>> জাতীয় দলের ক্রিকেটার আরাফাত সানি গ্রেফতার ১ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর >> পাপুয়া নিউ গিনিতে ৮ মাত্রার ভূমিকম্প : সুনামি সতর্কতা জারি >> মিয়ানমারে মিনিবাসে আগুন লেগে ৭ প্রকৌশলীসহ নিহত ৮ >> ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে রেল দুর্ঘটনায় ২৩ যাত্রী নিহত >> ইতালীর হিমবাহ ধ্বসে চাপা পড়া ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার মৃত ৫ নিখোঁজ ১৫ >> সাভার আশুলিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত

প্রথমতঃ পুলিশ এবং চুড়ান্ত বিচারে সরকার দায়ী

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Child abuse and murderআজ শনিবার ২৬ ডিসেম্বর আবার নোয়াখালী জেলার কবিরহাট উপজেলার চন্দ্রশুদ্দি গ্রামে পনের বছর বয়সী এক কিশোরকে সাইকেল চুরির অভিযোগে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কোন কোন পত্রিকা /পোর্টালের খবরে তাকে গুলি করা হয়েছে এমন কথাও বলা হয়েছে। নিহত কিশোর আবু তাহের শাকিল ঐ গ্রামের মৃত আবুল হাশেমের ছেলে।

বিগত ছয় মাসে দেশে নির্মমভাবে শিশু-কিশোর হত্যার বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে গেছে যা সারা জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। তার মধ্যে হয়েকটি ঘটনার বিচার সম্পন্ন করে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও নিশ্চিত করা হয়েছে। কারা কারা এভাবে নিহত হয়েছিল, জাতি তা জানে, তাই তাদের তালিকা এখানে উল্লেখ করতে চাইনা। তবে পরিতাপের বিষয় হ’ল এ ধরণের নৃশংস বর্বরতার পরিসমাপ্তি ঘটছে না। যার প্রমাণ হতভাগ্য কিশোর আবু তাহের শাকিল-এর মৃত্যুর এই ঘটনা।

প্রশ্ন হ’ল বাংলাদেশের বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে এমন ঘটনা ঘটবে কেন বা ঘটার সময় পাবে কেন? কারণ, প্রতিটি গ্রামে এখন চৌকিদার আছে। আছে প্রতি ইউনিয়নে, প্রতি গ্রামে ভিডিপি। এছাড়া আছে পুলিশ ও র‌্যাব-এর সোর্স। সোর্স খাতে পুলিশ প্রচুর অর্থ ব্যয় করে থাকে। উপরন্তু এখন মোবাইল ফোনের যুগ, নিজের না থাকলেও হাত বাড়ালে আশে-পাশে কারো না কারো মোবাইল ফোন আছে এবং জরুরী প্রয়োজনে অন্যের ফোন আমরা হর-হামেশা ব্যবহারও করছি। এখন আবার অনেক গ্রামে প্রশিক্ষত যুবক-যুবতীরা ডিজিটাল সেবা কেন্দ্র পরিচালনা করছে। তাহলে একজন মানুষকে অপহরণ, নির্যাতন বা পিটিয়ে হত্যার মত ঘটনা আগেই কেন পুলিশ জানতে পারবে না? পুলিশকে কেন ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগর উপর নির্ভর করতে হবে? কেন পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে? পুলিশ একটু সতর্ক এবং সচেতনভাবে তার নেটওয়ার্ক কাজে লাগালে এ ধরণের ঘটনা প্রতিরোধ করা অবশ্যই সম্ভব।

স্বভাবতঃই এসব ঘটনা ঘটার জন্য প্রাথমিকভাবে পুলিশের উদাসীনতা বা সিরিয়াসনেসের অভাবকেই দায়ী করতে হয়। দায় উপজেলা নির্বাহী অফিসাররাও এড়াতে পারেন না। একটি জেলায় আইন-শৃঙাখলা রক্ষার দায়িত্ব পুলিশের। এতদ্বসত্বেও জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কৃতিত্ব বা দায় যেটাই বলি তার দায় কিন্তু জেলা প্রশাসকের। ঠিক তেমনি একটি উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দায়-দায়িত্ব উপজেলা নির্বাহী অফিসারের।

আবার চুড়ান্ত বিচারে এর জন্য দায়ী সরকার। কারণ, জন-নিরাপত্তা বা জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বিধান করার দায়িত্ব সরকারের। সরকার দেশে এমন একটি পরিবেশ তৈরী করবে বা নিশ্চয়তা দিবে, যে পরিবেশে মানুষ উদ্বেগহীন জীবন-যাপন করতে পারবে। জন-নিরাপত্তা বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বলতে শুধু একটি অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর এবং নাগরিকের চুড়ান্ত ক্ষতি বা সর্বনাশ হয়ে যাওয়ার পর, মন্ত্রী থেকে শুরু করে পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অকুস্থল পরিদর্শন এবং অপরাধীর বিচার ও শান্তি বিধানের গ্যারান্টি দেয়া বুঝায় না। জন-নিরাপত্তা বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বলতে অপরাধমূলক ঘটনা ঘটবে না সেই নিশ্চয়তা প্রদান বুঝায়।

কিন্তু অপরাধ বা অপরাধমূলক ঘটনা ঘটবে না (ঘটলেও তুলনামূলক অনেক কম ঘটবে), এমন পরিবেশ সৃষ্টিতে পুলিশ-প্রশাসনের কর্মতৎপরতা নিশ্চিত করতে সরকার বরাবরই ব্যর্থ হয়েছে। আগেও ব্যর্থ হয়েছে, এখনও হচ্ছে। শুধু তাই নয়, ইদানিং লক্ষ্য করা যাচ্ছে পুলিশের এক শ্রেণীর বিপথগামী সদস্য পুলিশেরই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ছিনতাই থেকে অপহরণ ও হত্যার মত অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে। এদের সংখ্যা অনেক কম, তবে একেবারেই নগণ্য নয়। আর এদের কারণে বিশাল পুলিশ বাহিনীর দিন-রাত পরিশ্রমে অর্জিত সাফল্য যেমন ম্লান হচ্ছে, তেমনি পুলিশের প্রতি সাধারণ নাগরিকদের আস্থার জায়গাটি ক্রমে ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ছে। এ ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, সরকার বর্তমান প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে কার্যকরভাবে পুলিশ বাহিনীকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পারছে না এবং পুলিশের সততা ও নৈতিক মনোবলের মান রক্ষায় পুরোপুরি সক্ষম হচ্ছে না। ফলে সরকারও তার দায় এড়াতে পারে না।

বাংলাদেশনিউজ
২৬.১২.২০১৫


Comments are closed.