>> জর্দানে ইসরাইলি দূতাবাসে হামলা গুলিতে একজন নিহত >> এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর পাশের হার ৬৮.৯১ >> আফগানিস্তানে বিমান হামলায় ১৩ জঙ্গি নিহত ৩ জন আহত >> ইসরাইলি বর্বরতায় পশ্চিম তীরে আরও ২ ফিলিস্তিনি নিহত

কাজটি সৌদি আরব ও আমিরাতের

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

AMerican coalition bombing of Syrian Army position at Deir Az Zor৭ ডিসেম্বর সিরিয়ার দেইর আজ জোর বিমান ঘাঁটির একটি সেনা ক্যাম্পে বিমান হামলার ঘটনা ঘটে। সিরিয়া অভিযোগ করে যে, আমেরিকার নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের বিমান থেকে হামলা চালানো হয়। আমেরিকা প্রথম বলে যে, রাশিয়ার বিমান এ হামলা চালিয়েছে। পরে রাশিয়াকে অভিযুক্ত না করে বলে যে, আমেরিকার বা বৃটেনের কোন বিমান সেদিন ঐ অঞ্চলে যায়নি। তবে কোয়ালিশনের কোন বিমান হামলা চালায়নি সে কথা আর জোর দিয়ে বলে নি। উল্লেখ্য, আমেরিকার নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের কমবেশী ১৬টি দেশ ইরাক ও সিরিয়ায় বিমান হামলায় অংশ নিচ্ছে।

কিন্তু রাশিয়া জানায় সেদিন আমেরিকার নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের চারটি বিমানকে ঐ এলাকার আকাশে দেখা গিয়েছে। রাশিয়া জানায়, এ বিষয়ে ভিডিও চিত্রসহ উপগ্রহ চিত্র ওবং রাডার ইমেজ রয়েছে। তবে রাশিয়া সুনির্দিষ্টভাবে কোন দেশের নাম উল্লেখ করেনি।

এমন কি সিরিয় সেনাদের সাথে স্থানীয় অধিবাসীরাও জানায় যে, তারাও ৪টি বিমান দেখেছে এবং বিমান থেকে বোমা এ রকেট হামলা চালাতে দেখেছে। তারা জানায়, সেগুলো সিরিয়ার বিমান নয়, কারণ সিরিয়ার পুরোন মডেলের বিমান দেখে এবং সেগুলোর শব্দেই তারা বুঝতে পারে। আর (৩০ সেপ্টেম্বরের পর) এতদিনে তারা সিরিয়ায় রাশিয়ার সব বিমানও চিনে ফেলেছে। ঐ চারটি বিমান রাশিয়ার বিমান নয় বলে তাদের ধারণা।

এদিকে, সিরিয়ায় বিমান হামলা ও সেনা প্রেরণ বিষয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ৩ ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত হবার পরপর সেদিনই ব্রিটিশ বিমান সিরিয়ায় ‘কথিত দায়েশ নিয়ন্ত্রিত তেল ক্ষেত্র, তেল স্থাপনা ও পাইপলাইনে’ হামলা চালায়। তারপর তারা ৫ ডিসেম্বর আবার হামলা চালায়। তবে পরবর্তীতে সিরিয়ায় বিমান হামলা আপাততঃ বন্ধ রেখেছে, কারণ সিরিয়ার কন্ট্রোল টাওয়ার বা আকাশে উড্ডীন সিরিয়া বা রাশিয়ার কোন বিমান তাদের সাথে কোন রকম যোগাযোগ করছে না বা ব্রিটিশ বিমানের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও সাড়া দিচ্ছে না। ফলে ৭ ডিসেম্বর ব্রিটিশ বিমান সেখানে হামলা চালানোর প্রশ্ন ওঠে না।

তবে কোন দেশের বিমান হামলা চালিয়েছে তা আমেরিকা জানতো। কিন্তু জানলেও বোধগম্য কারণে আমেরিকা সেটা প্রকাশ করে নি বা করবেও না। আর জানে বাগদাদ তথ্য কেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত চারটি দেশ- রাশিয়া, ইরান, ইরাক ও সিরিয়া। কিন্তু কৌশলগত কারনে তারা সুনির্দিষ্ট নাম প্রকাশ না করে, আমেরিবান কোয়ালিশন এর কথা বলেছে। তবে ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশীরভাগ নিরাপত্তা বিশ্লেষক ধরে নিয়েছিলেন আমেরিকা ও ব্রিটেন এ হামলা চালিয়েছে।

কিন্তু ১৭ ডিসেম্বর পেন্টাগন আবার নিশ্চিত করেছে যে, ২৬ নভেম্বর রাশিয়া সিরিয়ায় এস ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপন করার পর আমেরিকার কোন বিমান সিরিয়ার আকাশ সীমায় প্রবেশ করেনি। কাজেই এটা নিশ্চিত হ’ল যে, দেইর আজ-জোর-এ হামলার ঘটনা আমেরিকা ঘটায়নি।

এদিকে, সৌদি আরব ও আমিরাত যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তার সকল প্রকার সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত হয়ে, কয়েকদিন আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন নির্দেশ দিয়েছেন, ‘রাশিয়ার প্রতি হুমকি সৃষ্টিকারী কোন বস্তু সিরিয়ার আকাশে, স্থলভাগে বা পানিসীমায় দেখামাত্র অবিলম্বে ধ্বংস করে দাও’। প্রেসিডেন্ট পুতিনের এ ঘোষণা আমেরিকাকে অরও দুঃশ্চিন্তায় ফেলেছে। সিরিয়ায় তাদের নীতি-কৌশল কী হবে সে বিষয়ে এক ধরনের জটিলতার মধ্যেও পড়েছে।

উল্লেখ্য, দেইর আজ-জোর বিমান ঘাটি ও সেনা ক্যাম্প এমন একটি স্থান যেটি আইএস বা আল-নূসরা কখনও করায়ত্ব করতে পারেনি। এক সময় পুরো প্রদেশটি সন্ত্রাসীদের দখলে চলে গেলেও সিরিয় সেনারা মাটি কামড়ে ধরে এই বিমান ঘাঁটিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়। দেইর আজ-জোর প্রদেশটি দখলে নেয়ার পর থেকে প্রতি সপ্তাহে ৩ থেকে ৪ বার এই ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীরা চালিয়েছে, কিন্তু সফল হতে পারেনি। এমন কি এবছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর তিন মাস প্রতিদিনই কামান, মর্টার ও গাড়ি বোমা হামলা চালিয়েছে, সফল হয়নি।

প্রকৃত ঘটনা হ’ল সেদিন সৌদি আরব ও আমিরাতের যুদ্ধ বিমান ইরাকের আনবার প্রদেশের উপর দিয়ে এসে দক্ষিণপূর্ব দিক থেকে সিরিয়ার দেইর আজ-জোর প্রদেশে ঢুকে বিমান ঘাঁটি ও সেনা ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে আবার আনবার প্রদেশ দিয়েই বেরিয়ে যায়। হয়তো বিমান হামলা চালিয়ে সৌদি আরব ও আমিরাত ঘাঁটিটি দখলে নিতে সন্ত্রাসীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল।

বাংলাদেশনিউজ
১৮.১২.২০১৫


Comments are closed.