>> কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে >> স্পেনের বার্সেলোনায় পথচারীদের উপর ভ্যান নিহত ১৩ আহত ৫০ >> সিরিয়ায় মার্কিন জোটের বিমান হামলায় ৬ বেসামরিক ব্যক্তি নিহত

সিরিয়ায় জাতীয় ঐক্য গঠনের চেষ্টা করছে রাশিয়া

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

syria-mapসিরিয়ায় জাতীয় ঐক্য গঠনের মাধ্যমে দেশটির সার্বভৌমত্ব ও ভৌগলিক অখণ্ডতা রক্ষার চেষ্টা করছে রাশিয়া। এ লক্ষ্যে অইএস এর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত আসাদ বিরোধী কয়েকটি গ্রুপকে সহায়তা দিচ্ছে রাশিয়ার সশস্ত্রবাহিনী। তাদের সহায়তায় বিমান হামলা চালানোসহ আধুনিক অস্ত্র ও গোলাবারূদ সরবরাহ করছে।

প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার বলেছেন, সিরিয়ায় রুশ বাহিনী ইসলামিক স্টেট গ্রুপসহ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে লড়ছে এমন কিছু বিরোধী গোষ্ঠীকেও বিমান সহায়তা দিচ্ছে।

রাশিয়া সিরিয়ার রাজনৈতিকভাবে বিবাদমান দেশপ্রেমিক গ্রুপগুলোকে দায়েশ ও সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করছে। এর ফলও পাওয়া যাচ্ছে। ইতোমধ্যে এফএসএ-সহ কয়েকটি গ্রুপ সরকারী সেনাবাহিনীর সাথে একত্রিত হয়ে আইএস এর উপর অভিযান চালাতে শুরু করেছে। তারা রাশিয়ার বিমান বাহিনী ও বাগদাদ তথ্যকেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ রেখে সন্ত্রাসীদের সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রদান করে সহায়তা করছে।

এ প্রচেষ্টাটি রাশিয়া শুরু করেছিল ২০১৩ সালে। তখন থেকে রাশিয়া সিরিয়ায় যুদ্ধরত দেশপ্রেমিক গ্রুপগুলোর সাথে যোগাযোগ গড়ে তোলে এবং সিরিয়ার রাজনীতিতে তাদের ভূমিকা পালনের অধিকারকে স্বীকৃতি প্রদান করে। এর ফলে তাদের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক আরো নিবিড় হয়। শুধু তাই নয়, রাশিয়া আসাদ সরকারের সাথে এই গ্রুপগুলোর ক্ষমতা ভাগাভাগিরও প্রস্তাব দেয়। রাশিয়া দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করে, আসাদ সরকার এবং সিরিয়ার অসন্ত্রাসী দেশপ্রেমিক গ্রুপগুলো ঐক্যবদ্ধ হলে বিদেশী মদদপুষ্ট এবং বিদেশীদের দ্বারা পরিচালিত দায়েশ বেশী দিন টিকতে পারবে না।

২০১৪ সালে রাশিয়া এসব গ্রুপের সাথে মস্কোতে প্রথম একটি বৈঠকে বসে। তারপর এ পর্যন্ত চার-পাঁচ বার বৈঠক হয়েছে। তবে প্রথম বৈঠকের পর কয়েকটি গ্রুপ এই প্রক্রিয়া থেকে বেরিয়ে যায়, কারণ তারা আমেরিকা ও সৌদি অরবের পরামর্শে তাৎক্ষণিক আসাদের অপসারণ দাবী করে এবং সে দাবী পূরণে রাশিয়াকে ভূমিকা পালন করতে বলে। যাহোক, এরপর বাকী ৫-৬টি গ্রুপের সাথে রাশিয়ার যোগাযোগ ও বৈঠক অব্যাহত থাকে। যার ধারাবাহিকতায় রাশিয়া ঐ গ্রুপ গুলোর সাথে সিরিয়া সরকারের সহযোগিতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে।

রাশিয়ার এ উদ্যোগের প্রতিপাদ্য বিষয় হ’ল, “আগে দায়েশ দমন, মাতৃভূমি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পরে রাজনৈতিক সমঝোতা”। মনে হচ্ছে সিরিয়ায় জাতীয় ঐক্য গঠনে রাশিয়ার প্রচেষ্টা সাফল্যের দিকে যাচ্ছে। যদিও সামনের পথি এখনও বন্ধুর ও কন্টকময়।

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, জের, ১৮.১২.২০১৫


Comments are closed.