>> দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে >> রংপুর পীরগঞ্জে ট্রাক উল্টে ঈদে ঘরমূখী ১৭ জন নিহত >> চীনের সিচুয়ান প্রদেশে জিনমো গ্রামে ভূমি ধ্বসে ১০০ মানুষ নিঁখোজ >> পাকিস্তানের পারাচিনারে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ >> টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে ৪ জন নিহত

চীন যে কারণে সিরিয়ায়

শরীফ এ. কাফী

Sharif A Kafi 3প্রকৃত প্রস্তাবে বর্তমান সময়ে সিরিয়া, ইরাক ও কুর্দি সেনারা ছাড়া কেউই আইএস বিরোধী যুদ্ধ করছে না। সিরিয়া, ইরাক ও কুর্দিদের প্রকৃত অর্থে সহযোগিতা করছে রাশিয়া ও ইরান।

আমেরিকা ও তার মিত্ররা আইএস বিরোধী যুদ্ধের নামে গত এক বছর ধরে আইএসকেই গোপনে অস্ত ও গোলা-বারূদ সরবরাহ করে আসছে। অনেকবার তার সচিত্র খবর প্রকাশিত হয়েছে। শুধু তাই নয়, আইএসকে অস্ত্রসরবরাহের সময় একটি ব্রিটিশ সামরিক পরিবহণ বিমানকে আটক করেছিল ইরাক। আর একটিকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। আমেরিকা ও তার মিত্ররা আইএস এর উপর হামলার নামে সিরিয়ার তেল শোধনাগার, পাইপলাইন ও তেল ক্ষেত্রে হামলা চালাচ্ছে, যাতে করে সিরিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল করে দেয়া যায়। তুরস্ক আইএস এর উপর হামলার নামে কুর্দিদের উপর ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে। অথচ কুর্দিরাই আইএস বিরোধী যুদ্ধের অন্যতম প্রধান শক্তি। তাহলে কুর্দিদের দুর্বল করে কাকে সবল করা হচ্ছে? আসলে আমেরিকা তার মিত্রদের প্রধান লক্ষ্য আইএস বিরোধী যুদ্ধ নয়। তারা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়।

প্রেসিডেন্ট আসাদকে কেন ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়? তারা মধ্যপ্রাচ্যের সকল তেল সম্পদের নিরঙ্কুশ কতৃত্ব নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। আসাদ সরকারের পতন ঘটাতে পারলেই তারা ইরাকের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করবে এবং একটি পাপেট সরকারকে সেখানে ক্ষমতায় বসাবে। তারপর ইরাক ও সিরিয়াকে ভেঙ্গে কমপক্ষে পাঁচটিঁ রাষ্ট্রে বিভক্ত করবে এবং ঐ অঞ্চলে মাথা তুলে দাঁড়ানোর মত কোন রাষ্ট্রের অস্তিত্ব রাখবে না। ফলে লিবিয়া থেকে ইরাক পর্যন্ত সকল তেল ক্ষেত্র সম্পূর্ণ তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। (তারপর হয়তো চেষ্টা করবে কোনভাবে ইরানকে কাবু করে তার তেল ক্ষেত্র দখল করা যায় কি না)।

কিন্তু গত চার বছরে প্রেসিডেন্ট আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে না পেরে, এখন ব্রিটেন, ফ্রান্স, অষ্ট্রেলিয়া সবাই আসছে আইএস বিরোধী যুদ্ধের নামে সিরিয়ার অবকাঠামো ধ্বংস করতে। এমন কি তারা হেলফায়ার ও বাংকার ব্লাষ্টার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট আসাদকে হত্যা করে, পরে ক্ষমা চেয়ে বা দুঃখ প্রকাশ করে বলতে পারে ভুল হয়ে গেছে। আমেরিকা, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের পক্ষে সব কিছু সম্ভব। তাদের নেতাদের মত নীচ পৃথিবীতে আর কোথাও নেই।

এটা অনুধাবন করেই রাশিয়া আসাদ সরকারকে অস্ত্র সরবরাহ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সিরিয়ায় আগে থেকেই স্থাপিত নৌঘাটিকে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলছে এবং নিজেই সরাসরি আইএস বিরোধী যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে। কিন্তু রাশিয়া একা আসায় আমেরিকা হম্বি-তম্বি চালিয়ে যাচ্ছিল। এটা বুঝতে পেরে চীন এগিয়ে এসেছে, যাতে করে আমেরিকার বড়গলার চড়া সুরটা নরম হয়ে আসে। পাশাপাশি বুঝিয়ে দেয়া যে, সিরিয়াও একা নয়, রাশিয়াও একা নয়। আর আমেরিকা আগের মত ইচ্ছা করলেই যা খুশী তা করতে পারে না।

কিন্তু চীনের স্বার্থ কী? মধ্যপ্রাচ্যের তেলের নিয়ন্ত্রণ আমেরিকা ও ন্যাটো শক্তির হাতে চলে গেলে চীনের সমস্যা সব চেয়ে বেশী। কারণ, তেল নির্ভর চীন তার প্রয়োজনীয় জ্বালানীর ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ আমদানী করে থাকে এবং তার সিংহভাগ মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের নিয়ন্ত্রণ নিরঙ্কুশভাবে হাতে পেলে চীনে তেল সরবরাহ বন্ধ করে কিংবা আংশিক কমিয়ে দিয়ে মহাবিপদে ফেলে দিতে পারে আমেরিকা। এখন যেমন অবরোধ আরোপ করে এবং সৌদি আরবের সাথে ষড়যন্ত্র করে তেলের দাম ১১০ ডলার থেকে ৪৫ ডলারে নামিয়ে এনে রাশিয়াকে শায়েস্তা করার চেষ্টা করছে, তেমনি তখন তেল বন্ধ করে, কমিয়ে দিয়ে বা মূল্য অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দিয়ে চীনকে শায়েস্তা করার চেষ্টা করবে। কোন অবস্থাতে চীন এ ধরণের জিও-ইকোনমিক বা জিও-পলিটিক্যাল পরিবর্তন মেনে নিতে পারে না।

চীনের এরূপ সন্দেহের নানাবিধ যুক্তিসঙ্গত কারণও আছে। আমেরিকার সর্বশেষ মিলিটারী ডক্টরীণে প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে চীনকে। সেই সাথে চীনের পূর্ব, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্ত জুড়ে প্রশান্ত মহাসাগর, জাপান সাগর, পীত সাগর এবং চীন সাগরে একের পর এক সামরিক মহড়া অব্যাহত রেখেছে।

কখনও দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে, কখনও জাপানের সাথে আবার কখনও ভিয়েতনামের সাথে। এদিকে চীনের আকাশ সীমা যেতে আমেরিকার দূরপাল্লার কৌশলগত বোমারু বিমানের টহল কয়েকগুণ বেড়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ন্যাটোর অবৈধ কর্মকাণ্ডে চীনের উদ্বিগ্ন হওয়াটা খুবই যুক্তিসঙ্গত।

উল্লেখ্য, আমেরিকা কিন্তু পয়সা দিয়ে তেল কেনে খুব কম। আর যদি পয়সা দিয়ে কেনেও, তাহলে তার মূল্যের ৭০-৮০ শতাংশ মার্কিন ব্যাংকে জমা রাখে এবং পরে কোন একটি ছুতো ধরে “অবরোধ” আরোপের নামে সে অর্থ পুরোটাই আটকে দেয়। এসব ব্রিটেন ও ফ্রান্সও করে থাকে, সাথে জার্মানী, নেদারল্যান্ড ও আছে।

ইরান বিপ্লবের আগে ইরানের, সাদ্দাম হোসেনের আমলে ইরাকের এবং গাদ্দফির আমলে লিবিয়ার তেল বিক্রি বাবদ (বর্তমান বিনিময় মূল্যে) যে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার তাদের ব্যাংকে গচ্ছিত ছিল তার একটি পয়সাও তারা ফেরত দেয়নি। কোন দিন দেবে বলে মনে হয় না। কোনদিন আংশিক দিলেও সেটা আগের বিনিময় মূল্যে দেবে। বর্তমানে সৌদি আরব থেকে সেভাবেই তেল নিচ্ছে। মাঝে মাঝে বাজার মূল্যের চেয়ে আড়াই গুণ বা তিন গুণ মূল্যে অস্ত্র বিক্রি করে সৌতি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। বর্তমানে পশ্চিমা তেল কোম্পানীর মাধ্যমে ইরাক ও লিবিয়া থেকে যে তেল আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানী, নেদারল্যাণ্ডসহ ক্ষমতাধর ন্যাটো দেশ ও ইসরাইলে যাচ্ছে তা এক ধরণের লুণ্ঠনই বলা চলে।

বাংলাদেশনিউজ


Comments are closed.