>> আইন সচিব জহিরুল হকের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ তিন মাস স্থগিত : হাইকোর্ট >> না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাক >> উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে রেল ঢাকার যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে >> কোথাও কোথাও মাঝারি ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে >> সিঙ্গাপুরে মার্কিন ডেষ্ট্রয়ার ও তেলবাহী জাহাজের সংঘর্ষ ১০ নাবিক নিখোঁজ >> রাশিয়ার বিমান হামলায় ২০০ দায়েশ সন্ত্রাসী নিহত

নীচুতারও সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে ইউরোপ

সম্পাদকীয়ডেস্ক, বাংলাদেশনিউজ

EU 245সম্প্রতি ইইউ জোটভূক্ত দেশগুলো রাশিয়ার উপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ছয় মাসের জন্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি ইউকোস তেল কোম্পানীর শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষার নামে রাশিয়ার সকল প্রকার সরকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। এখানে সরকারী প্রতিষ্ঠান বলতে ইউরোপীয়রা রাশিয়ার সরকারী মালিকানাধীন ব্যাংক, বীমা, তেল ও গ্যাস কোম্পানীসহ বিমান সংস্থা, কর্পোরেশন, স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা, এমন কি দূতাবাস ও কন্সুলেটকেও বিবেচনায় নিয়েছে। ফলে দূতাবাস ও কতন্সুলেটের ব্যাংক হিসাবও ফ্রিজ করেছে। আর এখানেই তারা জেনেভা কনভেনশনসহ সকল প্রকার আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করে নীচুতারও সর্বনিম্ন স্তরে নেমেছে।

প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন এবং তার আগে-পরে দুটি ঘটনা কখনো ঘটেনি। প্রথমতঃ, কোন রাষ্ট্রদূত বা দূত পর্যায়ের কোন কর্মকর্তাকে কখনো গ্রেফতার করা হয়নি, সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট দূতকে বহিস্কার করা হয়েছে। যা এখনও মাঝে মাঝে দেখা যায়। যে কারনে সম্প্রতি আমেরিকা ভারতের দেবযানী খোবড়াগাড়েকে গ্রেফতার করে পরে দুঃখ প্রকাশ করতে এবং তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছিল। দ্বিতীয়তঃ, কখনো কোন দেশের দূতাবাসের হিসাব জব্দ করেনি বা আর্থিক লেনদেনে হস্তক্ষেপ করে নি। এই দুটি নীতি জেনেভা কনভেনশনেও সমূন্নত রাখা হয়েছে। তারপরও, বলতে গেলে আমেরিকার প্ররোচনায়, ইউরোপের সকল দেশে রাশিয়ার দূতাবাস ও কতন্সুলেটের ব্যাংক হিসাবও ফ্রিজ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে রাশিয়ায় সেন্ট পিটার্সবুর্গ আন্তর্জাতিক ইকনোমিক ফোরাম চলাকালে প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউরোপের এ পদক্ষেপকে “ব্লাকোমইলিং” এর সাথে তুলনা করেছেন এবং পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। সে সময় তিনি আন্তর্জাতিক আইনের এই সুস্পষ্ট ও লজ্জাজনক লংঘনটিও উল্লেখ করেছেন। তাছাড়া, কৃষি পণ্যের ব্যাপারে রাশিয়া ইউরোপের উপর আরো কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে।

অবশ্য প্রেসিডেন্ট পুতিনের সতর্ক বার্তার পর, বেলজিয়াম রাশিয়ার দূতাবাস ও কতন্সুলেটের ব্যাংক হিসাবগুলো অবমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে, যদিও ইইউর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অন্যান্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের হিসাব জব্দই থাকবে বলে দেশটি জানিয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনের বিধান সম্পর্কে অবগত থেকেই বেলজিয়াম এবং ইউরোপীয় দেশগুলো দূতাবাস ও কতন্সুলেটের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করে চরম নীচুতার পরিচয় দিয়েছে। ন্যাটো সদস্যদের এরূপ বল্গাহীন সীমালংঘনই হয়তো বিশ্বকে এবটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।

বাংলাদেশনিউজ
২৩.০৬.২০১৫


Comments are closed.