>> ঢাকা সিএমএম কোর্টে জামিন জালিয়াতিতে পাঁচজনের ১৪ বছর করে কারাদণ্ড >> সিরিয়ার রাকায় স্কুলে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ৩৩ >> ব্রিটিশ পার্লামেন্টের বাইরে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ৪

অভিনন্দন অং সান সুচি

শরীফ এ. কাফী

Aung San Suu Kiy 101অভিনন্দন অং সান সুচি! মিয়ানমারের জাতীয় নির্বাচনে “ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসী” দলের বিজয়ে দলটির চেয়ারপার্সন অং সান সুচি আপনাকে অভিনন্দন! তবে বলে রাখি, এ অভিনন্দন যতটা না আন্তরিকতা, তারচে’ বেশী আনুষ্ঠানিকতা। তার কারণ হ’ল, মিয়ানমারে যতবার রোহিংগ্যাদের উপর হত্যা, ধর্ষণ, গৃহে অগ্নিসংযোগ, ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদের মত নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে, তার একবারও আপনি “টু” শব্দটি করেন নি, নিন্দা করা তো দুরের কথা! আপনি যতবার বিদেশী সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন, তখন আপনি সযত্নে বিষয়টি এড়িয়ে চলেছেন। এড়িয়ে চলেছেন বাংলাদেশ থেকে কয়েক লক্ষ রোহিংগ্যাকে ফিরিয়ে নেয়ার প্রসঙ্গটিও। আপনি গৃহবন্দীত্ব থেকে মুক্তি পেয়ে বিদেশ গিয়েছেন, তখনও চুপ থেকেছেন। আপনাকে যখন বিদেশী সাংবাদিকরা এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছে, আপনি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কিন্তু আপনার দেশে জাতীয় নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে আপনি বলেছেন, “রোহিংগ্যা ইস্যুকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করে দেখানো হচ্ছে”। এই বক্তব্যের মাধ্যমে আপনি মিয়ানমারের উগ্র সাম্প্রদায়িক বৌদ্ধদের খুশী করতে চেয়েছেন, তাদের প্রতি আপনার সমর্থন ও শুভেচ্ছা প্রকাশ করেছেন, নির্বাচনে জেতার জন্য তাদের ভোট টানতে চেয়েছেন। সবাই বুঝতে পেরেছে, তারাও আপনার “হেফাজত” করবে, আপনিও তাদের হেফাজত করবেন।

আপনি ভাল করেই জানেন, আপনার দলের মধ্যেই অনেক সিনিয়র নেতা আপনাকে আত্মকেন্দ্রিক মনে করেন। তাঁরা মনে করেন, আপনি আপনার দেশ, দেশের মানুষ ও দলের চেয়ে বেশী নিজেকে নিয়ে ভাবেন, নিজেকে ভালবাসেন। তাঁরা সে কথা আপনাকে সামনাসামনি বলেছেন। তাঁরা মনে করেন, আপনি কর্তৃত্বপরায়ণ (authoritarian), আপনি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন না। আপনি দলের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলার চেয়ে বেশী পছন্দ করেন বিদেশী সাংবাদিক ও বিদেশীদের সাথে কথা বলতে। বিদেশীদের সাথে কথা বলার সময় আপনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজের মতামত ও সিদ্ধান্ত দলের বলে চালিয়ে দেন, যা নিয়ে দলের সাথে, সিনিয়র নেতাদের সাথে আপনার কোন আলোচনাই হয় নি। তখন আপনার কর্তৃত্ববাদ আরও পরিস্কারভাবে ফুটে ওঠে। আপনার দলের একজন সিনিয়র নারী নেত্রীসহ বেশীরভাগ সিনিয়র নেতা এবার আপনাকে সেনাবাহিনীর সাথে সরাসরি বিতর্ক বা বিরোধ এড়াতে সরকারের বাইরে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আপনি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে নির্বাচনের আগেই যোষণা দেন, “দল জিতলে আমিই সরকার প্রধান হব”।

বিশ্বের অগণিত মানুষ বার বার ভুল মানুষের উপর আস্থা রেখে পরে ভীষণ অনুতপ্ত হয়েছে। বিশ্বাসভঙ্গের পরাকাষ্ঠা দেখে নিজেরাই লজ্জিত হয়েছে। সমাজতন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া মিতেরাঁ যখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তখন তাঁকে “সমাজন্ত্রী” মনে কর অনেকে উৎফুল্ল হয়েছিল, উচ্ছ্বসিত হয়েছিল। কিন্তু সেই মিতেরাঁ ইরান-ইরাক যুদ্ধে ঘি ঢালাদের মধ্যে প্রথম সারিতে ছিলেন। আফগানিস্তানে আমেরিকার প্রধান সহযোগী ছিলেন। প্রধান সহযোগী ছিলেন সোমালিয়াকে ব্যার্থ রাষ্ট্র বানানো, ইথিওপিয়াকে ভাঙ্গা থেকে শুরু করে নিকারাগুয়ার বিরুদ্ধে কন্ট্রা বিদ্রোহীদের লেলিয়ে দেয়া পর্যন্ত- সর্বত্র। একইভাবে মানুষ উৎফুল্ল হয়েছিল, উচ্ছ্বসিত হয়েছিল টনি ব্লেয়ার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবার পরও। কিন্তু সেই টনি ব্লেয়ার পরে জর্জ বুশের কূকর্মের প্রধান সহযোগী হিসেবে পৃথিবীর ইতিহাসে নিজেকে নিকৃষ্টতম ব্যাক্তি হিসেবে প্রমাণিত করেছেন। একই ভাবে মানুষ উৎফুল্ল হয়েছিল, উচ্ছ্বসিত হয়েছিল বারাক ওবামাকে নিয়ে। ওবামা তার জবাব দিয়ছেন লিবিয়ায়, দিয়ে চলেছেন ইরাক, সিরিয়া এবং ইয়েমেনে, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা-শিশু-কিশোরের রক্তে হাত ও মাটি দু’টোই রঞ্জিত করে।

পশ্চিমা রাজনীতিবিদ, সরকার ও গণমাধ্যমের দারুণ পছন্দ আপনি। সেখানেই ভয়! আর সে কারণে আমার ধারণা, আপনাকে নিয়েও মানুষের ঐ ধরণের মোহভঙ্গ হবে, স্বপ্নভঙ্গ হবে।

তারপরও আপনাকে অভিনন্দন! আপনার মঙ্গল কামনা করি!

বাংলাদেশনিউজ
১০.১১.২০১৫


Comments are closed.