>> দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে >> রংপুর পীরগঞ্জে ট্রাক উল্টে ঈদে ঘরমূখী ১৭ জন নিহত >> চীনের সিচুয়ান প্রদেশে জিনমো গ্রামে ভূমি ধ্বসে ১০০ মানুষ নিঁখোজ >> পাকিস্তানের পারাচিনারে সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৭ >> টাঙ্গাইলে বাস-ট্রাকের মুখোমুখী সংঘর্ষে ৪ জন নিহত

জ্বালানী তেলের দাম না কমিয়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি কার স্বার্থে?

প্রতাপ কামাল

Oil and electric powerসরকারের আয় বৃদ্ধির নামে জনগণের পকেট কেটে অন্যের পকেট মোটা করার মত ঘটনা ঘটছে বাংলাদেশে। ধারণা দেয়া হচ্ছে ডিজেল-পেট্রোলের দাম না কমানোতে সরকারের দু’পয়সা আয় হচ্ছে। হয়তো বাজেটে রাজস্ব খাতে যে আয় ধরা হয়েছে জ্বালানী তেলের দাম কমালে সে পরিমাণ রাজস্ব আয় হবে না, এমনটা ধারণা করা হচ্ছে। আর সেটা মাথায় রেখে জ্বালানী তেলের দাম কমানো হচ্ছে না। আরও কিছু যুক্তি আছে, তা হ’ল জ্বালানী তেল বেশী ব্যবহার করে গাড়ীর মালিকরা, প্রাইভেট ও বাণিজ্যিক উভয় প্রকার। তেলের দাম কমালে বাণিজ্যিক গাড়ির মালিকরা ভাড়া কমাবে না, সাধারণ মানুষের কোন লাভ হবে না। অপরদিকে যুক্তিটা এই রকম যে, প্রাইভেট গাড়ির তেলের দাম কমা-বাড়ার সাথে সাধারণ মানুষের ক্ষতি-বৃদ্ধির কোন সম্পর্ক নেই।

আমরা যদি লক্ষ্য করি তাহলে দেখব, প্রায় দুই-আড়াই বছর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানী তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারের দু’এক ডলার কমবেশীতে বিক্রি হবার পর ২০১৪ সালের জুন মাস থেকে দাম পড়তে শুরু করে। ২০১৪ সালের নভেম্বরের শুরুতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানী তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭৫ ডলারের নিচে নেমে আসে। ২০১৫ সালের জানুয়ারীর শুরুতে তা ৫৩-৫৪ ডলারে নেমে আসে। এ বছরের প্রথম সাড়ে সাত মাসে ব্যারেল প্রতি তেলের দাম ৪৬ থেকে ৬২ ডলারে ওঠা-নামা করেছে, তবে গড় দাম ৫৫ ডলারের নিচে ছিল। যেমন বর্তমানে ৫০ ডলারেরও নিচে (৪৭ ডলার)।

# ২০১৫ সালে প্রথম ৭ মাসে আন্তর্জাতিক বাজরে জ্বালানী তেলের মূল্য সূচক

# ২০১৫ সালে প্রথম ৭ মাসে আন্তর্জাতিক বাজরে জ্বালানী তেলের মূল্য সূচক

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানী তেলের দাম এভাবে পড়ে যাওয়াতে, চীন ও আমেরিকাসহ পৃথিবীর প্রায় সকল দেশই তাদের অভ্যন্তরীণ বাজরে জ্বালানী তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সাথে সমন্বয় করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ তা করেনি। বংলাদেশে এখনও অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানী তেলের দাম সেটাই আছে, যেটা নির্ধারণ করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক বাজারে যখন ১১০ ডলার ছিল।

দেশের জ্বালানী খাতের বিশাল অংশ হচ্ছে বিদ্যুৎ। দেশের কোটি কোটি সাধারণ মানুষ এবং শিল্পকারখানা বিদ্যুতের ভোক্ত। আর সে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস ও তেল দুই জ্বালানীই ব্যবহার করা হয়। তবে এখনও তেলের ব্যবহার বেশী। আন্তর্জাতিক বাজোরে জ্বলানী তেলের কম দামের সাথে অভ্যন্তরীণ দাম সমন্বয় না করে বিদ্যুতের কোটি কোটি সাধারণ ভোক্তাদের উপর কৃত্রিম পন্থায় উচ্চ মূল্য চাপিয়ে রাখা হয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব কতটা বেড়েছে তা বিশ্লেষণ সাপেক্ষ, কিন্তু প্রতি বছর ভোক্তার পকেটের হাজার হাজার কোটি টাকা কুইক রেন্টালের মালিকসহ নানা ধরণের লুটেরাদের পকেটে ঢালা হচ্ছে।

# আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানী তেলের মূল্য সূচক ২০১১ থেকে ২০১৫

# আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানী তেলের মূল্য সূচক ২০১১ থেকে ২০১৫

এখন আবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। আর সেটা করতে গিয়ে এক ধরনের ছলচাতুরী ও নীচুতার আশ্রয় নেয়া হচ্ছে। বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির যে প্রস্তাবনা সরকার বা সরকারের উচ্চ মহলে পাঠানো হচ্ছে সেখানে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমরা কত মূল্যে জ্বালানী তেল ক্রয় করছি তা না দেখিয়ে, অভ্যন্তরীণ বাজারে কৃত্রিমভাবে নির্ধারিত দামকে ভিত্তি ধরে উৎপাদন খরচ বেশী দেখনো হচ্ছে। আর সেই যুক্তিতে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হতে যাচ্ছে। প্রশ্ন হ’ল কার স্বার্থে?

bdn24x7.com, বাংলাদেশনিউজ, এসএস, জের, ২৪.০৮.২০১৫


Comments are closed.