোটের অর্থ সাহায্য পাওয়া ও ইউরোপে তুর্কি যুবকদের বিনা ভিসায় ঢোকার অনুমতি লাভও এ চেষ্টার অন্যতম লক্ষ হতে পারে।

-পারস টুডে

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, জের, ১৪.০৫.২০১৬


Comments are closed.