>> জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ৩০ ডিসেম্বর : শিক্ষামন্ত্রী >> ইয়েমেনের রাজধানী সানায় আবার সৌদি বিমান হামলা নিহত ৩ >> হবিগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষে ২ জন নিহত

ধর্মের নামে উগ্র সন্ত্রাসবাদ বিস্তারে সৌদি আরবের ভূমিকা

নিউজডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Saudiজাতিসংঘে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ আল মোয়াল্লেমি দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সন্ত্রাসবাদ বিরোধী যুদ্ধ এবং নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় রিয়াদ প্রস্তুত রয়েছে। তিনি নিরাপত্তা পরিষদে সন্ত্রাসবাদ ও এর নানা দিক নিয়ে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত আলোচনা সভায় দাবি করেছেন, পশ্চিম এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদের উৎস হচ্ছে ইরান। যদিও তিনি ইরাক ও সিরিয়ায় তৎপর উগ্র তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী দায়েশকে তাদের অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছেন।

জাতিসংঘে সৌদি রাষ্ট্রদূত এমন সময় সত্য ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন যখন এটা সবারই জানা আছে যে, উগ্র ওহাবি ও সালাফি গোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সৌদি আরবই মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটাচ্ছে। দায়েশ, আল কায়দা ও তালেবানসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে সৌদি আরবের ব্যাপক প্রভাব ও উপস্থিতি রয়েছে। যে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ঘটনায় সৌদি আরবের পূর্ণ সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। এ ছাড়া, বিভিন্ন অশুভ লক্ষ্যকে সামনে রেখে সৌদি আরব উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে ইসরাইল, আমেরিকা, কাতার ও তুরস্কের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের অর্থ, অস্ত্র পেয়ে ও ধর্মের নামে বিভ্রান্ত ওহাবি আদর্শে অনুপ্রাণিত সন্ত্রাসীরা ইয়েমেনের কিছু অংশ এবং ইরাক ও সিরিয়ায় হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে। সৌদি আরব সন্ত্রাসীদের সমর্থন দেয়ার পাশাপাশি সমগ্র অঞ্চলে ধর্মের নামে উগ্র ওহাবি ও সালাফি মতাদর্শের বিস্তার ঘটিয়ে চলেছে। এ কারণে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে ধর্মের নামে যেসব সহিংস ঘটনা ঘটছে তার উৎস খুঁজতে গেলে সৌদিপন্থী উগ্র ওহাবি সালাফিদের কর্মকাণ্ডের মধ্যেই দেখতে হবে।

সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে অথচ ইরান দীর্ঘ বহু বছর ধরে সন্ত্রাসবাদের শিকার হয়ে আসছে এবং এ পর্যন্ত ইরানের প্রচুর জান মালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু তারপরও ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এবং নানা গঠনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। ইরান মনে করে, এ অঞ্চলের দেশগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সত্যিকারের যুদ্ধের অংশ হিসেবে ইরাক ও সিরিয়া সরকারকে সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। ইরানের মতে সন্ত্রাসবাদকে কখনও ভালো ও মন্দ এ দু’টি ভাগে ভাগ করা যায় না বরং সন্ত্রাসবাদের মূল শেকড় মূলোৎপাটন করতে হবে।

জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের উপরাষ্ট্রদূত গোলাম হোসেন দেহকানি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সমাজের উচিৎ অন্য সব কিছুর আগে সন্ত্রাসীদের উগ্র চিন্তাভাবনা বিস্তারের উৎসগুলো বন্ধ করা যাতে ধর্মের নামে ভ্রান্ত চিন্তা যুবকদেরকে বিপথগামী করতে না পারে।

বর্তমানে উগ্র ওহাবি সালাফিদের সহিংস কর্মকাণ্ডে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে যার মূল উৎস হচ্ছে সৌদি আরব। দায়েশ, আন্‌ নুসরা, আল কায়েদা, তালেবান এসবই সৌদিপন্থী উগ্র ওহাবি সালাফিদের ভ্রান্ত চিন্তার ফসল। সৌদি আরবের ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসব উগ্র গোষ্ঠী তৎপরতা চালাচ্ছে।

সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দেয়া ছাড়াও সৌদি সরকার ইরাক ও সিরিয়ায় গোত্রীয় সংঘাত উস্কে দেয়ারও চেষ্টা করছে। সৌদি আরবের এ নীতি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের জন্য বড় জুলুম। সৌদি আরব একদিকে প্রকাশ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন দিচ্ছে। অন্যদিকে রিয়াদ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যে যুদ্ধের কথা বলছে বাস্তবতার সঙ্গে তার কোনো মিল নেই। কারণ ইহুদিবাদ ও সন্ত্রাসবাদেরে রূপ একই।

-পারস টুডে

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, জের, ১২.০৫.২০১৬


Comments are closed.