>> দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে >> রংপুর পীরগঞ্জে ট্রাক উল্টে ঈদে ঘরমূখী ১৭ জন নিহত >> চীনের সিচুয়ান প্রদেশে জিনমো গ্রামে ভূমি ধ্বসে ১০০ মানুষ নিঁখোজ >> পাকিস্তানের পারাচিনারে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ >> টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে ৪ জন নিহত

অনলাইনের বুকের দুধে প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়া

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

Onlinebreast milkআজ থেকে দেড়-দুই হাজার বছর আগে মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর ও মধ্য আফ্রিকা এবং মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে “দুধ-মা” প্রথা চালু ছিল। যে সমস্ত শিশুর মা প্রসবকালীন সময়ে মারা যেতেন বা মা বেঁচে থাকলেও শিশু পর্যাপ্ত বুকের দুধ পেত না, সে সব শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতেন সেই সব মা যাদের নবজাতক সন্তানের মৃত্যু হয়েছে কিংবা সন্তান জীবিত থাকলেও বুকে প্রচুর দুধ উৎপন্ন হয়।

তবে দিনে দিনে শিশুদের প্রাণীদুগ্ধ এবং বিংশ শতাব্দীতে এসে প্রক্রিয়াজাত কৌটার দুধ পান করানোর প্রচলন বৃদ্ধির সাথে সাথে দুধ-মা প্রথার চল কমতে থাকে। কিন্তু আধুনিক সমাজে কর্মজীবি নারী সংখ্যা বৃদ্ধি এবং মায়েরদুধের উপকারিতা সম্পর্কে প্রচারণা বৃদ্ধির ফলে শিশুর জন্য বুকের দুধের চাহিদা আবার বৃদ্ধি পেতে থাকে। এ সময় বাণিজ্যিক কায়দায় অনেক দেশে মাতৃদুগ্ধ পান কেন্দ্র খোলা হয়। এসব কেন্দ্রে দুগ্ধদানকারী মায়েরা এসে অর্থের বিনিময়ে শিশুদের বুকের দুধ পান করান। আর মায়েরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের শিশুদের কেন্দ্রে রেখে যান অথবা নিয়ে এসে দুগ্ধ পান করিয়ে নিয়ে যান।

এরপর সময় বাঁচানোর জন্য মাতৃদুগ্ধ বোতলজাত করে বিক্রির ব্যবস্থা শুরু হয় অনেকটা কর্পোরেট ব্যবসার মত। ক্রমে ক্রমে তা অনলাইনে বিক্রিও শুরু হয়। এসব প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মাতৃদুগ্ধ শিশু-স্বাস্থ্য অপেক্ষা বাণিজ্য ও মূনাফা-প্রধান হয়ে পড়ে। আর মূনাফার আকর্ষণে মাতৃদুগ্ধ এখন প্রাণঘাতী রোগের বাহণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কিন্তু অনলাইনে কেনা বুকের দুধে এত ঝুঁকি কে জানত! গবেষণাগারে পরীক্ষায় ধরা পড়েছে, অনলাইনে কেনা বুকের দুধে থিকথিক করছে নানা ধরনের প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়া! এদের কোনটার মারণ ক্ষমতা কোনটার চেয়ে কম নয়।

গবেষকরা ওই দুধের ১২টি নমুনা পরীক্ষা করে দেখেছেন, চারটিতেই মিলেছে ই-কোলির মতো প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়া। দু’টিতে মিলেছে ক্যানডিডা ও চারটিতে হদিস মিলেছে অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি ব্যাকটেরিয়ার। যার নাম- ‘সিউডোমোনাস এরুগিনোসা’। ২০১২ সালে অত্যন্ত বিপজ্জনক এই ব্যাকটেরিয়ায় ভরা দুধ খাওয়ায় উত্তর আয়ারল্যান্ডে চারটি শিশুর মৃত্যু হয়।

যে ওয়েবসাইটের অলাইন দুধে ‘সিউডোমোনাস এরুগিনোসা’ ব্যাকটেরিয়ায় পাওয়া গিয়েছে, সেই ওয়েবসাইটটির মাধ্যমে অনলাইনে বুকের দুধ কেনা-বেচা চলছে অনেক দিন ধরেই।

লন্ডনের কুইন মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক চিকিৎসক সারা স্টিল বলেছেন, ‘‘লোকজন এটা বুঝেছে যে, বুকের দুধই সেরা দুধ। কিন্তু, সেটা অনলাইনে বেচা- কেনা নিয়েই যত বিপত্তি। কারণ, সে ক্ষেত্রে, ওই দুধ কে বেচেছে এবং সেই দুধ কীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে, তা জানার কোনও উপায় নেই। ধারনা করা হচ্ছে বাড়তি লাভের জন্য প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়া অনলাইনের বুকের দুধে ইচ্ছে করেই মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে দুধ বেশি ঘন হয়ে না যায়।’’

বাংলাদেশনিউজ
১৩.১০.২০১৫


Comments are closed.