>> আর্জেন্টিনায় পাহাড়ের পাশে বাস উল্টে নিহত ১৯ >> রাজধানীতে বিমানবন্দর এলাকায় বাসের ধাক্কায় ঠেলাগাড়িচালক নিহত

উত্তর কোরিয়ার বার্তা

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

NK mapগত শনিবার উত্তর কোরিয়ার ওয়ার্কাস পার্টির কংগ্রেসে দেশটির নেতা কিম জং উন যে বক্তব্য রেখেছেন, আন্তর্জাতিক ও কৌশলগত সামরিক বিশ্লেষকরা সেটাকে নিছক একটি বক্তৃতা বলে মনে করছেন না, তাঁদের দৃষ্টিতে এটা আমেরিকা, জাপান ও অন্যান্য পশ্চিমা দেশগুলির প্রতি গুরুত্বপূর্ণ বার্তাও বটে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন বলেছেন, পরমাণু অস্ত্রধর আগ্রাসী কোনো শত্রু দেশ থেকে হুমকির মুখে না পড়লে পিয়ংইয়ং আগে কোনো দেশের বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না। তিনি উত্তর কোরিয়াকে দায়িত্বশীল পরমাণু শক্তিধর দেশ বলেও উল্লেখ করেন। কিম জং-উন বলেন, দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত আসার আগ পর্যন্ত যে কোনো ধরনের পারমাণবিক অস্ত্রের ব্যবহার থেকে বিরত থাকবে তাঁর দেশ। তিনি বলেন, একটি দায়িত্বশীল পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারে সক্ষম রাষ্ট্র হিসেবে তাঁরা ততক্ষণ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকবেন, যতক্ষণ তাঁদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি হুমকি সৃষ্টি না হবে। বরং, উত্তর কোরিয়া বিশ্বস্ততার সঙ্গে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের বাধ্যবাধকতা অনুসরণ করবে। তবে একই সাথে পরমাণু অস্ত্র উন্নয়ণ কর্মসূচী অব্যাহত রাখবে।

কিম আরও বলেন, সম্পর্ক খারাপ থাকা দেশগুলোর সঙ্গে অতীতের শত্রুতা সত্ত্বেও নতুন করে সম্পর্ক তৈরি করতে চায় উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গেও নিজেদের সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য আগ্রহী তাঁর দেশ। কিম জং কোরিয় উপদ্বীপে বিরাজমান উত্তেজনা ও ভুলবোঝাবুঝি দূর করার জন্য সংলাপে বসতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানান এবং দুই কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার বিরুদ্ধে তিনি আমেরিকাকে হুঁশিয়ার করে দেন।

উত্তর কোরীয় নেতা এদিন একসাথে দুটি বার্তা দিয়েছেন। প্রথমতঃ, ভারত ও পাকিস্তানকে পরমাণু শক্তিধর দেশ হিসেবে মেনে নিয়ে যেভাবে তাদের সাথে স্বাভাবিক কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক রক্ষা করা হচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার সাথেও একই রকম আচরণ করতে হবে। দ্বিতীয়তঃ, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পূর্বশর্ত হিসেবে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচী বন্ধ এবং পরমাণু বোমা ধ্বংসের যে দাবী করা হচ্ছে, তা ত্যাগ করতে হবে। কারণ, দেশটি কখনও পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করবে না।

কেন পরমাণু অস্ত্র ত্যাগ করবেনা, তার ব্যাখ্যাও ইতোপূর্বে উত্তর কোরীয় নেতা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন পশ্চিমাদের বিশ্বাস করা যায় না। ইরাক ও লিবিয়া তাদের দাবী মতে পরমাণু কর্মসূচী বন্ধ করেছিল এবং গণবিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংস করেছিল। তারপরও নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে পশ্চিমারা তাদের জিঘাংসা চরিতার্থ করেছে, দেশ দু’টিকে ধ্বংস করেছে, লক্ষ লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে। এ প্রসঙ্গে কিম জং বলেন, ইরাক ও লিবিয়ার কাছে যদি পরমাণু বোমা বা হাইড্রোজেন বোমা থাকতো, তাহলে আমেরিকা ও পশ্চিমারা দেশ দু’টিকে এভাবে ধ্বংস করতে পারতো না।

বাংলাদেশনিউজ
০৯.০৫.২০১৬


Comments are closed.