>> ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন বিমান হামলায় নিহত আরও ৬১

সিরিয়া অভিযান ছয় মাসে শেষ করতে চায় রাশিয়া

শরীফ এ. কাফী

Sharif A Kafi 3রাশিয়া যখন সিরিয়ায় আইএস বিরোধী বিমান হামলা শুরু করে, তখন ন্যাটো ও পশ্চিমা নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা অনুমান করেছিলেন, সিরিয়ার আইএসকে অবদমিত করতে রাশিয়ার কমপক্ষে এক বছর সময় লাগবে। তারা বার বার অমেরিকান কোয়ালিশনের উদাহরণ দিয়ে বলছিলেন, কাজটা এত সহজ হবে না। রাশিয়া প্রথম তিন দিন আটটি, বারোটি এবং আঠারোটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছিল। আর সেটাই ছিল তাদের বিশ্লেষণে হিসেবের মাপকাঠি।

চতুর্থ দিন থেকে রাশিয়া প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ৩০টি অবস্থানে হামলা শুরু করে। দশম দিনের পর থেকে প্রতিদিন গড়ে কমপক্ষে ৫০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে শুরু করে। রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলার ফলে আইএস এর ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও পলায়নের ধরণ দেখে খুবই আশাবাদী হন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী হায়দার আল-এবাদি। তিনি ঘোষণা করে বসেন, রাশিয়া ইরাকে আইএস বিরোধী হামলা চালালে তাঁরা স্বাগত জানাবেন।

ওলটপালট হয়ে যায় পশ্চিমা নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের সকল হিসেব আর অনুমান। পনের দিন পর তারা মন্তব্য করা শুরু করলেন, আমেরিকা এক বছরে যা পারেনি, রশিয়া পনের দিনে তা করে দেখিয়ে দিল। কিন্তু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ন্যাটো মহাসচিব তখন হাস্যকর ভাবে বললেন, রাশিয়া আইএস এর মাত্র “দু’টি” অবস্থান ধ্বংস করতে পেরেছে। আর পশ্চিমা গণমাধ্যম তারস্বরে চীৎকার করে চলল, রাশিয়া আইএস-কে হামলা করছে না, তারা আসাদ বিরোধী “উদারপন্থীদের” হত্যা করছে। আরও অভিযোগ, রাশিয়ার বিমান বেসামরিক আবাসিক এলাকায় বোমা হামলা চালিয়ে “সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে”। আরও বললো, কাস্পিয়ান সাগর থেকে ছোঁড়া ২৬টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ৫টি নাকি ইরানে পড়েছে। ছবি প্রকাশ করে দিল রাশিয়ার জঙ্গী বিমান নাকি আইএস “ভূপাতিত” করেছে। আর এসব প্রপাগাণ্ডা এবিসি, ফক্স, সিএনএন, আলজাজিরা, বিবিসি সব গণমাধ্যমে ঢালাও প্রকাশ করা হল। রাশিয়া শুধু বলল, আমরা সিএনএন গয়রহদের মত এমন কোন খবর জন্ম দেইনা, যার জন্য পরে ক্ষমা চাইতে হয়।

কিন্তু বারাক ওবামা যখন বললেন, “সিরিয়ায় আমরা ব্যর্থ। সিরিয়া সঙ্কট সমাধানে আমরা রাশিয়া এবং ইরানের সহযোগিত চাইব”; তখন শুরুর হ’ল নতুন করে গবেষণা আর হিসেব নিকেষ। অবস্থাটা এরকম যে, মাথার চুল ছিঁড়েও তারা রাশিয়ার ক্ষমতার আন্দাজ ঠাওর করতে পারছেন না।

এর মধ্যে ১৮ অক্টোবর সিরিয়ায় আইএস এর ভূগর্ভস্থ বাংকার ও টানেলগলো বিবেচনায় নিয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা করল প্রতিদিন বিমান হামলার মিশন বা অভিযান ৩০০তে উন্নীত করা হবে। পশ্চিমা নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আবার আঁতকে উঠলেন। এরপর ২০ তারিখ তারা ঘোষণা করল আইএসকে অকার্যকর করতে রাশিয়ার তিন থেকে বড় জোর চার মাস সময় লাগতে পারে।

হতে পারে রাশিয়া এক বছরের পরিকল্পনা নিয়ে সিরিয়ায় বিমান হামলা শুরু করেছিল। সেটা ছিল একটি অনুমান (assumption) কিন্তু নিজেদের অস্ত্রের সক্ষমতা এবং ২০ দিনের অভিজ্ঞতার আলোকে রাশিয়া হয়তো সময়ের লক্ষ্যমাত্রা পর্যালোচনা (review) করে নতুন সময় নির্ধারণের ঘোষণা দিল। তবে অভিজ্ঞ নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, কোন সেনাবাহিনী কখনো সময়ের একটি অনড় (rigid) ফ্রেমের মধ্যে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনা করে না। সময়ের বিচারে যুদ্ধ পরিকল্পনাকারীরা একটি “বাফার স্পেস” সব সময় হাতে রাখেন। রাশিয়ার জেনারেলরাও এই বাফার টাইম স্পেস হাতে রেখেই চার মাসের কথা বলেছেন। ফলে ঘোষিত সময়ের সাথে বাফার স্পেস যোগ করলে সিরিয়ায় তাদের অভিযান পরিচালনার “সময়ের লক্ষ্যমাত্রা” যে ছয় মাস, সেটা বুঝতে কষ্ট হয় না।

বাংলাদেশনিউজ
২১.১০.২০১৫


Comments are closed.