>> এমপি লিটন হত্যা মামলায় কাদের খানসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র >> মানবতার দুশমন ইসরাইল ক্ষমাহীন শাস্তির মুখে পড়বে: উত্তর কোরিয়া >> তীব্র আক্রমণে ইয়েমেনের হুথি বাহিনী ১০ সৌদি সেনাকে উড়িয়ে দিল >> তুরস্কে আরও ৪০০০ সরকারী কর্মকর্তা চাকরীচ্যূত

তখন হয়তো আওয়ামী লীগেরও কিছু করার থাকবে না

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Logo Illustrator editorial Color 1আধৃনিক নগরায়নের কতগুলো অবশ্যম্ভাবী পরিণতি আছে, যা হতেই হবে। আধুনিক নগরায়ন প্রক্রিয়ায় ভূমি ভিত্তিক মধ্যবিত্তরা ভাসমান মধ্যবিত্তে পরিণত হয়, হতেই হবে। এ প্রক্রিয়ায় সাবসিস্টেন্স পরিবারগুলো বাস্ত হারিয়ে বস্তিবাসী হয়, হতেই হবে। তাদের সাথে এসে যোগ দেয় গ্রাম থেকে ভূমিহীন হয়ে যাওয়া নিঃস্ব পরিবারগুলো। আধুনিক নগরে ভূমি ভিত্তিক মধ্যবিত্ত যারা ভাসমান মধ্যবিত্তে পরিণত হয়েছে এবং সাবসিস্টেন্স পরিবার যারা বস্তিবাসী হয়েছে সেইসব পরিবারের অনেক মেয়েরা তাদের সাবেক জমিতে গড়ে ওঠা রিয়েল ষ্টেট ফ্লাট বাড়ি ও হোটলে যৌনকর্মী হিসবে কাজ করে, পুরুষরা হয় দারোয়ান, মালি, ড্রাইভার। আবার যেখানে আধুনিক নগরায়নের সাথে শিল্প বিকাশের নামে দুর্বৃত্ত পুঁজির মেলবন্ধন ঘটেছে, সেখানে শত শত গার্মেন্টস ফ্যাক্টরীর মত ফটকা শিল্প গড়ে ওঠেছে। এ প্রক্রিয়ার ভিকটিম হয় আবার সেই শহুরে এবং গ্রামীণ দরিদ্ররা যাদের সিংহভাগই নারী। আধুনিক শিল্প ভিত্তিক নগরায়নের ভিকটিম এসব নারীদের জীবন কাহিনী আপনারা সবাই জানেন, নতুন করে গল্প ফাঁদার প্রয়োজন নাই।

আমাদের দেশের রাজরীতি ও রাজনৈতিক দলের নগরায়ন প্রক্রিয়া শুরু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যার পর। রাজরীতি ও রাজনৈতিক দলের সর্বশেষ আধুনিকায়ন প্রক্রিয়াও এখন স্পষ্টরূপে দৃষ্টিগ্রাহ্য হচ্ছে। একপক্ষ তাদের আধুনিক রাজনীতির নীতিকৌশলের অংশ হিসেবে স্বাধীনতা বিরোধী খুনী রাজাকার সন্ত্রাসী জাময়াত শিবিরের সাথে অবিচ্ছেদ্য আত্মীয়তা করে বসে আছে, আর এক পক্ষ রং পাল্টানো জাময়াত শিবির রাজাকারদের কপালে “ওলামা লীগ” সাইনবোর্ড লাগিয়ে তাদের সাথে প্রণয়ে লিপ্ত হয়েছে। কে কত ইসলাম বান্ধব-তা প্রমাণের অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে এখন। কিন্তু বাস্তবতা হল বাংলার মানুষ জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার পছন্দ করে ন। জমায়াতই তার প্রমাণ। স্বাধীনতার পর খুন, রগ কাটা, বোমাবাজী, হাজার-হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ– এত কিছু করার পরও সেই চার পার্সেন্টের ব্রাকেট মুক্ত হতে পারে নি, সেখানেই বন্দী হয়ে আছে। আপর দিকে স্বাধীনতা বিরোধী খুনী রাজাকার সন্ত্রাসী জাময়াত শিবিরের সাথে যারা আত্মীয়তা পাতিয়েছে, তারা এখন শক্তি ও জনসমর্থন হারিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী থেকে করুণা প্রার্থীতে পরিণত হয়েছে।

নগরায়ন-শিল্পায়ন প্রক্রিয়ার শুরুতে ভূমি ভিত্তিক মধ্যবিত্ত এবং সাবসিস্টেন্স পরিবারগুলো অলীক স্বপ্ন দেখা শুরু করে, তারা ভাবতে থাকে নগরায়ন ও শিল্পায়ন তো তাদেরই ভালোর জন্য, এলাকার উন্নতি হবে, দেশের উন্নতি হবে, তাদের কর্মসংস্থান হবে, ছেলে-মেয়ে মানুষ হবে, দুঃখ-কষ্টের দিনও শেষ হবে। এই অলীক স্বপ্ন দেখতে দেখতে যখন তারা আবিস্কার করে, আসলে তারা নিদারুণ ভাবে ভিকটিমে পরিনত হয়েছে, তখন তাদের আর করার কিছু থাকে না।

সময়কালে সজাগ না হলে, আজ হোক কাল হোক, আওয়ামী লীগ যখন একদিন আবিস্কার করবে, তারা ওলামা লীগের সাথে প্রণয়লীলার ভিকটিমে পরিণত হয়েছে, তখন হয়তো তাদেরও কিছু করার থাকবে না।

বাংলাদেশনিউজ
১৩.০৪.২০১৬


Comments are closed.