>> দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে >> রংপুর পীরগঞ্জে ট্রাক উল্টে ঈদে ঘরমূখী ১৭ জন নিহত >> চীনের সিচুয়ান প্রদেশে জিনমো গ্রামে ভূমি ধ্বসে ১০০ মানুষ নিঁখোজ >> পাকিস্তানের পারাচিনারে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ >> টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে ৪ জন নিহত

লাভের ধন যে পিঁপড়েয় খেয়ে যাবে!

শরীফ এ. কাফী

Sharif A Kafi 43মঙ্গলবার একদল বখাটে সন্ত্রাসী ৭ম শ্রেনীতে পড়ুয়া এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে রাস্তা থেকে ধরে এক সুপারী বাগানে নিয়ে, গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতন করেছে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্লেড দিয়ে কেটে দিয়েছে। একই বখাটে সন্ত্রাসী গ্রুপ গত ২৭ আগষ্ট আর এক মাদ্রাসা ছত্রিীকে ধরে বাগানে নিয়ে একই ভাবে নির্যাতন করে ব্লেড দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কেটে দিয়েছিল। সে ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং মঙ্গলবার নির্যাতিত ছাত্রী সেই মামলার প্রধান স্বাক্ষী।

এ ঘটনায় আরও একবার প্রমাণ হ’ল এ দেশে স্বাক্ষীদের কোন নিরাপত্তা নেই, স্বাক্ষীদের নিরাপত্তা দেয়ারও কোন ব্যবস্থা নেই। কিন্তু প্রশ্ন হ’ল আগের ঘটনার পর এক মাসও হয়নি, এরই মধ্যে দ্বিতীয় ঘটনা। তাহলে কী আগের ঘটনার পর তারা গ্রেফতার হয়নি? যদি হয়ে থাকে, তাহলে এক মাস পার হওয়ার আগেই তারা বাইরে কেন? আমাদের আইন ও বিচার বিভাগের উপর অগাধ আস্থা প্রকাশ না করলে আবার আদালতে তলব করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, তাহলে কী আইনের কোথাও কোন ছেঁদা আছে?

আমাদের দেশে বখাটে নিয়ন্তণে অনেক এলাকায় নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেটের ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়েও শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সেটা করলে ক্ষতি কী ছিল? ছাত্রী নির্যাতনের ঘটনায় সাধারণ আদালতে তো আর ফাঁসি বা যাবজ্জীবন হবে না! ছয় মাস, এক বছর বা বড় জোর দুই বছর কারাদণ্ডই হবে! তাহলে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়েই তো দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া যেত। তা কেন করা হয়নি তা বোধগম্য নয়।

ধারণা হওয়াটা স্বাভাবিক, এসব বখাটে সন্ত্রাসীরা স্থানীয় প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশয়ে থাকে। আর সে কারণে পুলিশ-প্রশাসন সহজে নড়াচড়া করতে চায় না। এসব প্রভাবশালী তারাই যারা উপজেলা চেয়ারম্যান, এমপি, মন্ত্রী হয়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘চরিত্র গঠন’ সংক্রান্ত নীতিবাক্য উপদেশ দিয়ে থাকেন।

বর্তমান সরকারের অর্জন অনেক, কোন সন্দেহ নেই, কিন্তু সে অর্জন নস্যাতের ঘনঘটা চারদিক থেকে অন্ধকার হয়ে সমাজ মানসকে ক্রমেই চেপে ধরছে। সরকারের পক্ষ থেকে বখাটেপনা ও সামাজিক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আদৌ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না, এমনটা নয়। কিন্তু সেটা আরও দ্রুত, কার্যকর ও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন। এসব বিষয়ে এ্যাকশনের ক্ষেত্রে যেমন দলীয় বিবেচনা পরিহার করা উচিৎ, তেমনি সেটা দু’একটা ‘উদাহরণমূলক” না হয়ে সার্বজনীন হওয়া উচিৎ। সব চেয়ে বড় কথা সব জেলায়, সব উপজেলায় সমানভাবে কার্যকর ও দৃশ্যমান হওয়া উচিৎ!

কিন্তু লাভের ধন যে পিঁপড়েয় খেয়ে যাবে সেটা প্রধানমন্ত্রী বোঝেন। আর বোঝেন বলেই সকল প্রকার ভয়-ভীতি, চাপ ও প্রভাবের উর্ধে উঠে কাজ করতে পুলিশ ও প্রশাসনকে উপদেশ-নির্দেশ দিয়ে থাকেন। দল থেকেও আগাছা উপড়ে ফেলার কথা বলেন। কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে? দলীয় ও দল বহির্ভূত কথিত স্থানীয় প্রভাবশালী ও পুলিশ-প্রশাসনের পরস্পর খাতিরদারিতে তাঁর উপদেশ-নির্দেশও আজকাল বেশীরভাগ ক্ষেত্রে সেই ‘নীতি কথা’য় পর্যবসিত হচ্ছে।

বাংলাদেশনিউজ
২৩.০৯.২০১৫


Comments are closed.